পাঞ্জাবের ফতেহগড় সাহিবে বৈশাখী মেলা ফেরত বাস উল্টে ৬ জনের মৃত্যু, ২১ জন আহত

পাঞ্জাবের ফতেহগড় সাহিব জেলায় বৈশাখী মেলা থেকে ফেরার পথে একটি বাস প্রযুক্তিগত ত্রুটির পর বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে উল্টে গেলে ৬ জনের মৃত্যু এবং ২১ জন আহত হন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং গুরুতরদের চণ্ডীগড়ে রেফার করা হয়েছে।

ফতেহগড় সাহিব জেলায় বৈশাখী মেলা থেকে ফেরার পথে ভক্তদের বহনকারী একটি বাস উল্টে গেলে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ২১ জন আহত হয়েছেন। প্রযুক্তিগত ত্রুটির পর বাসটি একটি বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

দুর্ঘটনাটি গভীর রাতে ঘটে, যখন বাসে থাকা ভক্তরা আনন্দপুর সাহিবে বৈশাখী মেলায় অংশ নিয়ে নিজেদের গ্রামে ফিরছিলেন। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বাসে প্রায় ৪০ জন যাত্রী ছিলেন, যারা ফতেহগড় সাহিব জেলার ম্যণ মাজরি গ্রামে ফিরছিলেন।

গ্রাম হিম্মতপুরার কাছে বাসটিতে হঠাৎ প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা দেয়। চালক গাড়ি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। দ্রুতগতিতে বাসটি রাস্তার ধারে একটি বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বাস উল্টে যাওয়ার পর তাতে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, ফলে ভিতরে আটকে থাকা যাত্রীদের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

বাস উল্টে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে চিৎকার ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রাত হওয়ায় শুরুতে সাহায্য পেতে সমস্যা হয়, তবে আশেপাশের গ্রামবাসীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। অনেক যাত্রী বাসের সিট ও জানালার মাঝে আটকে পড়েছিলেন। গ্রামবাসীরা কাঁচ ভেঙে ও দরজা খুলে তাদের উদ্ধার করেন। কিছু সময় পর পুলিশ ও প্রশাসনের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

আহত ২১ জনকে দ্রুত বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২ জনকে মোরিন্দার হাসপাতালে এবং ৯ জনকে ফতেহগড় সাহিবের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য পোস্টগ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (পিজিআই), চণ্ডীগড়ে পাঠানো হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কয়েকজনের অবস্থা এখনও গুরুতর।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, যাত্রীরা প্রায় নিজেদের গ্রামে পৌঁছে গিয়েছিলেন। দুর্ঘটনাস্থল থেকে ম্যণ মাজরি গ্রাম মাত্র ১.৫ কিলোমিটার দূরে ছিল। ফতেহগড় সাহিবের সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ ড. শুভম আগরওয়াল জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় এবং রাতেই আহতদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।

স্থানীয় গ্রামবাসীদের মতে, দুর্ঘটনার শব্দ শুনেই তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং উদ্ধারকাজ শুরু করেন। তাদের দাবি, অ্যাম্বুল্যান্স দেরিতে পৌঁছানোয় প্রাথমিক উদ্ধারকাজ তারা নিজেরাই পরিচালনা করেন। সময়মতো গ্রামবাসীরা পৌঁছাতে না পারলে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারত।

দুর্ঘটনায় আক্রান্ত সকলেই বৈশাখী উপলক্ষে আনন্দপুর সাহিবে অনুষ্ঠিত ধর্মীয় মেলায় অংশ নিয়ে ফিরছিলেন। বৈশাখী পাঞ্জাব এবং শিখ সম্প্রদায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উৎসব, যেখানে প্রতি বছর লক্ষাধিক ভক্ত ধর্মীয় স্থানে যান।

এই ঘটনায় বিভিন্ন নেতা ও সামাজিক সংগঠন শোক প্রকাশ করেছেন। হরসিমরত কৌর বাদল সামাজিক মাধ্যমে শোক জানিয়ে মৃতদের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।

এই দুর্ঘটনার পর সড়ক নিরাপত্তা, গণপরিবহনের প্রযুক্তিগত পরীক্ষা এবং জরুরি পরিষেবা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘপথের বাসের নিয়মিত প্রযুক্তিগত পরীক্ষা, ভিড়ের সময় চালকদের অতিরিক্ত সতর্কতা এবং দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

Leave a comment