পয়লা বৈশাখে দোহালিয়া কালীবাড়িতে জনস্রোত! নতুন বছরের শুরুতেই মায়ের দর্শনে উপচে পড়া ভিড়

পয়লা বৈশাখে মুর্শিদাবাদের দোহালিয়া কালীবাড়িতে ভক্তদের উপচে পড়া ভিড়। হাজার বছরের ঐতিহ্য ও অলৌকিক বিশ্বাসে ভর করে নতুন বছরের শুরুতে মায়ের দর্শনে মানুষের ঢল।

বাঙালির প্রাণের উৎসব Poila Baisakh মানেই নতুন শুরুর আশা, মঙ্গলকামনা আর দেবদর্শন। সেই আবহেই বুধবার ভোর থেকে মুর্শিদাবাদ জেলার কান্দির দোহালিয়া কালীবাড়িতে শুরু হয় ভক্তদের ঢল। বছরের প্রথম দিনে মায়ের পুজো দিতে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসেন অগণিত মানুষ।

নববর্ষে মন্দিরে উপচে পড়া ভিড়

নতুন বছর ভালো কাটুক— এই প্রার্থনায় সকাল থেকেই ভক্তদের ভিড় বাড়তে থাকে। মন্দির প্রাঙ্গণ মুহূর্তে পূর্ণ হয়ে ওঠে। নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ-যুবক— সকলের একটাই লক্ষ্য, মায়ের চরণে প্রণাম জানিয়ে বছরের শুভ সূচনা।

হাজার বছরের ইতিহাসে ঘেরা এই মন্দির

ইতিহাস বলছে, প্রায় এক হাজার বছর আগে সেন বংশীয় রাজা Ballal Sen-এর আমলে এই কালীমন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়। আগে ঘন জঙ্গলে ঘেরা এই এলাকা আজ আধুনিকতার ছোঁয়ায় বদলালেও, মন্দিরের ঐতিহ্য এখনও অটুট রয়েছে।

ব্যাঘ্ররূপে মা কালী— অলৌকিক কাহিনি

মন্দির ঘিরে প্রচলিত আছে নানা অলৌকিক কাহিনি। কথিত আছে, এক সন্ন্যাসীর তপস্যা ভঙ্গ করতে আসুরিক শক্তি চেষ্টা করলে মা দক্ষিণা কালী ব্যাঘ্ররূপে আবির্ভূত হন। সেই থেকেই এখানে ব্যাঘ্ররূপে মায়ের পুজো প্রচলিত।

বিশ্বাস ও আচার— ভক্তদের আকর্ষণের কেন্দ্র

মন্দির সংলগ্ন পুকুর ঘিরেও রয়েছে রহস্য। স্থানীয়দের বিশ্বাস, এই পুকুরের জল কখনও পরিবর্তন করা হয় না। অনেকে মনে করেন, এখানে স্নান করলে বিশেষ করে চোখের সমস্যা দূর হয়। এই বিশ্বাসেই বহু মানুষ এখানে আসেন।

মঙ্গল শোভাযাত্রায় উৎসবের রঙ

নববর্ষকে ঘিরে শুধু পুজোই নয়, উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে চারিদিকে। বাংলাদেশের মঙ্গল শোভাযাত্রা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে বহরমপুরে আয়োজিত হয় শোভাযাত্রা, যা এখন নববর্ষ উদযাপনের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে মুর্শিদাবাদের Dohalia Kalibari-তে ভক্তদের ঢল। বছরের প্রথম দিনেই হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমালেন মায়ের আশীর্বাদ নিতে। প্রাচীন ঐতিহ্য ও অলৌকিক বিশ্বাস ঘিরে এই মন্দিরে ভক্তি-উৎসবের আবহ।

Leave a comment