রাজস্থান এসআই নিয়োগ ২০২১-এর প্রশ্নপত্র ফাঁস বিতর্কের পর হাইকোর্টের কড়া মন্তব্যের জেরে আরপিএসসি সদস্য মঞ্জু শর্মার পদত্যাগ। তিনি স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করার কথা বলেন। ১৫০ জনেরও বেশি গ্রেপ্তার হয়েছে।
Rajasthan SI Bharti: রাজস্থান এসআই নিয়োগ ২০২১-এ প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং অনিয়মের অভিযোগে সোমবার রাজস্থান পাবলিক সার্ভিস কমিশন (RPSC) এর সদস্য এবং বিখ্যাত কবি কুমার বিশ্বাসের স্ত্রী মঞ্জু শর্মা তাঁর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। রাজস্থান হাইকোর্ট নিয়োগ প্রক্রিয়ার উপর কড়া মন্তব্য করার পর এবং পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্তের পর তিনি রাজ্যপালের কাছে তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দেন। মঞ্জু শর্মা বলেন যে তিনি তাঁর কার্যকালে সর্বদা স্বচ্ছতা ও সততার সঙ্গে কাজ করেছেন, কিন্তু বর্তমান বিতর্কের কারণে ব্যক্তিগত এবং প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হাইকোর্টের কড়া মন্তব্যের পর বিতর্ক বৃদ্ধি
রাজস্থান হাইকোর্ট ২০২১ সালে অনুষ্ঠিত এসআই নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছিল। আদালত বলেছিল যে কমিশনের কিছু অভ্যন্তরীণ ব্যক্তির যোগসাজশেই এই অনিয়ম ঘটেছে, যাকে আদালত "ঘরের শত্রু বিভীষণ" হিসেবে অভিহিত করে। এই মন্তব্যের পর নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং অবশেষে পুরো নিয়োগ বাতিল করা হয়।
১৫০ জনেরও বেশি গ্রেপ্তার, অনেকে জামিন পেয়েছে

এই মামলায় এখনও পর্যন্ত ১৫০ জনেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রশিক্ষণরত সাব-ইন্সপেক্টর, ডামি ক্যান্ডিডেট এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত অন্যান্যরা রয়েছে। সম্প্রতি হাইকোর্ট আরপিএসসি-র প্রাক্তন সদস্য রামू রাম রাইকা সহ ২৩ জন অভিযুক্তকে জামিন দিয়েছে। তবে ৩০ জন অভিযুক্তের জামিনের আবেদন আদালত খারিজ করে দিয়েছে। আদালত মনে করে যে যারা দীর্ঘ সময় ধরে জেলে আছে এবং যাদের ভূমিকা এখন সীমিত প্রমাণিত হচ্ছে, তাদের জেলে রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই।
ব্যক্তিগত মর্যাদা নিয়ে প্রশ্নের মুখে আহত হয়েছেন মঞ্জু শর্মা
মঞ্জু শর্মা তাঁর পদত্যাগে স্পষ্ট লিখেছেন যে তিনি সবসময় সততা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো তদন্ত মুলতুবি নেই এবং কোনো মামলায় তাঁকে অভিযুক্তও করা হয়নি। তবুও এই বিতর্কের কারণে তাঁর ব্যক্তিগত মর্যাদা এবং আরপিএসসি-র প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই তিনি পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে নিয়োগ বাতিল
এসআই নিয়োগ পরীক্ষার অনিয়ম শুধু কমিশন নয়, রাজ্য সরকারের উপরও প্রশ্ন তুলেছে। তৎকালীন কংগ্রেস সরকারের সময় হওয়া এই নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধীরা লাগাতার আক্রমণ করেছে। এখন নিয়োগ বাতিল হওয়ায় হাজার হাজার প্রার্থীর ভবিষ্যৎ প্রভাবিত হয়েছে। সরকারকেও দ্রুত নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার চাপ বাড়ছে।








