একদিন ‘অযোগ্য’ বলে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন! পরে সেই রেখাকেই নায়িকা করলেন সঞ্জয় খান, সামনে এল বলিউডের অজানা কাহিনি

বলিউডে প্রথমদিকে চেহারার কারণে রেখার সঙ্গে ফটোশুটে রাজি হননি সঞ্জয় খান। কীভাবে জারিন খানের উদ্যোগে বদলে যায় সেই সিদ্ধান্ত, বহু বছর পর জানালেন ফারাহ খান আলি।

বলিউডে সাফল্যের পথ কখনওই সহজ ছিল না অভিনেত্রী রেখার। আজ তিনি সৌন্দর্য, অভিনয় এবং ব্যক্তিত্বের প্রতীক হলেও, একসময় তাঁর অতিরিক্ত ওজন ও সাধারণ চেহারা নিয়েই উঠেছিল প্রশ্ন। এমনকি অভিনেতা সঞ্জয় খান প্রথমদিকে তাঁর সঙ্গে একটি ফটোশুট করতেও রাজি হননি। সম্প্রতি সঞ্জয় খানের মেয়ে ফারাহ খান আলির মুখে উঠে এসেছে সেই অজানা অধ্যায়, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন তাঁর মা জারিন খান।

শুরুটা ছিল প্রত্যাখ্যানের মধ্যেই

মুম্বইয়ে প্রথম আসার সময় রেখা এখনও বলিউডে নিজের জায়গা তৈরি করতে পারেননি। সেই সময় তাঁর চেহারা নিয়ে নানা মন্তব্য শুনতে হতো। ফারাহ খান আলির কথায়, সঞ্জয় খান প্রথমে রেখার সঙ্গে ফটোশুট করতে অনিচ্ছুক ছিলেন, কারণ তিনি মনে করেছিলেন, ক্যামেরার সামনে রেখা ততটা আকর্ষণীয় নন।

জারিন খানের জেদই বদলে দিল সবকিছু

ঘটনার মোড় ঘুরিয়ে দেন সঞ্জয় খানের স্ত্রী জারিন খান। তিনি বারবার স্বামীকে বোঝাতে থাকেন যে, রেখার চোখ, মুখের অভিব্যক্তি এবং পর্দায় উপস্থিতি একদিন তাঁকে অনেক দূর নিয়ে যাবে। তাঁর অনুরোধেই শেষ পর্যন্ত অনিচ্ছাসত্ত্বেও ফটোশুটে রাজি হন সঞ্জয় খান।

একটি ফটোশুটেই পাল্টে যায় ধারণা

ফটোশুটের ছবি তৈরি হওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। ছবিতে রেখার উপস্থিতি দেখে সঞ্জয় খান নিজেই মুগ্ধ হন। এরপরই তাঁর সঙ্গে সিনেমায় কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই ঘটনাই রেখার হিন্দি চলচ্চিত্রজীবনের গুরুত্বপূর্ণ মোড় হয়ে ওঠে।

'হাসিনো কা দেবতা' দিয়ে নতুন অধ্যায়

পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে 'হাসিনো কা দেবতা' ছবিতে একসঙ্গে অভিনয় করেন সঞ্জয় খান ও রেখা। এই ছবিকে রেখার প্রথমদিকের গুরুত্বপূর্ণ হিন্দি ছবিগুলির অন্যতম হিসেবে ধরা হয়। এর আগে 'সাওয়ান ভাদোঁ'-এর মাধ্যমে দর্শকদের নজর কেড়েছিলেন তিনি, কিন্তু পরবর্তী সাফল্যের পথ আরও মজবুত করে এই ছবিই।

রেখার মুখেই কৃতজ্ঞতার স্বীকারোক্তি

ফারাহ খান আলি জানান, তাঁর মা জারিন খানের মৃত্যুর পর সমবেদনা জানাতে তাঁদের বাড়িতে গিয়েছিলেন রেখা। সেই সময় আবেগঘন মুহূর্তে অভিনেত্রী নাকি বলেছিলেন, "আমি আজ সিনেমায় আছি, তার বড় কারণ তোমার মা।" এই একটি মন্তব্যই জারিন খানের অবদানের গুরুত্ব স্পষ্ট করে দেয়।

আরও এক অভিনেত্রীর ক্যারিয়ারেও ছিল সঞ্জয় খানের ভূমিকা

ফারাহ আরও জানান, শুধু রেখাই নন, অভিনেত্রী পারভীন বাবির ক্যারিয়ারের শুরুতেও সঞ্জয় খানের গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। তাঁর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাওয়ার পরই পারভীন বাবিও বলিউডে নিজের পরিচিতি তৈরি করতে সক্ষম হন।

আজ যাঁকে বলিউডের ‘এভারগ্রিন ডিভা’ বলা হয়, সেই রেখাকে ক্যারিয়ারের শুরুতে চেহারার জন্য প্রত্যাখ্যান করেছিলেন অভিনেতা সঞ্জয় খান। তবে তাঁর স্ত্রী জারিন খানের একরোখা সমর্থনই বদলে দেয় পরিস্থিতি। বহু বছর পর সেই অজানা স্মৃতি সামনে আনলেন সঞ্জয় খানের মেয়ে ফারাহ খান আলি।

Leave a comment