সাদা মাখনের বদলে পিনাট বাটার? ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণ, ওজন কমানো ও হার্টের যত্নে কতটা উপকারী জানুন

সাধারণ মাখনের তুলনায় পিনাট বাটার কি সত্যিই বেশি স্বাস্থ্যকর? ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণ, ওজন কমানো, হৃদ্‌স্বাস্থ্য, পুষ্টিগুণ এবং সঠিকভাবে খাওয়ার নিয়ম জেনে নিন।

ব্রেড বা টোস্টের সঙ্গে মাখন খাওয়া অনেকেরই পছন্দ। কিন্তু স্বাস্থ্যসচেতনদের মধ্যে এখন সাদা মাখনের পরিবর্তে পিনাট বাটারের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। কারণ এতে রয়েছে বেশি প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট এবং নানা ধরনের ভিটামিন ও খনিজ। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক পরিমাণে পিনাট বাটার খেলে ডায়াবেটিস, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং হৃদ্‌স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে কিছু উপকার মিলতে পারে।

কেন সাদা মাখনের বদলে পিনাট বাটার?

পুষ্টিগুণের দিক থেকে পিনাট বাটার ও সাধারণ মাখনের মধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।১০০ গ্রাম সাধারণ মাখনে প্রায় ৭১৭ ক্যালোরি থাকে।একই পরিমাণ পিনাট বাটারে থাকে প্রায় ৫৬৭ ক্যালোরি।পিনাট বাটারে প্রোটিনের পরিমাণ অনেক বেশি—প্রতি ১০০ গ্রামে প্রায় ২৫ গ্রাম, যেখানে সাধারণ মাখনে থাকে প্রায় ১ গ্রাম।এছাড়া এতে স্বাস্থ্যকর অসম্পৃক্ত ফ্যাট, ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স, ভিটামিন ই, ম্যাগনেসিয়াম ও কপারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানও রয়েছে।

ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে কতটা সাহায্য করতে পারে?

কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, পরিমিত পরিমাণে পিনাট বাটার খেলে খাবারের পরে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়ার প্রবণতা কিছুটা কমতে পারে। এর কারণ এতে থাকা প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট এবং ফাইবার, যা কার্বোহাইড্রেটের শোষণকে ধীর করতে সাহায্য করে।তবে মনে রাখতে হবে, পিনাট বাটার ডায়াবেটিসের চিকিৎসার বিকল্প নয়। যাঁদের ডায়াবেটিস রয়েছে, তাঁদের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যতালিকা মেনে চলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ওজন নিয়ন্ত্রণে কীভাবে সাহায্য করে?

পিনাট বাটার দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করতে পারে। ফলে বারবার খিদে পাওয়ার প্রবণতা কমে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার সম্ভাবনাও হ্রাস পায়। এই কারণেই ওজন নিয়ন্ত্রণের ডায়েটে অনেক সময় সীমিত পরিমাণে পিনাট বাটার রাখা হয়।তবে এটি ক্যালোরি-সমৃদ্ধ খাবার হওয়ায় অতিরিক্ত খেলে উল্টো ওজন বাড়তেও পারে।

হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী

পুষ্টিবিদদের মতে, পিনাট বাটারে থাকা স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ভিটামিন ই এবং ম্যাগনেসিয়াম হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। নিয়মিত সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে এটি খেলে হার্টের স্বাস্থ্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

পিনাট বাটার কেনার সময় কী দেখবেন?

সব ধরনের পিনাট বাটার সমান স্বাস্থ্যকর নয়। কেনার সময় খেয়াল রাখুন—

১০০% চিনাবাদাম দিয়ে তৈরি কি না।

অতিরিক্ত চিনি, লবণ বা হাইড্রোজেনেটেড তেল (ট্রান্স ফ্যাট) যোগ করা হয়েছে কি না।

"Natural" বা "Unsweetened" ধরনের পিনাট বাটার বেছে নেওয়া ভালো।

কতটা খাওয়া উচিত?

বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনে ১ থেকে ২ টেবিল চামচ পিনাট বাটার সাধারণত যথেষ্ট। এটি হোল-হুইট ব্রেড, ওটস, ফল বা স্মুদির সঙ্গে খাওয়া যেতে পারে।

সকালের নাস্তায় সাদা মাখনের বদলে পিনাট বাটার খেলে প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও প্রয়োজনীয় ভিটামিন-খনিজের জোগান মিলতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, পরিমিত পরিমাণে পিনাট বাটার খেলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকে, ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে এবং ব্লাড সুগারের ওঠানামাও কিছুটা কম হতে পারে। তবে এটি কোনও ওষুধ নয় এবং অতিরিক্ত খাওয়া উচিত নয়।

 

Leave a comment