দলা দলা চুল পড়ছে? শরীরে এই ৫ ভিটামিনের ঘাটতি থাকলেই বাড়তে পারে টাকের ঝুঁকি, জেনে নিন সমাধান

ভিটামিন ডি, এ, ই, সি ও বি৬-এর ঘাটতিতে বাড়তে পারে চুল পড়া ও টাকের ঝুঁকি। নতুন চুল গজাতে কোন খাবার খেতে হবে এবং কীভাবে ভিটামিনের ঘাটতি পূরণ করবেন, জেনে নিন।

প্রতিদিন চিরুনি চালালেই যদি মুঠো মুঠো চুল উঠে আসে, তাহলে শুধু প্রসাধনী বদলালেই সমাধান হবে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক ক্ষেত্রেই চুল পড়ার মূল কারণ লুকিয়ে থাকে শরীরের ভেতরে। সুষম খাদ্যের অভাব এবং গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিনের ঘাটতি চুলের স্বাস্থ্যকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। সময়মতো সেই ঘাটতি পূরণ না হলে চুল পাতলা হয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে টাক পড়ার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

ভিটামিন ডি-এর অভাবে দ্রুত বাড়তে পারে চুল ঝরা

ভিটামিন ডি শরীরে নতুন হেয়ার ফলিকল তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই ভিটামিনের ঘাটতি থাকলে চুল দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সহজেই ভেঙে যায়। অনেকের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত চুল পড়া, চুল পাতলা হয়ে যাওয়া এবং অকালপক্বতার সমস্যাও দেখা দিতে পারে। সূর্যের আলো, ডিমের কুসুম, চর্বিযুক্ত মাছ এবং ফোর্টিফায়েড দুগ্ধজাত খাবার ভিটামিন ডি-এর ভালো উৎস।

ভিটামিন এ কম থাকলে ধীর হয়ে যায় নতুন চুল গজানো

মাথার ত্বকে প্রাকৃতিক তেল উৎপাদনে সাহায্য করে ভিটামিন এ। এর অভাবে চুল শুষ্ক ও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। শুধু তাই নয়, চুল পড়ার পরে নতুন চুল গজানোর প্রক্রিয়াও ধীর হয়ে যায়। খুশকির সমস্যাও বাড়তে পারে। গাজর, মিষ্টি আলু, কুমড়ো, পালং শাক এবং আমের মতো খাবারে প্রচুর ভিটামিন এ পাওয়া যায়।

ভিটামিন ই-এর ঘাটতিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় চুলের গোড়া

ভিটামিন ই শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে। এর অভাবে চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে পড়ে, চুল দ্রুত ঝরতে শুরু করে এবং ডগা ফেটে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়। বাদাম, সূর্যমুখীর বীজ, আভোকাডো এবং বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ তেল ভিটামিন ই-এর সমৃদ্ধ উৎস।

ভিটামিন সি-এর অভাবে বাড়তে পারে চুলের ক্ষতি

ভিটামিন সি কোলাজেন উৎপাদনে সাহায্য করে, যা চুলের গঠনকে মজবুত রাখে। শরীরে এই ভিটামিনের ঘাটতি হলে চুল শুষ্ক হয়ে যায়, ডগা ফেটে যায় এবং অতিরিক্ত চুল পড়তে পারে। লেবু, কমলালেবু, আমলকি, পেয়ারা এবং ক্যাপসিকামে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে।

ভিটামিন বি৬ নতুন চুল গজাতে গুরুত্বপূর্ণ

ভিটামিন B6 বা পাইরিডক্সিন চুলের বৃদ্ধি এবং প্রোটিন বিপাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই ভিটামিনের ঘাটতি থাকলে চুল দ্রুত পাতলা হয়ে যেতে পারে এবং নতুন চুল গজানোর হার কমে যেতে পারে। কলা, মুরগির মাংস, মাছ, ছোলা এবং আলু থেকে সহজেই ভিটামিন বি৬ পাওয়া যায়।

শুধু ভিটামিন নয়, প্রোটিন ও আয়রনের দিকেও নজর দিন

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে শুধু ভিটামিনই যথেষ্ট নয়। পর্যাপ্ত প্রোটিন, আয়রন, জিঙ্ক এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডও প্রয়োজন। কারণ চুল মূলত প্রোটিন দিয়ে তৈরি। তাই ডায়েটে ডিম, মাছ, ডাল, বাদাম, সবুজ শাকসবজি এবং ফল নিয়মিত রাখা জরুরি।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

যদি কয়েক মাস ধরে অস্বাভাবিক হারে চুল পড়তে থাকে, মাথার নির্দিষ্ট অংশে টাক দেখা দেয় বা নতুন চুল গজানো বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে রক্ত পরীক্ষা করে ভিটামিনের ঘাটতি নির্ণয় করা যেতে পারে।

চুল পড়া এখন নারী-পুরুষ নির্বিশেষে এক বড় সমস্যা। শুধু তেল বা শ্যাম্পু নয়, এর পিছনে থাকতে পারে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিনের ঘাটতি। ভিটামিন ডি, এ, ই, সি এবং বি৬-এর অভাবে চুল পাতলা হয়ে যেতে পারে, বাড়তে পারে চুল ঝরা। কোন ভিটামিনের অভাবে কী সমস্যা হয় এবং কোন খাবার খেলে নতুন চুল গজাতে সাহায্য মিলতে পারে, জেনে নিন বিস্তারিত।

Leave a comment