বলিউডের অন্যতম চর্চিত তারকা রাখি সাওয়ান্তের জীবন যেন সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানায়। সাধারণ মারাঠি পরিবার থেকে উঠে এসে ব্যাকগ্রাউন্ড ডান্সার হিসেবে কেরিয়ার শুরু করেছিলেন তিনি। এরপর অভিনয়, রিয়েলিটি শো এবং নানা বিতর্কের কারণে বারবার সংবাদ শিরোনামে এসেছেন। তবে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের অন্যতম আলোচিত অধ্যায় হল ধর্ম পরিবর্তনের ঘটনা। জীবনে দু’বার ধর্ম পরিবর্তনের পর এখন কোন ধর্মে রয়েছেন অভিনেত্রী? উত্তরটি এখনও স্পষ্ট নয়।
সাধারণ পরিবার থেকে বলিউডে যাত্রা
১৯৭৮ সালের ২৫ নভেম্বর মুম্বইয়ের এক সাধারণ মারাঠি হিন্দু পরিবারে জন্ম নেন রাখি সাওয়ান্ত। তাঁর জন্মনাম ছিল নীরু ভেদা বলে উল্লেখ করা হয়। ছোটবেলা থেকেই পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি খুব একটা স্বচ্ছল ছিল না।কেরিয়ারের শুরুতে বলিউডে ব্যাকগ্রাউন্ড ডান্সার হিসেবে কাজ করেন তিনি। ১৯৯০-এর দশকের শেষদিকে বিভিন্ন ধরনের কাজ করে ধীরে ধীরে নিজের পরিচিতি তৈরি করতে শুরু করেন। পরবর্তীতে 'ম্যায় হুঁ না' এবং 'মস্তি'-র মতো ছবিতে নৃত্য পরিবেশন করে নজর কাড়েন।এরপর রিয়েলিটি শো এবং বিনোদন জগতের নানা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন রাখি।
মায়ের সঙ্গে ধর্ম পরিবর্তনের দাবি
প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালের আশপাশে রাখি তাঁর মায়ের সঙ্গে হিন্দুধর্ম ত্যাগ করে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছিলেন বলে জানা যায়। এটি তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ছিল এবং এই বিষয়ে তিনি প্রকাশ্যে খুব বেশি আলোচনা করেননি।তবে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণের পরও তাঁর বলিউড কেরিয়ার এবং রিয়েলিটি টেলিভিশনে অংশগ্রহণ অব্যাহত ছিল। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি খ্রিস্টান ধর্মীয় পরিচয়ের সঙ্গেই ছিলেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
রিতেশ সিংয়ের সঙ্গে বিয়ে, তারপর সম্পর্কের অবসান
রাখি সাওয়ান্তের ব্যক্তিগত জীবনে আরেকটি বড় অধ্যায় আসে রিতেশ সিংকে বিয়ের মাধ্যমে। ব্রিটেন-ভিত্তিক এক অনাবাসী ভারতীয়কে গোপনে বিয়ে করেছিলেন বলে দাবি করেন রাখি।দীর্ঘ সময় ধরে তাঁর স্বামীকে নিয়ে ভক্তদের মধ্যে নানা প্রশ্ন ছিল। পরে 'বিগ বস ১৫'-এর মাধ্যমে রিতেশকে প্রকাশ্যে দেখা যায়। তবে সম্পর্ক বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। ২০২২ সালের শুরুতেই তাঁদের দাম্পত্য জীবনের ইতি ঘটে।
আদিল খানকে বিয়ে করে ইসলাম গ্রহণ
রিতেশের সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার কয়েক মাস পর রাখির জীবনে আসেন মহীশূরের ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত আদিল খান দুররানি।প্রতিবেদন অনুযায়ী, আদিলকে বিয়ে করার সময় রাখি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং নিজের নাম ফাতিমা রাখেন। সেই সময় তাঁকে বোরকা পরতেও দেখা যায়। ২০২২ সালের জুনে তাঁদের বিয়ে হয়েছিল বলে দাবি করা হয়। তবে বেশ কিছুদিন তাঁরা বিয়ের বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন।২০২৩ সালের জানুয়ারিতে রাখি সোশ্যাল মিডিয়ায় নিকাহের ছবি প্রকাশ করার পর তাঁদের বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসে। প্রথমে আদিল বিয়ের কথা অস্বীকার করলেও পরে তা স্বীকার করেন।
বিয়ের পর শুরু হয় বিতর্ক
বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসার কিছুদিনের মধ্যেই তাঁদের সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়। রাখির অভিযোগ ছিল, আদিল তাঁর কাছে নিজের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছিলেন। অন্যদিকে, তাঁদের দাম্পত্য সম্পর্ক নিয়ে একাধিক অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ সামনে আসে।২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাখি আদিলের বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসা, প্রতারণা, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক এবং অর্থ সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ আনেন। এরপর আদিলকে গ্রেফতার করা হয়।রাখি সংবাদমাধ্যমের সামনে তাঁর শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখিয়েও অভিযোগ করেছিলেন। যদিও এই ঘটনাকে ঘিরে দুই পক্ষের বক্তব্য এবং আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে বিতর্ক চলেছে।
শ্বশুরবাড়ির আপত্তির অভিযোগও সামনে আসে
রাখির দাবি অনুযায়ী, আদিলের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েও তাঁকে সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছিল। তাঁর ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে আদিলের পরিবারের আপত্তি ছিল বলেও অভিযোগ ওঠে।এই ঘটনাগুলি রাখি ও আদিলের সম্পর্কের জটিলতা আরও বাড়িয়ে দেয়।
এখন কোন ধর্মে রয়েছেন রাখি?
এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সাল পর্যন্ত রাখি সাওয়ান্ত তাঁর বর্তমান ধর্মীয় পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট করেননি।অর্থাৎ, তিনি বর্তমানে ইসলাম ধর্ম পালন করছেন, নাকি খ্রিস্টধর্মে ফিরে গিয়েছেন, অথবা ফের হিন্দুধর্মের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন—এ বিষয়ে তাঁর পক্ষ থেকে কোনও নিশ্চিত ঘোষণা পাওয়া যায়নি।তাই তাঁকে বর্তমানে নির্দিষ্ট কোনও ধর্মের অনুসারী হিসেবে নিশ্চিতভাবে উল্লেখ করা ঠিক হবে না। তাঁর নিজের বক্তব্যই এই বিষয়ে চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হওয়া উচিত।
Rakhi Sawant Religion: বলিউডের বিতর্কিত এবং জনপ্রিয় তারকা রাখি সাওয়ান্তের ব্যক্তিগত জীবন বরাবরই চর্চার কেন্দ্রে। মারাঠি হিন্দু পরিবারে জন্ম নেওয়া এই অভিনেত্রী জীবনে দু’বার ধর্ম পরিবর্তন করেছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। প্রথমে মায়ের সঙ্গে হিন্দুধর্ম ছেড়ে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেন তিনি। পরে আদিল খান দুররানিকে বিয়ে করার সময় ইসলাম গ্রহণ করে নিজের নাম ফাতিমা রাখেন বলে জানা যায়। তবে ২০২৬ সাল পর্যন্ত তাঁর বর্তমান ধর্মীয় পরিচয় সম্পর্কে রাখি নিজে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও স্পষ্ট ঘোষণা করেননি।










