২২ গজে তাঁর ব্যাটিং নিয়ে গোটা বিশ্ব মুগ্ধ হয়েছে। তবে ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর সচিন তেন্ডুলকরের দ্বিতীয় ইনিংসটাও কম চমকপ্রদ নয়। নিয়মিত টিভি শো করেন না, ধারাভাষ্যকার হিসেবেও দেখা যায় না। তবুও ব্যবসা ও বিনিয়োগের কৌশলে নিজের সম্পত্তির পরিমাণ বহুগুণ বাড়িয়েছেন ‘মাস্টার ব্লাস্টার’।
অবসরের পরও থেমে থাকেননি সচিন
২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানান সচিন তেন্ডুলকর। এরপর শুধুমাত্র ক্রিকেট থেকে উপার্জন করা অর্থের উপর নির্ভর না করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগের দিকে নজর দেন তিনি। স্পোর্টস টেক, ক্লিন এনার্জি, কনজিউমার ব্র্যান্ড এবং রিয়েল এস্টেট—বিভিন্ন ক্ষেত্রকে নিজের আর্থিক পোর্টফোলিওর অংশ করেছেন।
প্রায় ১,৪০০ কোটি টাকার সম্পত্তি!
বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ২০২৬ সালে সচিনের মোট সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ১,৪০০ কোটি টাকা। ক্রিকেট মাঠের আয় ছাড়াও বিজ্ঞাপন এবং ব্যবসায়িক বিনিয়োগ তাঁর সম্পদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস বলে উল্লেখ করা হয়েছে।অর্থাৎ, অবসর নেওয়ার পর আয় কমে যাওয়ার বদলে সম্পদকে কাজে লাগিয়ে নতুন আয়ের রাস্তা তৈরি করেছেন তিনি।
BMW থেকে Adidas, একাধিক বড় ব্র্যান্ডের সঙ্গে সম্পর্ক
সচিনের ব্র্যান্ড ভ্যালুও তাঁর সম্পদের পিছনে বড় ভূমিকা রেখেছে। BMW, Adidas এবং Pepsi-র মতো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিজ্ঞাপনী সম্পর্ক রয়েছে তাঁর। এছাড়াও ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে Apollo Tyres-এর সঙ্গে তাঁর চুক্তির কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।বিভিন্ন রিপোর্টের দাবি অনুযায়ী, বিজ্ঞাপনের জন্য তাঁর পারিশ্রমিকও বিপুল। যদিও এই অঙ্ক বিভিন্ন সূত্রে আলাদা হতে পারে।
২০২৪-এ ‘Ten x You’ প্ল্যাটফর্ম
ব্যবসায়িক উদ্যোগের ক্ষেত্রেও নতুন পদক্ষেপ করেছেন সচিন। ২০২৪ সালে কনজিউমার ব্র্যান্ডগুলিকে বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ‘Ten x You’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম চালু করার কথা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।এই উদ্যোগের সঙ্গে ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন নতুন খাতে বিনিয়োগের বিষয়টিও উঠে এসেছে। প্রতিরক্ষা ও ক্লিন এনার্জির মতো ক্ষেত্রেও সংস্থাটির বিস্তারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
বান্দ্রার বাংলোর দামই ১০০-১৫০ কোটি!
সচিনের সম্পদের বড় অংশ জুড়ে রয়েছে বিলাসবহুল রিয়েল এস্টেট। মুম্বইয়ের বান্দ্রায় ১৯-এ পেরি ক্রস রোডের বাংলোটি একসময় ‘দোরাব ভিলা’ নামে পরিচিত ছিল। প্রায় ৬,০০০ বর্গফুটের এই সম্পত্তির আনুমানিক মূল্য ১০০ থেকে ১৫০ কোটি টাকা বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।বাংলোটিতে বড় বেসমেন্ট এবং বিলাসবহুল সাজসজ্জার ব্যবস্থাও রয়েছে।
মুম্বই থেকে আলিবাগ, লন্ডনেও সম্পত্তি
শুধু বান্দ্রার বাংলোতেই থেমে নেই সচিনের রিয়েল এস্টেট পোর্টফোলিও। বান্দ্রা-কুর্লা কমপ্লেক্সে প্রিমিয়াম অ্যাপার্টমেন্ট, দক্ষিণ মুম্বইয়ের প্রভাদেবীতে আবাসন, আলিবাগে কোস্টাল রিট্রিট এবং লন্ডনে একটি বাড়ি থাকার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।এছাড়াও সম্প্রতি লোনাভালায় প্রায় ৭০ কোটি টাকা মূল্যের জমি কেনার কথাও সামনে এসেছে।
ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর পরও আর্থিক দিক থেকে থেমে থাকেননি সচিন তেন্ডুলকর। টিভি শো বা নিয়মিত ধারাভাষ্য থেকে দূরে থেকেও একাধিক ব্যবসা, বিনিয়োগ, ব্র্যান্ড এনডোর্সমেন্ট এবং বিলাসবহুল সম্পত্তির মাধ্যমে বিপুল সম্পদ গড়েছেন তিনি। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১,৪০০ কোটি টাকা।






