আবাস যোজনায় বাড়ি পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলির জন্য বড় আপডেট। পশ্চিমবঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা-গ্রামীণের আওতায় করা প্রাথমিক সমীক্ষায় ইতিমধ্যেই ৫৪.৫৭ লক্ষ পরিবারের নাম উঠে এসেছে। কিন্তু এই সংখ্যাকে চূড়ান্ত উপভোক্তার তালিকা হিসেবে দেখা যাবে না। এবার শুরু হবে দ্বিতীয় পর্যায়ের যাচাই। সেই ধাপ পেরনোর পরই জানা যাবে কারা সত্যিই আবাস যোজনার সুবিধা পাবেন।
প্রাথমিক সমীক্ষায় ৫৪.৫৭ লক্ষ পরিবারের নাম
রাজ্যজুড়ে আবাস যোজনার প্রয়োজনীয়তা যাচাই করতে যে প্রাথমিক সমীক্ষা চালানো হয়েছিল, সেখানে ৫৪ লক্ষ ৫৭ হাজার পরিবারের নাম নথিভুক্ত হয়েছে।অর্থাৎ, এই পরিবারগুলি হয় আবাসনের প্রয়োজনের কথা জানিয়েছে অথবা প্রাথমিক পর্যায়ে প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার দাবিদার হিসেবে সমীক্ষায় উঠে এসেছে। তবে এখানেই প্রক্রিয়া শেষ হচ্ছে না।
তালিকায় নাম থাকলেই কি বাড়ি মিলবে?
এটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। ৫৪.৫৭ লক্ষ পরিবারের নাম উঠেছে মানেই তাঁরা প্রত্যেকে বাড়ি পাবেন—এমন নয়।প্রাথমিক সমীক্ষার পর এবার প্রত্যেক দাবিদার পরিবারের তথ্য আরও একবার যাচাই করা হবে। যোগ্যতার শর্ত পূরণ করছে কি না, পরিবারের বর্তমান বাড়ির পরিস্থিতি কী এবং জমা দেওয়া তথ্য-নথির সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির মিল রয়েছে কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হবে।
কোন জেলায় সবচেয়ে বেশি পরিবারের নাম?
জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে সবচেয়ে বেশি পরিবারের নাম উঠেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনায়—প্রায় ৪.৮১ লক্ষ।
এর পর রয়েছে—
মুর্শিদাবাদ — ৪.৪২ লক্ষ
পশ্চিম মেদিনীপুর — ৩.৮৬ লক্ষ
উত্তর ২৪ পরগনা — ৩.৮৪ লক্ষ
পূর্ব মেদিনীপুর — ৩.৩১ লক্ষ
কোচবিহার — ৩.২৮ লক্ষ
মালদহ — ৩.১৫ লক্ষ
পূর্ব বর্ধমান — ৩.০৯ লক্ষ
বাঁকুড়া — ২.৯৫ লক্ষ
উত্তর দিনাজপুর — ২.৮২ লক্ষ
পুরুলিয়া — ২.৭৩ লক্ষ
হুগলি — ২.৭২ লক্ষ
নদিয়া — ২.৫৫ লক্ষ
আরও যেসব জেলায় সমীক্ষা হয়েছে
প্রাথমিক সমীক্ষায় বীরভূমে ২.৫৪ লক্ষ, জলপাইগুড়িতে ১.৮৪ লক্ষ এবং হাওড়ায় ১.৬৯ লক্ষ পরিবারের নাম উঠেছে।এছাড়া দক্ষিণ দিনাজপুরে ১.৬০ লক্ষ, আলিপুরদুয়ারে ১.১৫ লক্ষ এবং ঝাড়গ্রামে প্রায় ৯০ হাজার পরিবারের নাম সমীক্ষায় নথিভুক্ত হয়েছে।
৩২ লক্ষ থেকে বেড়ে ৫৪ লক্ষের বেশি
প্রাথমিকভাবে রাজ্যে প্রায় ৩২ লক্ষ পরিবারের আবাসনের প্রয়োজন হতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছিল। কিন্তু সমীক্ষা এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে সেই সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে।২৫ অগাস্ট নাগাদ প্রায় ৪০ লক্ষ পরিবারের নাম উঠে এসেছিল বলে জানা যায়। এরপর ৩১ অগাস্ট সমীক্ষা বা আবেদনের সময়সীমা শেষ হওয়ার সময় সংখ্যাটি ৫৩ লক্ষের গণ্ডি পেরিয়ে যায়। পরে মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৪.৫৭ লক্ষে।প্রকৃত যোগ্য পরিবার যাতে বাদ না পড়ে, সেই কারণে সমীক্ষার সময়সীমাও বাড়ানো হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এবার দ্বিতীয় দফার যাচাই, তারপর চূড়ান্ত তালিকা
এখন প্রশাসনের নজর দ্বিতীয় পর্যায়ের যাচাইয়ের দিকে। এই ধাপে পরিবারের বর্তমান বাড়ির অবস্থা, আবাস যোজনার নির্ধারিত যোগ্যতার শর্ত এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র মিলিয়ে দেখা হবে।যাচাইয়ে কোনও পরিবারকে অযোগ্য বলে চিহ্নিত করা হলে তাদের নাম বাদ যেতে পারে। এরপর যোগ্য পরিবারগুলিকে নিয়ে তৈরি হবে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা-গ্রামীণের চূড়ান্ত উপভোক্তা তালিকা।
বাড়ি পাওয়ার আগে এই বিষয়টি মনে রাখা জরুরি
প্রাথমিক সমীক্ষায় নাম ওঠার পর অনেকেই ধরে নিতে পারেন যে এবার নিশ্চিতভাবে বাড়ি পাওয়া যাবে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তা বলা যাচ্ছে না। কারণ চূড়ান্ত তালিকা তৈরির আগে এখনও দ্বিতীয় দফার যাচাই বাকি।তাই সমীক্ষায় নাম রয়েছে বলে কোনও পরিবারকে চূড়ান্ত সুবিধাভোগী ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। প্রশাসনের পরবর্তী যাচাই ও চূড়ান্ত তালিকার দিকেই এখন নজর।
পশ্চিমবঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা-গ্রামীণ প্রকল্পের প্রাথমিক সমীক্ষায় প্রায় ৫৪ লক্ষ ৫৭ হাজার পরিবারের নাম উঠে এসেছে। তবে এই তালিকায় নাম থাকা মানেই বাড়ি পাওয়ার নিশ্চয়তা নয়। চূড়ান্ত উপভোক্তা তালিকা তৈরির আগে আরও এক দফা যাচাই হবে। পরিবারের বাড়ির বর্তমান অবস্থা, প্রকল্পের যোগ্যতার শর্ত এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র খতিয়ে দেখার পরই প্রকৃত যোগ্যদের নাম চূড়ান্ত করা হবে।











