হাইকোর্টের নির্দেশ: পুরকর্মীদের বকেয়া মেটাতে রাজ্যকে দায়িত্ব নিতে হবে

হাইকোর্টের নির্দেশ: পুরকর্মীদের বকেয়া মেটাতে রাজ্যকে দায়িত্ব নিতে হবে

কলকাতা, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫: বহরমপুর পুরসভার অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের গ্র্যাচুইটির বকেয়া মেটানো নিয়ে বড় রায় দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা ও বিচারপতি অজয়কুমার গুপ্তর ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, আগামী ১০ মাসের মধ্যে মামলাকারীদের পাওনা মেটাতে হবে। যদি পুরসভা ব্যর্থ হয়, তবে সেই দায়ভার রাজ্য সরকারকেই বহন করতে হবে।

বহরমপুর পুরসভার বকেয়া নিয়ে আদালতের পর্যবেক্ষণ

শুক্রবার আদালতে জানানো হয়, বহরমপুর পুরসভা সম্পত্তি কর থেকে পাওয়া অর্থ দিয়েই অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের বকেয়া মেটাচ্ছে। তবে আর্থিক সংকট এতটাই গভীর যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব দাবি মেটানো কঠিন। তাই আদালত নির্দেশ দেয়, প্রয়োজনে রাজ্যের অর্থসচিবের দপ্তর থেকে সাহায্য নিতে হবে।

১১ শতাংশ সুদসহ পাওনা মেটানোর নির্দেশ

হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের বকেয়া অর্থ ছাড়াও অতিরিক্ত ১১ শতাংশ সুদ দিয়ে টাকা মেটাতে হবে। এই রায়ে বহু কর্মী আশার আলো দেখছেন। দীর্ঘদিন ধরে মামলার লড়াই চালাচ্ছিলেন তাঁরা। অবসর-পরবর্তী জীবনে আর্থিক সঙ্কট তাঁদের দারুণ বিপদে ফেলেছিল।

পুরসভার যুক্তি ও রাজ্যের ভূমিকা

বহরমপুর পুরসভার আইনজীবী অরিন্দম দাস আদালতে বলেন, ‘‘পুরসভার আর্থিক অসহায়তার কথা আগেই জানিয়েছিলাম। বর্তমানে সম্পত্তিকর থেকেই টাকা আদায় হচ্ছে এবং সেই অর্থ দিয়ে বকেয়া মেটানো হচ্ছে। তবে আদালতের নতুন নির্দেশে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বস্তিদায়ক।’’ পুরসভার আশা, কর থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়েই দায় মেটানো সম্ভব হবে, তবে প্রয়োজনে রাজ্যের সাহায্যও পাওয়া যাবে।

রাজ্যের অন্যান্য পুরসভার পরিস্থিতি

কলকাতা বাদে রাজ্যে রয়েছে ৭টি পুরনিগম ও ১২১টি পুরসভা। সিংহভাগ পুরসভাতেই অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের গ্র্যাচুইটি ও পেনশন বকেয়া রয়েছে। এই নিয়ে কয়েক হাজার মামলা বর্তমানে হাইকোর্টে ঝুলে আছে। সম্প্রতি বিচারপতি গৌরাঙ্গ কান্ত একাধিক মামলায় ক্ষোভ প্রকাশ করে পুরসভাগুলিকে সতর্ক করেন এবং টাকা মেটাতে না পারলে পুরসভা বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন।

হাইকোর্টের এই রায়ে পুরকর্মীরা স্বস্তির শ্বাস ফেললেও রাজ্যের উপর আর্থিক চাপ বাড়ল। আগামী ১০ মাসে বহরমপুর সহ অন্যান্য পুরসভাগুলি কীভাবে বকেয়া মেটাবে, তা এখন বড় প্রশ্ন। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজ্য যদি সময়মতো হস্তক্ষেপ না করে, তবে পুজোর মরসুমেই কর্মীদের মধ্যে নতুন করে বিক্ষোভ দেখা দিতে পারে।

Leave a comment