RBI MPC সর্বসম্মতিক্রমে রেপো রেট ৫.২৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখল

রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার মুদ্রানীতি কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে রেপো রেট ৫.২৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি, মার্জিনাল স্ট্যান্ডিং ফ্যাসিলিটি, ব্যাঙ্ক রেট এবং নীতিগত অবস্থানেও কোনও পরিবর্তন করা হয়নি।

রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)-র মুদ্রানীতি কমিটি (MPC) তাদের সর্বশেষ বৈঠকে রেপো রেট ৫.২৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা বৈঠক-পরবর্তী ঘোষণায় জানান, ছয় সদস্যের কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়বে সেই সব ঋণগ্রহীতার ওপর, যাঁরা হোম লোন, গাড়ির ঋণ বা ব্যক্তিগত ঋণ নিয়েছেন, পাশাপাশি ভবিষ্যতে ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন এমন ব্যক্তিদের ওপরও।

RBI রেপো রেটে কোনও পরিবর্তন না আনায় আপাতত অধিকাংশ ঋণগ্রহীতার মাসিক কিস্তি (EMI)-তে কোনও পরিবর্তন হবে না। যাঁদের ঋণ ফ্লোটিং সুদের হারের সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের ক্ষেত্রেও তাৎক্ষণিকভাবে EMI বা সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা নেই। কোনও ব্যাঙ্ক যদি ইতিমধ্যেই তাদের ঋণের সুদের হার রেপো রেটের সঙ্গে যুক্ত করে থাকে, তাহলেও বর্তমান সিদ্ধান্তের ফলে গ্রাহকদের অতিরিক্ত আর্থিক বোঝার মুখে পড়তে হবে না।

রেপো রেট হল সেই সুদের হার, যার ভিত্তিতে বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলি RBI-এর কাছ থেকে স্বল্পমেয়াদি তহবিল ধার করে। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক রেপো রেট বাড়ালে ব্যাঙ্কগুলির তহবিল সংগ্রহের খরচ বেড়ে যায়। এর ফলে ব্যাঙ্কগুলি হোম লোন, অটো লোন এবং অন্যান্য ঋণের সুদের হার বাড়াতে পারে। বিপরীতে, রেপো রেট কমলে ঋণ সস্তা হয় এবং EMI কমতে পারে। এবার রেপো রেট স্থির রাখার সিদ্ধান্ত থেকে ইঙ্গিত মিলেছে যে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক বর্তমানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে চায়।

RBI-এর সর্বশেষ মুদ্রানীতি অনুযায়ী প্রধান সুদের হারগুলি হল:

  • রেপো রেট: ৫.২৫%
  • স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (SDF): ৫.০০%
  • মার্জিনাল স্ট্যান্ডিং ফ্যাসিলিটি (MSF): ৫.৫০%
  • ব্যাঙ্ক রেট: ৫.৫০%
  • নীতিগত অবস্থান (Policy Stance): নিউট্রাল

এই হারগুলিতে কোনও পরিবর্তন করা হয়নি।

RBI-এর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংকট, জ্বালানি মূল্যের ওঠানামা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা নীতিনির্ধারকদের সতর্ক অবস্থান গ্রহণে উৎসাহিত করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখতে চায়, যাতে প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়া যায়।

অধিকাংশ অর্থনীতিবিদ আগেই অনুমান করেছিলেন যে এই বৈঠকে সুদের হারে পরিবর্তনের সম্ভাবনা সীমিত ছিল এবং RBI সেই দিকেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা বলেন, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও ভারতে খুচরা মূল্যস্ফীতির হার এখনও কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের নির্ধারিত লক্ষ্যের মধ্যে রয়েছে। তবে RBI ইঙ্গিত দিয়েছে যে চলতি বছরের তৃতীয় ত্রৈমাসিকে মূল্যস্ফীতির হার বাড়তে পারে এবং তা ঊর্ধ্ব সহনশীলতা সীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। তা সত্ত্বেও বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

আগামী মাসগুলিতে মূল্যস্ফীতির ওপর নজরদারি RBI-এর নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে থাকবে। সুদের হার স্থিতিশীল রাখার ফলে বিনিয়োগকারী ও আর্থিক বাজারের জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত তৈরি হয়েছে। এর ফলে ব্যবসায়ী, শিল্পক্ষেত্র এবং ভোক্তাদের নিকট ভবিষ্যতের আর্থিক পরিকল্পনা করতে সুবিধা হবে।

 

Leave a comment