সরকারি হস্তক্ষেপের পর কুইক কমার্স সংস্থাগুলি ১০ মিনিট ডেলিভারির দাবি প্রত্যাহার করল

সরকারি হস্তক্ষেপের পর কুইক কমার্স সংস্থাগুলি ১০ মিনিট ডেলিভারির দাবি প্রত্যাহার করল

সরকারি হস্তক্ষেপের পর দেশে পরিচালিত কুইক কমার্স সংস্থাগুলি তাদের প্ল্যাটফর্ম থেকে ১০ মিনিটে ডেলিভারির দাবি সরিয়ে নিয়েছে। শ্রম মন্ত্রকের মতে, অত্যন্ত স্বল্প সময়সীমার ডেলিভারি মডেল গিগ ওয়ার্কারদের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছিল, যার ফলে ব্যবসায়িক মডেলে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

নতুন দিল্লিতে কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী মনসুখ মান্ডাভিয়ার ধারাবাহিক উদ্যোগ এবং কুইক কমার্স সংস্থাগুলির সঙ্গে একাধিক দফার বৈঠকের পর ১০ মিনিটে ডেলিভারির পরিষেবা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ব্লিঙ্কিট, জেপ্টো, জোমাটো এবং সুইগির মতো বড় সংস্থাগুলি সরকারের পরামর্শ মেনে তাদের প্ল্যাটফর্ম থেকে ১০ মিনিট ডেলিভারির দাবি প্রত্যাহার করেছে।

এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য গ্রাহকদের অসুবিধা সৃষ্টি করা নয়, বরং বিভিন্ন আবহাওয়া ও পরিস্থিতিতে কাজ করা লক্ষ লক্ষ ডেলিভারি পার্টনার বা গিগ ওয়ার্কারদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া।

কেন্দ্রীয় শ্রম মন্ত্রক সাম্প্রতিক মাসগুলিতে লক্ষ্য করেছে যে অত্যন্ত কম সময়ে ডেলিভারির চাপ গিগ ওয়ার্কারদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছিল। ১০ মিনিটের সময়সীমা পূরণ করতে গিয়ে বহু ডেলিভারি পার্টনারকে অতিরিক্ত গতিতে যানবাহন চালাতে বাধ্য হতে হচ্ছিল।

এই চাপের ফলে ট্রাফিক নিয়ম লঙ্ঘন, সড়ক দুর্ঘটনা এবং মানসিক চাপের মতো সমস্যার উদ্ভব হয়েছে। মন্ত্রকের মতে, কোনও ব্যবসায়িক মডেলের সাফল্য কর্মীদের জীবনের বিনিময়ে হতে পারে না।

সংবাদ সংস্থা এএনআইয়ের মতে, শ্রম মন্ত্রক কুইক কমার্স সংস্থাগুলির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছে। ওই বৈঠকে ডেলিভারির সময়সীমা সংক্রান্ত সমস্ত দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে স্পষ্টভাবে উঠে আসে যে কঠোর সময়সীমা ডেলিভারি পার্টনারদের উপর অস্বাস্থ্যকর চাপ সৃষ্টি করে। একাধিক ক্ষেত্রে গিগ ওয়ার্কাররা স্বীকার করেছেন যে সময়মতো ডেলিভারি দিতে গিয়ে তারা নিজেরাই ঝুঁকির মধ্যে পড়েন।

কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী মনসুখ মান্ডাভিয়া সংস্থাগুলিকে জানিয়েছেন যে গ্রাহক পরিষেবা গুরুত্বপূর্ণ হলেও কর্মীদের নিরাপত্তা তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, প্রযুক্তি ও সুবিধার নামে মানবজীবনের সঙ্গে আপস করা যায় না এবং সরকার এমন কোনও মডেলকে সমর্থন করতে পারে না যা শ্রমিকদের অনিরাপদ পরিস্থিতিতে কাজ করতে বাধ্য করে।

সরকারি পরামর্শের পর ব্লিঙ্কিট প্রথমে তাদের প্ল্যাটফর্মে পরিবর্তন আনে। সংস্থাটি তাদের ট্যাগলাইন বদলে দেয়। আগে যেখানে দাবি করা হতো যে ১০,০০০-এর বেশি পণ্য ১০ মিনিটে ডেলিভারি করা হবে, সেখানে এখন ট্যাগলাইন পরিবর্তন করে বলা হয়েছে ৩০,০০০-এর বেশি পণ্য আপনার দরজায়।

জেপ্টো, জোমাটো এবং সুইগিও শীঘ্রই তাদের প্ল্যাটফর্ম থেকে ১০ মিনিট ডেলিভারির প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি সরিয়ে নেবে। সংস্থাগুলির বক্তব্য, তারা ডেলিভারির সময়সীমাকে বাস্তবসম্মত করবে যাতে গিগ ওয়ার্কাররা কোনও চাপ ছাড়াই নিরাপদভাবে কাজ করতে পারেন।

গিগ ওয়ার্কারদের পরিস্থিতি নিয়ে সংসদেও আলোচনা হয়েছে। আম আদমি পার্টির রাজ্যসভা সাংসদ রাঘব চাড্ডা বিষয়টি উত্থাপন করে জানান যে দেশের লক্ষ লক্ষ ডেলিভারি পার্টনার তীব্র গরম, বৃষ্টি ও শীতে কাজ করেন এবং নির্ধারিত সময়সীমা পূরণের চাপের মুখে পড়েন।

গিগ ওয়ার্কারদের জন্য কোড অন সোশ্যাল সিকিউরিটি ২০২০ একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা ২১ নভেম্বর ২০২৫ থেকে কার্যকর হয়েছে। এই আইনে প্রথমবারের মতো গিগ ও প্ল্যাটফর্ম ওয়ার্কারদের স্পষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে এবং জীবন বীমা, দুর্ঘটনা বীমা, স্বাস্থ্য সুবিধা, মাতৃত্ব সুবিধা ও বার্ধক্য সুরক্ষার বিধান রাখা হয়েছে।

এই আইনের আওতায় গিগ ওয়ার্কারদের জন্য একটি সোশ্যাল সিকিউরিটি ফান্ড গঠনের ব্যবস্থাও রয়েছে, যার মাধ্যমে কল্যাণমূলক প্রকল্পে অর্থায়ন করা হবে। পাশাপাশি গিগ ওয়ার্কারদের স্বার্থ তদারকির জন্য ন্যাশনাল সোশ্যাল সিকিউরিটি বোর্ড গঠনের কথাও বলা হয়েছে।

Leave a comment