পুজোর আগে ড্রয়িংরুমে আনুন রাজকীয় সাজ! নতুন কুশন থেকে দেওয়ালের ডেকর, অল্প খরচেই বদলে যাবে ঘরের চেহারা

দুর্গাপুজোর আগে ড্রয়িংরুমে আনুন নতুনত্ব। পর্দা, কুশন, দেওয়ালের ডেকর, আলো ও শো-পিস দিয়ে কীভাবে অল্প খরচে ঘর সাজাবেন, জেনে নিন সহজ টিপস।

পুজোর দিনগুলিতে বাড়িতেই জমে ওঠে আড্ডা, খাওয়াদাওয়া আর অতিথি আপ্যায়ন। আর সেই আনন্দের অন্যতম কেন্দ্র হল ড্রয়িংরুম। কিন্তু বছরের পর বছর একই আসবাব, একই পর্দা আর একই রকম সাজ দেখতে দেখতে ঘরটা একঘেয়ে লাগতেই পারে। পুজোর আগে তাই সামান্য কিছু পরিবর্তনেই বসার ঘরকে করে তুলুন আরও আকর্ষণীয়। পুরনো বেনারসি শাড়ির কুশন কভার থেকে দেওয়ালে মাটির সাজসজ্জা—সৃজনশীল কিছু ভাবনাই বদলে দিতে পারে ঘরের চেনা চেহারা।

পর্দা ও সোফার কভার বদলেই আসবে নতুনত্ব

ড্রয়িংরুমের চেহারা বদলাতে প্রথমেই নজর দিন সোফা ও পর্দার দিকে। দীর্ঘদিন একই রঙের কভার ও পর্দা ব্যবহার করলে ঘরকে একঘেয়ে লাগতে পারে। পুজোর সময় ঘরে উৎসবের ছোঁয়া আনতে বেছে নিতে পারেন গাঢ় লাল, মেরুন, সোনালি, সবুজ কিংবা মাটির রঙের মতো উষ্ণ শেডআভিজাত্যের ছোঁয়া পেতে সিল্ক বা ভেলভেটের কাপড় ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে ঘরে যদি আগে থেকেই ভারী নকশার আসবাব থাকে, তা হলে অপেক্ষাকৃত হালকা রঙের পর্দা ও সাদামাটা সোফার কভার বেছে নিলে সাজে ভারসাম্য বজায় থাকবে।

ফাঁকা দেওয়াল সাজিয়ে তুলুন ওয়াল ডেকরে

ঘরের দেওয়াল অনেক সময় অন্দরসজ্জায় বিশেষ গুরুত্ব পায় না। অথচ সঠিকভাবে সাজাতে পারলে একটি ফাঁকা দেওয়ালই হয়ে উঠতে পারে ড্রয়িংরুমের আকর্ষণের কেন্দ্র।দেওয়ালে রাখতে পারেন বিভিন্ন ধরনের মুখোশ, কাঠের প্লেট, মাটির সরা, ওয়াল প্লেট কিংবা সুন্দর ফ্রেমে বাঁধানো ছবি। চাইলে কয়েকটি ছোট আয়না দিয়েও দেওয়াল সাজানো যায়। বাঙালি ঐতিহ্যের ছোঁয়া আনতে মাটির তৈরি সাজসজ্জার সামগ্রীও বেছে নিতে পারেন।তবে দেওয়ালে একসঙ্গে অনেক কিছু না রেখে রং ও নকশার সঙ্গে মানানসই কয়েকটি জিনিস বেছে নিলে ঘর দেখতে আরও পরিপাটি লাগবে।

সাধারণ সাইড টেবিলের বদলে রাখুন অন্যরকম আসবাব

ড্রয়িংরুমের প্রতিটি আসবাব বদলে ফেলার দরকার নেই। বরং একটি বা দুটি ছোট আসবাবে পরিবর্তন আনলেই ঘরের সাজে নতুনত্ব আসতে পারে।সাধারণ সাইড টেবিলের বদলে রাখতে পারেন অ্যান্টিক ধাঁচের কারুকাজ করা টেবিল বা কার্ভড পিলার। এ ছাড়া রঙিন ছোট টেবিল, এথনিক প্যুফ সিট কিংবা সাজসজ্জার জন্য ব্যবহারযোগ্য ল্যাডারও ঘরের সৌন্দর্য বাড়াতে পারে।তবে আসবাব কেনার আগে ঘরের আয়তন ও চলাচলের জায়গার কথা মাথায় রাখুন। ছোট ড্রয়িংরুমে অতিরিক্ত আসবাব রাখলে ঘর আরও গাদাগাদি দেখাতে পারে।

পুরনো বেনারসি শাড়ি দিয়ে তৈরি করুন নজরকাড়া কুশন

পুজোর অন্দরসজ্জায় রঙের ছোঁয়া আনতে কুশনের জুড়ি নেই। সাধারণ সোফার উপর কয়েকটি রঙিন কুশন রাখলেই ঘরের চেহারা বদলে যেতে পারে। সুতি, লিনেন, সিল্ক কিংবা ভেলভেট—ঘরের সাজের সঙ্গে মিলিয়ে বেছে নিতে পারেন বিভিন্ন ধরনের কাপড়।আরও অভিনব কিছু করতে চাইলে আলমারিতে যত্ন করে তুলে রাখা পুরনো বেনারসি শাড়ি কাজে লাগাতে পারেন। শাড়ির সুন্দর নকশা ও জমকালো বুনন ব্যবহার করে তৈরি করা যায় আকর্ষণীয় কুশন কভার। এতে একদিকে যেমন পুরনো শাড়ির পুনর্ব্যবহার হবে, অন্যদিকে ঘরের সাজেও আসবে ঐতিহ্যবাহী আভিজাত্য।

আলো বদলে তৈরি করুন উৎসবের আবহ

অন্দরসজ্জায় আলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু উজ্জ্বল আলো নয়, ঘরের পরিবেশ অনুযায়ী নরম ও উষ্ণ আলোর ব্যবহারও ড্রয়িংরুমকে আরামদায়ক করে তুলতে পারে।সোফার পাশে রাখতে পারেন সুন্দর একটি টেবিল ল্যাম্প। ঘরের কোনও কোণে সাজিয়ে রাখতে পারেন ডেকোরেটিভ লাইট। পুজোর আবহ বাড়াতে নিরাপদ স্থানে প্রদীপ বা আলো ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে বৈদ্যুতিক আলো বসানোর সময় তার যেন পর্দা বা অন্য দাহ্য জিনিসের সংস্পর্শে না আসে, সেদিকে খেয়াল রাখুন।

ভিন্টেজ শো-পিসে আসুক আভিজাত্যের ছোঁয়া

ড্রয়িংরুমের সাজ সম্পূর্ণ করতে শো-পিসের গুরুত্বও কম নয়। ঘরের রং ও আসবাবের সঙ্গে মানানসই ভিন্টেজ বা অ্যান্টিক ধাঁচের শো-পিস রাখতে পারেন। কাঠ, পিতল, মাটি কিংবা ধাতুর তৈরি সাজসজ্জার সামগ্রী ঘরে অন্যরকম মাত্রা যোগ করতে পারে।তবে ছোট-বড় অনেক শো-পিস একসঙ্গে সাজিয়ে না রেখে কয়েকটি পছন্দের জিনিস নির্দিষ্ট জায়গায় রাখুন। এতে ঘর দেখতে সুন্দর লাগবে, আবার পরিষ্কার করাও সহজ হবে।

দুর্গাপুজো মানেই নতুন পোশাক, জমিয়ে খাওয়াদাওয়া আর বাড়িতে আত্মীয়-বন্ধুদের আনাগোনা। তাই উৎসবের আগে বাড়ির অন্দরসজ্জায় একটু বদল আনতে চান অনেকেই। বিশেষ করে ড্রয়িংরুমকে নতুনভাবে সাজাতে সব সময় দামি আসবাব কেনার প্রয়োজন নেই। রঙিন কুশন, আকর্ষণীয় পর্দা, দেওয়ালের সাজ, ছোটখাটো আসবাব এবং সুন্দর শো-পিসের সাহায্যেই বসার ঘরে আনা যায় উৎসবের আমেজ। রইল সহজ কিছু পুজো স্পেশাল ইন্টিরিয়র টিপস।

Leave a comment