এক ঢিলে দুই পাখি—এই কথাটাই যেন বাস্তব হয়ে উঠেছে Purulia জেলার গ্রামাঞ্চলে। ধান চাষ শেষ হতেই জমিতে শুরু হচ্ছে সূর্যমুখী চাষ, আর তাতেই দ্বিগুণ আয়ের হাসি ফুটছে কৃষকদের মুখে।
ধানের পর নতুন দিশা: সূর্যমুখীতে বদলাচ্ছে কৃষির ধারা
আগে ধান কাটার পর অনেক জমিই দীর্ঘদিন ফাঁকা পড়ে থাকত। কিন্তু এখন সেই চিত্র পাল্টেছে। কম সময়ে ফলন এবং তুলনামূলক কম খরচের কারণে সূর্যমুখী চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা। এতে একই জমি থেকে বছরে দু’বার ফসল পাওয়া সম্ভব হচ্ছে, যা সরাসরি আয়ের পরিমাণ বাড়াচ্ছে।
কম খরচে বেশি লাভ: কৃষকদের ভরসা এই ফসল
সূর্যমুখী চাষে সেচ, সার ও পরিচর্যার খরচ তুলনামূলকভাবে কম। অন্যদিকে বাজারে এর বীজের দাম ভালো থাকায় লাভের সম্ভাবনাও বেশি। ফলে ছোট ও প্রান্তিক চাষিরাও এই চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
তেল থেকে পশুখাদ্য—বহুমুখী ব্যবহারেই চাহিদা তুঙ্গে
সূর্যমুখীর বীজ থেকে উৎকৃষ্ট মানের ভোজ্য তেল তৈরি হয়, যার বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। শুধু তাই নয়, বীজের অবশিষ্টাংশ পশুখাদ্য হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। ফলে একটি ফসল থেকেই একাধিক আয়ের রাস্তা খুলে যাচ্ছে।
গ্রাম জুড়ে হলুদের ঢেউ, বাড়ছে পর্যটনের টানও
কাশীপুর ব্লকের বিভিন্ন গ্রাম, বিশেষ করে তিলাবনী পাহাড় সংলগ্ন এলাকায় এখন সূর্যমুখীর সমারোহ চোখে পড়ার মতো। এই দৃশ্য দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন। ফলে কৃষির পাশাপাশি গ্রামীণ পর্যটনের সম্ভাবনাও বাড়ছে।
কৃষকের মুখে সাফল্যের গল্প
স্থানীয় চাষিদের কথায়, “ধানের পর সূর্যমুখী চাষ আমাদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে।” কম সময়ে ফলন এবং ভালো বাজারদর—এই দুই কারণেই তারা এখন নিয়মিত এই ফসল চাষ করছেন।
ধান কাটার পর ফাঁকা জমি আর পড়ে থাকছে না। Purulia-তে সূর্যমুখী চাষ করে কৃষকরা কম খরচে বেশি লাভের মুখ দেখছেন। তেল উৎপাদন থেকে পশুখাদ্য—একাধিক কারণে এই ফসল এখন লাভজনক বিকল্প।











