বাজেট অধিবেশন শুরু রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর ভাষণে, সর্বদলীয় বৈঠকে সরকার–বিরোধী মতভেদ

২০২৬ সালের সংসদের বাজেট অধিবেশন বুধবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর ভাষণের মাধ্যমে শুরু হয়েছে। সর্বদলীয় বৈঠকে বিরোধী দলগুলি একাধিক ইস্যুতে আলোচনার দাবি তুললেও কেন্দ্র সরকার তা গ্রহণ করেনি।

ভারতের সংসদের বাজেট অধিবেশন ২০২৬ বুধবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। অধিবেশনের সূচনা হয় সংসদের সেন্ট্রাল হলে লোকসভা ও রাজ্যসভার যৌথ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর ভাষণের মাধ্যমে।

১ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করা হবে। বাজেট অধিবেশন শুরুর আগে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত সর্বদলীয় বৈঠকে সরকার ও বিরোধী দলগুলির মধ্যে একাধিক ইস্যুতে মতবিরোধ প্রকাশ পায়।

সর্বদলীয় বৈঠকে বিরোধী দলগুলি ‘বিকশিত ভারত–জি রাম জি অধিনিয়ম’ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (এসআইআর) বিষয়ে অধিবেশন চলাকালীন আলোচনা করার দাবি তোলে। কেন্দ্র সরকার এই দাবিগুলি গ্রহণ করতে অস্বীকার করে।

সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু বলেন, কোনও আইন একবার কার্যকর হয়ে গেলে তা প্রত্যাহার করা বা “রিভার্স গিয়ার”-এ যাওয়ার প্রশ্ন ওঠে না। তিনি আরও জানান, বিরোধীদের উত্থাপিত অধিকাংশ বিষয় রাষ্ট্রপতির ভাষণ ও বাজেটের ওপর আলোচনার সময় উত্থাপন করা যেতে পারে।

বৈঠকে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ এবং সিপিআই(এম) সাংসদ জন ব্রিটাসসহ একাধিক বিরোধী নেতা অধিবেশন শুরুর আগে সরকারি আইন প্রণয়নের এজেন্ডা প্রকাশ না করার বিষয়ে আপত্তি জানান। এর জবাবে রিজিজু বলেন, এটি বছরের প্রথম অধিবেশন এবং প্রথা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ভাষণের পরই সরকারি কাজকর্মের তালিকা প্রকাশ করা হয়। তিনি জানান, উপযুক্ত সময়ে এজেন্ডা প্রকাশ করা হবে এবং সংসদের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হবে।

বৈঠকের পর কংগ্রেস জানায়, বাজেট অধিবেশনে তারা একাধিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যু উত্থাপন করবে। এর মধ্যে ভারতের পররাষ্ট্র নীতি, মার্কিন শুল্ক, ভারতীয় রুপির অবমূল্যায়ন, মনরেগা এবং কৃষকদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কংগ্রেসের অভিযোগ, সরকার প্রায়ই শেষ মুহূর্তে পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই বিল পেশ করে, ফলে বিরোধীদের পর্যাপ্ত আলোচনার সুযোগ মেলে না।

সিপিআই(এম) সাংসদ জন ব্রিটাস সরকারের কার্যপ্রণালি নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, সরকার ‘সাসপেন্স ও সারপ্রাইজ’-এর কৌশল অনুসরণ করে। তাঁর দাবি, সর্বদলীয় বৈঠকে বিরোধী সাংসদদের ফাঁকা নথি সরবরাহ করা হয়েছিল।

সূত্র অনুযায়ী, একাধিক আঞ্চলিক দলও বৈঠকে নিজ নিজ রাজ্যের সংশ্লিষ্ট বিষয় উত্থাপন করে। বিজু জনতা দল ওড়িশার কৃষকদের সমস্যা এবং ফসল বিমার অর্থ প্রদানে বিলম্বের বিষয়টি তোলে। তৃণমূল কংগ্রেস রাজনৈতিক কৌশল সংস্থা আই-প্যাক-এ তল্লাশির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির অপব্যবহারের অভিযোগ করে।

 

Leave a comment