রথযাত্রা ২০২৬: জগন্নাথ দর্শনে নবগ্রহের দোষ কাটে? জ্যোতিষশাস্ত্রে কোন অঙ্গ দর্শনে কোন গ্রহের প্রভাব কমে, জানুন প্রচলিত বিশ্বাস

রথযাত্রা ২০২৬ উপলক্ষে জেনে নিন জগন্নাথদেবের কোন অঙ্গ দর্শনের সঙ্গে কোন গ্রহের সম্পর্ক রয়েছে বলে জ্যোতিষশাস্ত্রে প্রচলিত বিশ্বাস। সূর্য, চন্দ্র, শনি, রাহু-কেতুসহ নবগ্রহ সম্পর্কে বিস্তারিত।

রথযাত্রা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বহু ভক্তের কাছে এটি আধ্যাত্মিক শক্তি ও আশীর্বাদ লাভের বিশেষ মুহূর্ত। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, জগন্নাথদেবের দর্শন জীবনের নানা বাধা দূর করতে সহায়ক। জ্যোতিষশাস্ত্রে আবার বলা হয়, ভগবানের বিভিন্ন অঙ্গ দর্শনের মাধ্যমে নবগ্রহের অশুভ প্রভাব প্রশমিত হতে পারে। কোন অঙ্গের সঙ্গে কোন গ্রহের সম্পর্ক রয়েছে, জেনে নিন বিস্তারিত।

রথযাত্রা ২০২৬: জগন্নাথ দর্শনে নবগ্রহের দোষ কাটে? জ্যোতিষশাস্ত্রে কোন অঙ্গ দর্শনে কোন গ্রহের প্রভাব কমে, জানুন প্রচলিত বিশ্বাস
জগন্নাথ দর্শনের মাহাত্ম্য: কী বলছে প্রচলিত বিশ্বাস?

হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাসে ভগবান জগন্নাথকে বিষ্ণুরই এক বিশেষ রূপ হিসেবে মানা হয়। রথযাত্রার সময় তাঁর দর্শন করলে পুণ্যলাভ হয় এবং জীবনের নানা বাধা কাটিয়ে ওঠার মানসিক শক্তি পাওয়া যায় বলে ভক্তদের বিশ্বাস।জ্যোতিষশাস্ত্রেও দাবি করা হয়, জন্মছকে গ্রহের অশুভ অবস্থানের প্রভাব কমাতে ভক্তিভরে জগন্নাথ দর্শন উপকারী হতে পারে। তবে এটি সম্পূর্ণ ধর্মীয় ও জ্যোতিষীয় বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে।

সূর্যের অশুভ প্রভাব কমাতে

প্রচলিত জ্যোতিষ মতে, ভগবান জগন্নাথের ডান চোখ দর্শন করলে সূর্যগ্রহের অশুভ প্রভাব প্রশমিত হতে পারে। বিশেষ করে সূর্যের মহাদশা বা দুর্বল অবস্থানের ক্ষেত্রে ভক্তরা এই দর্শনকে শুভ বলে মনে করেন।

রথযাত্রা ২০২৬: জগন্নাথ দর্শনে নবগ্রহের দোষ কাটে? জ্যোতিষশাস্ত্রে কোন অঙ্গ দর্শনে কোন গ্রহের প্রভাব কমে, জানুন প্রচলিত বিশ্বাস
চন্দ্রদোষের জন্য

চন্দ্রের নেতিবাচক প্রভাব দূর করতে বাম চোখ দর্শনের কথা উল্লেখ করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, এতে মানসিক অস্থিরতা ও আবেগজনিত সমস্যার প্রভাব কমতে পারে।

মঙ্গলের জন্য কোন অঙ্গ দর্শন করবেন?

জ্যোতিষশাস্ত্রে মঙ্গলকে শক্তি ও সাহসের গ্রহ বলা হলেও অশুভ অবস্থানে থাকলে নানা বাধা তৈরি করতে পারে বলে বিশ্বাস। এই কারণে জগন্নাথদেবের নাক দর্শনকে মঙ্গলদোষ প্রশমনের উপায় হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

বুধের শুভফল পেতে

জ্ঞান, শিক্ষা, বুদ্ধি ও যোগাযোগের গ্রহ হিসেবে পরিচিত বুধ। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, জগন্নাথদেবের মুখ ও ঠোঁট দর্শন করলে বুধের অশুভ প্রভাব কমতে পারে।

বৃহস্পতির কৃপা লাভের বিশ্বাস

বৃহস্পতি সৌভাগ্য, ধর্ম ও জ্ঞানের প্রতীক। জ্যোতিষ মতে, কপালের তিলক দর্শনের মাধ্যমে বৃহস্পতির অশুভ প্রভাব প্রশমিত হতে পারে বলে অনেকে বিশ্বাস করেন।

রথযাত্রা ২০২৬: জগন্নাথ দর্শনে নবগ্রহের দোষ কাটে? জ্যোতিষশাস্ত্রে কোন অঙ্গ দর্শনে কোন গ্রহের প্রভাব কমে, জানুন প্রচলিত বিশ্বাস
শুক্রদোষের ক্ষেত্রে

শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুসারে, জগন্নাথদেবের মুখমণ্ডলের চার দিক শুক্রগ্রহের প্রতীক। তাই শুক্রের অশুভ অবস্থান থাকলে এই অংশ দর্শনকে শুভ মনে করা হয়।

শনির সাড়ে সাতি ও ধাইয়ার সময়

শনির অশুভ সময়ে অনেকেই মানসিক ও আর্থিক সমস্যার আশঙ্কা করেন। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, জগন্নাথদেবের কৃষ্ণবর্ণ শরীর দর্শন করলে শনির নেতিবাচক প্রভাব কিছুটা কমতে পারে।

রাহু-কেতুর অশুভ প্রভাব কমানোর বিশ্বাস

জ্যোতিষশাস্ত্রে রাহু ও কেতুকে ছায়াগ্রহ বলা হয়। প্রচলিত মতে, জগন্নাথদেবের সোনালি মুকুট দর্শন করলে রাহু-কেতুর অশুভ প্রভাব প্রশমিত হওয়ার আশীর্বাদ পাওয়া যায়।

রথযাত্রা ২০২৬: জগন্নাথ দর্শনে নবগ্রহের দোষ কাটে? জ্যোতিষশাস্ত্রে কোন অঙ্গ দর্শনে কোন গ্রহের প্রভাব কমে, জানুন প্রচলিত বিশ্বাস
রথযাত্রার সময় ভগবান জগন্নাথের দর্শনকে ঘিরে ভক্তদের মধ্যে বিশেষ উৎসাহ থাকে। জ্যোতিষশাস্ত্রের প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, জগন্নাথদেবের বিভিন্ন অঙ্গ দর্শনের সঙ্গে নবগ্রহের অশুভ প্রভাব হ্রাসের সম্পর্ক রয়েছে। তবে এগুলি ধর্মীয় ও জ্যোতিষীয় বিশ্বাসের অংশ, বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয়।

Leave a comment