পর্দায় নানা ধরনের সাহসী ও চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে অভিনয়ের জন্য পরিচিত রাধিকা আপ্তে। কিন্তু অভিনয়ের সেই সাহসের আড়ালে রয়েছে এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা। তাঁর একটি প্রজেক্টের অন্তরঙ্গ দৃশ্য ইন্টারনেটে ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে নিজের বাড়িতেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে শুরু করেছিলেন অভিনেত্রী। শেষ পর্যন্ত চার দিন নিজেকে ঘরবন্দি করে রাখেন তিনি।
অন্তরঙ্গ দৃশ্য ফাঁসের পর আতঙ্কিত রাধিকা
রাধিকা জানান, ক্যামেরার সামনে কোনও অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয় করা এক বিষয়, কিন্তু সেই দৃশ্য অনুমতি ছাড়াই অনলাইনে ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ অন্যরকম হয়ে যায়। তাঁর কথায়, সমস্যাটি শুধু সোশ্যাল মিডিয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা তাঁর ব্যক্তিগত জীবন এবং বাড়ির নিরাপত্তার সঙ্গেও জড়িয়ে পড়েছিল।অভিনেত্রীর আশঙ্কা ছিল, ওই ভিডিও দেখে কেউ ক্ষুব্ধ হয়ে সরাসরি তাঁর বাড়িতে চলে আসতে পারে। এই ভয় থেকেই কয়েক দিন বাড়ির বাইরে বের হতে পারেননি তিনি।
পরিচিতদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছিল সেই ক্লিপ
রাধিকা জানান, তাঁর স্টাইলিস্টের ড্রাইভারও ওই ভিডিওটি দেখেছিলেন। এমনকি তাঁর নিজের আবাসনের নিরাপত্তারক্ষীর কাছেও ক্লিপটি পৌঁছে গিয়েছিল। ফলে যাঁদের প্রতিদিনের জীবনে সামনে পড়তে হয়, তাঁদের মুখোমুখি হওয়াটাও অভিনেত্রীর কাছে অস্বস্তিকর ও ভয়ের হয়ে উঠেছিল।সেই সময় তিনি মুম্বইয়ের একটি ফ্ল্যাটে একাই থাকতেন। ফলে পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।
কর্মীদেরও নিজেই পরীক্ষা করেছিলেন অভিনেত্রী
নিজের চারপাশে কারা ওই ভিডিওটি দেখেছেন, তা বোঝার জন্য রাধিকা তাঁর ড্রাইভার এবং স্পট দাদার সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। এমনকি তাঁদের জানান, তাঁরা যদি ভিডিওটি না দেখে থাকেন, তাহলে তিনি নিজেই সেটি দেখাতে পারেন।এরপর তিনি তাঁদের সামনে একটি স্পষ্ট সিদ্ধান্তের সুযোগও রাখেন—তাঁর সঙ্গে কাজ করতে স্বচ্ছন্দ হলে থাকতে পারেন, আর অস্বস্তি হলে কাজ ছেড়ে যেতে পারেন। রাধিকার মতে, সৌভাগ্যক্রমে তাঁরা তাঁর পাশে ছিলেন এবং তাঁকে আশ্বস্ত করেছিলেন।
পরিবারের কথা ভেবে ছবি থেকেও সরে এসেছিলেন
শুধু অন্তরঙ্গ দৃশ্য ফাঁসের ঘটনাই নয়, একই সাক্ষাৎকারে নিজের কেরিয়ারের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথাও জানান রাধিকা। একটি ছবি করার প্রবল ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বিষয়টির সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে তিনি প্রজেক্টটি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।অভিনেত্রীর আশঙ্কা ছিল, ছবিটি করার কারণে তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে সমস্যা তৈরি হতে পারে। পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপও তাঁকে সেই প্রজেক্টে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন বলে জানান রাধিকা।
পরিবারের নিরাপত্তাকেই অগ্রাধিকার
রাধিকা স্বীকার করেছেন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া তাঁর জন্য সহজ ছিল না। নিজের পছন্দের একটি কাজ থেকে সরে আসার আক্ষেপ এখনও রয়েছে। তবে তাঁর কাছে পরিবারের নিরাপত্তাই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।
অভিনেত্রী রাধিকা আপ্তে এক সাক্ষাৎকারে তাঁর জীবনের এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করেছেন। একটি সিনেমার অন্তরঙ্গ দৃশ্য অনলাইনে ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর তিনি এতটাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন যে টানা চার দিন বাড়ির বাইরে বের হননি। এমনকি পরিচিত ও নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত মানুষদের নিয়েও তাঁকে সতর্ক হতে হয়েছিল। একই সাক্ষাৎকারে পরিবারের নিরাপত্তার কথা ভেবে একটি গুরুত্বপূর্ণ ছবি থেকে সরে আসার সিদ্ধান্তের কথাও জানান অভিনেত্রী।








