রাজস্থান পুরসভা নির্বাচনে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ না করে সরাসরি প্রতীক দেওয়ার পথে বিজেপি ও কংগ্রেস
রাজস্থান পুরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ও কংগ্রেস উভয় দলই প্রার্থী বাছাইয়ের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। কয়েকটি এলাকায় প্রার্থীদের নাম প্রকাশ্যে ঘোষণা না করে সরাসরি দলীয় নির্বাচনী প্রতীক দেওয়ার কৌশল নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
বিজেপি পুরসভা নির্বাচনে প্রার্থীদের নাম প্রকাশ না করে সরাসরি দলীয় অনুমোদিত প্রতীক দেওয়ার কৌশল নিয়ে কাজ শুরু করেছে। যে সব বিভাগে প্রার্থী বাছাই নিয়ে মতামত গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, সেখানকার পুরসভা দায়িত্বপ্রাপ্তদের রাজ্য সভাপতির স্বাক্ষর করা খালি প্রতীক দিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকায় পাঠানো হয়েছে।
দলীয় সদর দফতরে যে প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত হবে, তাঁদের তথ্য সংশ্লিষ্ট জেলা সভাপতি ও বিধায়ককে ইমেলের মাধ্যমে পাঠানো হবে। এরপর জেলা সভাপতি ও বিধায়ক দলীয় অনুমোদিত প্রার্থীকে বিষয়টি জানিয়ে নির্বাচনী প্রতীক তুলে দেবেন।
এই ব্যবস্থার মাধ্যমে টিকিট বণ্টনকে ঘিরে সম্ভাব্য অসন্তোষ ও প্রকাশ্য বিরোধ সীমিত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে এই পদ্ধতি সব পুরসভায় বাধ্যতামূলকভাবে কার্যকর হবে কি না, তা স্থানীয় পরিস্থিতি ও দলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
কংগ্রেসও কয়েকটি এলাকায় একই ধরনের কৌশল গ্রহণ করেছে। দলের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকজন জেলা সভাপতির কাছে প্রতীক পাঠানো হচ্ছে। স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সমীকরণ বিবেচনায় নিয়ে কাউন্সিলর প্রার্থী বাছাই ও ঘোষণায় জেলা সভাপতিদের ভূমিকা দেওয়া হয়েছে।
যে সব ওয়ার্ডে টিকিট নিয়ে বিতর্ক বা বিরোধ রয়েছে, সেখানে প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ না করে সরাসরি প্রার্থী অথবা রিটার্নিং অফিসারের কাছে দলীয় প্রতীক পৌঁছে দেওয়ার কৌশল নিতে পারে কংগ্রেস। তবে সব ওয়ার্ডের জন্য এই ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হয়নি।
বিজেপিতে আজমের ও উদয়পুর বিভাগের পুরসভাগুলির টিকিট বণ্টন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আজমের বিভাগের দেবলি, টঙ্ক ও নাগৌরের পুরসভাগুলিতে প্রার্থী বাছাই নিয়ে মতামত গ্রহণের সময় বিরোধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।
পছন্দের প্রার্থীদের টিকিট দেওয়া নিয়ে স্থানীয় বিধায়ক ও জেলা সভাপতিদের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়। বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মা এবং রাজ্য সভাপতি মদন রাঠৌরের কাছেও উত্থাপন করা হয়। এরপর পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
একই ওয়ার্ড থেকে একাধিক শক্তিশালী দাবিদার থাকায় স্থানীয় সমীকরণ সামলানো বিজেপির অন্যতম চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। টিকিট না পেলে দলীয় বিদ্রোহ অথবা নির্দল প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়ার সম্ভাবনাও দলের উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
টিকিট বণ্টনের মধ্যে ভিলওয়াড়ায় বিজেপি মহিলা মোর্চার জেলা সভাপতি এবং প্রাক্তন সভানেত্রী মঞ্জু চেচানি মহিলা কর্মীদের টিকিট দেওয়ার দাবি তুলেছেন। রিপোর্ট অনুযায়ী, দাবি পূরণ না হলে শনিবার দুপুর পর্যন্ত আত্মাহুতির হুমকি দিয়েছেন তিনি।
এই ঘটনায় টিকিট বণ্টনকে ঘিরে দলের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের বিষয়টি সামনে এসেছে।
আজমেরের কেকড়ি পুরসভার প্রাক্তন সভাপতি কমলেশ সাহুর বিষয়টিও টিকিট ও স্থানীয় রাজনীতির মধ্যে আলোচনায় এসেছে। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার দুই দিন পরই সাহু সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করে নিজেকে কংগ্রেসে রয়েছেন বলে দাবি করেন।
সাহুর দাবি, তিনি কংগ্রেস থেকে ইস্তফা দেননি এবং তিনি আগেও কংগ্রেসে ছিলেন, এখনও কংগ্রেসের সঙ্গেই রয়েছেন। তাঁকে হুমকি ও চাপ দিয়ে বিজেপিতে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়েছিল বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
এর আগে ২৬ আগস্ট বিধায়ক শত্রুঘ্ন গৌতমের উপস্থিতিতে সাহুর বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কথা সামনে এসেছিল। সেই সময় বিধায়ক তাঁকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। সাহুর বর্তমান বক্তব্যের পর স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন বিরোধ তৈরি হয়েছে।
পুরসভা নির্বাচনে দুই প্রধান দলের কাছে টিকিট বণ্টনের পাশাপাশি বিক্ষুব্ধদের সামলানোও চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। ধৌলপুরের রাজাখেড়া পুরসভার ২২ নম্বর ওয়ার্ডে সহোদর মুনেন্দ্র ও শ্রীকান্তের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার তথ্য সামনে এসেছে।
আজমেরে বিজেপির প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দেওয়া প্রাক্তন মেয়র ধর্মেন্দ্র গেহলট তাঁর স্ত্রী হেমলতা গেহলটকে নির্দল প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে নামানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। একইভাবে বিজেপির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে বিধানসভা নির্বাচনে লড়া জ্ঞান সারস্বত এবং তাঁর মেয়ে হর্ষিতাও নির্দল হিসেবে নির্বাচনে লড়ার জন্য ফর্ম নিয়েছেন।
এই ঘটনাগুলি থেকে দেখা যাচ্ছে, টিকিট বণ্টনের শেষ পর্যায়ে দলগুলিকে শুধু প্রার্থী বাছাই নয়, অসন্তুষ্ট নেতা ও কর্মীদের সামলানোর চ্যালেঞ্জের মুখেও পড়তে হচ্ছে।
বিজেপির পুরসভা নির্বাচন সহ-দায়িত্বপ্রাপ্ত এবং মহারাষ্ট্র সরকারের মন্ত্রী চন্দ্রশেখর বাওয়ানকুলে টিকিট বণ্টন নিয়ে দলের অগ্রাধিকার স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেছেন, দল ৫০ হাজারের বেশি আবেদন পেয়েছে এবং মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মা, রাজ্য সভাপতি মদন রাঠৌর ও প্রবীণ নেতারা প্রার্থীদের নাম নিয়ে আলোচনা করছেন।
বাওয়ানকুলের মতে, যোগ্যতার ভিত্তিতে টিকিট দেওয়া হবে এবং কোনও প্রার্থী বাছাইয়ে সুপারিশ কাজ করবে না। জয়ের সক্ষমতা রয়েছে এমন প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কৌশল নিয়ে দল কাজ করছে।
তিনি রাজস্থানের পুরসভা নির্বাচনকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করে আরও বলেছেন, বিজেপি বেশি সংখ্যক তরুণকে সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও বিবেচনা করছে। তাঁর দাবি, দল এই নির্বাচনে শক্তিশালী ফল করবে।
উদয়পুর পুরনিগমের ৮০টি ওয়ার্ড নিয়েও বিজেপিতে প্রার্থী বাছাইয়ের আলোচনা চলছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, পৃথক তালিকা প্রকাশের পরিবর্তে ৮০টি ওয়ার্ডের প্রার্থীদের তালিকা একসঙ্গে প্রকাশের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে দল।
কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থীকে প্রস্তুতি সম্পূর্ণ রাখার জন্য দলের পক্ষ থেকে ফোন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। টিকিট বণ্টনে প্রবীণ নেতাদের পাশাপাশি নতুন মুখদেরও সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
কয়েকজন মণ্ডল সভাপতি ও মহিলা মোর্চার পদাধিকারীকে প্রথমবার নির্বাচনে প্রার্থী করার সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে। একইসঙ্গে প্রবীণ নেতা ও পুরনো কাউন্সিলরদের নাম নিয়েও আলোচনা হয়েছে। কয়েকটি ওয়ার্ডে পারস্পরিক সমঝোতা না হওয়ায় শেষ মুহূর্তে প্রার্থী পরিবর্তনের সম্ভাবনাও রয়েছে।
রাজস্থানের পুরসভা নির্বাচন দুই প্রধান দলের কাছে স্থানীয় সংগঠনের শক্তি যাচাইয়ের একটি সুযোগ। বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনের তুলনায় পুরসভা নির্বাচনে স্থানীয় সমীকরণ, ব্যক্তিগত প্রভাব, ওয়ার্ড স্তরের রাজনীতি এবং প্রার্থীর ব্যক্তিগত জনসমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এই কারণে বিজেপি ও কংগ্রেস উভয় দলই টিকিট বণ্টনে সতর্কতা অবলম্বন করছে। যেখানে সমঝোতা রয়েছে, সেখানে প্রার্থীদের নাম প্রকাশের প্রক্রিয়া নেওয়া হতে পারে। বিতর্কিত ওয়ার্ডগুলিতে সরাসরি দলীয় প্রতীক দেওয়ার পথ নেওয়া হচ্ছে।
বিজেপির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ দলের মধ্যে বিপুল সংখ্যক দাবিদার এবং সম্ভাব্য বিদ্রোহ নিয়ন্ত্রণ করা। কংগ্রেসের সামনেও স্থানীয় গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও টিকিট নিয়ে অসন্তোষ সামলানোর চ্যালেঞ্জ রয়েছে। মনোনয়ন প্রক্রিয়া এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে দুই দলের টিকিট বণ্টন এবং বিক্ষুব্ধ প্রার্থীদের অবস্থান আরও স্পষ্ট হবে।





