বাঁকিপুর বিধানসভা উপনির্বাচনকে ঘিরে বিহারের রাজনীতিতে বক্তব্য-পাল্টা বক্তব্য আরও তীব্র হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বিজেপির জ্যেষ্ঠ নেতা রামকৃপাল যাদব জন সুরাজের প্রধান প্রশান্ত কিশোরকে লক্ষ্য করে প্রশ্ন তোলেন, “প্রশান্ত কিশোর কে?” তাঁর এই মন্তব্যের পর বাঁকিপুরের নির্বাচনী লড়াইকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
বাঁকিপুর উপনির্বাচনে প্রশান্ত কিশোরের সক্রিয় ভূমিকাকে কেন্দ্র করে বিজেপি এবং জন সুরাজের মধ্যে বাকযুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে। জন সুরাজ এই নির্বাচনকে নিজেদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরীক্ষার হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে, বিজেপি এই আসনে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে সর্বশক্তি প্রয়োগ করছে।
রামকৃপাল যাদব প্রশান্ত কিশোরের রাজনৈতিক পরিচয় এবং নির্বাচনী প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁকে লক্ষ্য করে মন্তব্য করেন। তাঁর এই বক্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচনী কৌশলবিদ হিসেবে পরিচিতি গড়ে তোলা এবং সরাসরি নির্বাচনী রাজনীতিতে অংশ নেওয়ার মধ্যে পার্থক্যের বার্তা তুলে ধরা। বিজেপি নেতার এই মন্তব্য নির্বাচনী বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে।
প্রশান্ত কিশোর দীর্ঘদিন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নির্বাচনী কৌশলবিদ হিসেবে কাজ করার পর বিহারের সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। তিনি জন সুরাজ দল প্রতিষ্ঠা করে বিহারে নিজস্ব রাজনৈতিক ভিত্তি গড়ে তোলার প্রচেষ্টা শুরু করেন। বাঁকিপুর উপনির্বাচনে তাঁর ভূমিকা নিয়ে শাসকপক্ষ এবং বিরোধী শিবির—উভয় পক্ষেই আলোচনা জোরদার হয়েছে।
বাঁকিপুর আসনটি পাটনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্র এবং দীর্ঘদিন ধরে এখানে বিজেপির প্রভাব রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জন সুরাজের সক্রিয়তাকে বিজেপির প্রচলিত রাজনৈতিক সমীকরণের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক নির্বাচনী বিশ্লেষণেও বিজেপি এবং প্রশান্ত কিশোরের শিবিরের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বাঁকিপুরকে কেন্দ্র করে প্রশান্ত কিশোরের নির্বাচনী সক্রিয়তা বৃদ্ধির পর বিজেপি নেতারা তাঁর বিরুদ্ধে বক্তব্য আরও জোরদার করেছেন। এর আগেও বিজেপি নেতারা জন সুরাজের রাজনৈতিক অবস্থান ও পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। বিজেপির রাজ্য সভাপতি সঞ্জয় সারাওগীও বাঁকিপুর প্রসঙ্গে প্রশান্ত কিশোরকে লক্ষ্য করে মন্তব্য করেছিলেন।
এই নির্বাচনে অন্যতম বড় প্রশ্ন হলো, প্রশান্ত কিশোর তাঁর রাজনৈতিক কৌশলকে কতটা ভোটে রূপান্তর করতে পারেন। নির্বাচনী কৌশলবিদ হিসেবে তাঁর পরিচিতি প্রতিষ্ঠিত হলেও নির্বাচনী লড়াইয়ে দলের সংগঠন, স্থানীয় কর্মী এবং বুথস্তরের নেটওয়ার্কের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বাঁকিপুরে জন সুরাজের সামনে এই চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
অন্যদিকে, বিজেপির সামনে নিজেদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থান অক্ষুণ্ণ রাখার চ্যালেঞ্জ রয়েছে। নতুন রাজনৈতিক বিকল্প এবং প্রার্থীদের কারণে সমর্থক ভোটে যাতে কোনো বিভাজন না ঘটে, তা নিশ্চিত করার দায়িত্বও দলের সামনে রয়েছে। এই কারণে বাঁকিপুরের নির্বাচনকে শুধু একটি আসনের লড়াই নয়, বিহারের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি মূল্যায়নের একটি নির্বাচন হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
বাঁকিপুরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বহুমুখী হলে ভোট বিভাজনের প্রভাব নির্বাচনের ফলে পড়তে পারে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং প্রার্থীরা নিজেদের সামাজিক সমীকরণ মজবুত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। জন সুরাজের কৌশল নতুন ভোটার এবং পরিবর্তনের রাজনীতিকে কেন্দ্র করে, অন্যদিকে বিজেপি নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি এবং প্রচলিত সমর্থনভিত্তির ওপর নির্ভর করছে।
এদিকে, প্রশান্ত কিশোরকে ঘিরে বিজেপি নেতাদের ধারাবাহিক বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে বিহারের নির্বাচনী রাজনীতিতে তাঁকে আর উপেক্ষা করা হচ্ছে না। রামকৃপাল যাদবের “প্রশান্ত কিশোর কে?” মন্তব্যকেও এই রাজনৈতিক সংঘাতের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাঁকিপুর উপনির্বাচনে শেষ পর্যন্ত ভোটাররা কাকে সমর্থন করবেন, তার সিদ্ধান্ত নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরই জানা যাবে। তবে আপাতত রামকৃপাল যাদবের মন্তব্য প্রশান্ত কিশোরকে ঘিরে বিজেপির আক্রমণ আরও তীব্র করেছে এবং বাঁকিপুরের নির্বাচনী লড়াইকে বিহারের বহুল আলোচিত রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার অন্যতম কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।









