লোকসংস্কৃতি, মানবতাবাদ আর আধ্যাত্মিকতার সুরে মোড়া এক সন্ধ্যা। সম্প্রতি কলকাতার রবীন্দ্র সদনে অনুষ্ঠিত ‘সহজিয়া উৎসব ২০২৫’-এ মিলিত হল শহর ও গ্রামের শিল্পীসমাজ। সেই মঞ্চেই বিশেষ সম্মানে ভূষিত হলেন নগর বাউল রঞ্জন প্রসাদ এবং কিংবদন্তি ফকিরি সাধক মনসুর ফকির।
সহজিয়ার দর্শনে সম্মাননা
হ্যারি বেলাফন্টের ‘Jamaican Farewell’-এর বিখ্যাত বাংলা রূপ ‘পথের প্রান্তে ওই সুদূর গাঁয়ে’-এর গীতিকার ও কণ্ঠশিল্পী রঞ্জন প্রসাদ এবং ফকিরি গানের প্রবাদপ্রতিম শিল্পী মনসুর ফকির—এই দুই ব্যক্তিত্বের হাতে তুলে দেওয়া হয় এবারের ‘সহজিয়া সম্মান’। দর্শকাসন ভরা করতালিতে মুহূর্তটি হয়ে ওঠে আবেগঘন।

মঞ্চে সম্প্রীতির সুর
উৎসবের শুরুতেই মনসুর ফকিরের গৌর বন্দনায় বেঁধে যায় সন্ধ্যার আবহ। এরপর গৌতমদাস বাউলের কণ্ঠে শোনা যায় ‘মুর্শিদ খোলো খোলো দোর’। এক মুসলিম ফকিরের গৌর বন্দনা ও এক সনাতনী বাউলের নবী-মুর্শিদ ভজনা—সহজিয়া উৎসব ফের দেখিয়ে দিল ধর্ম ও জাতের ঊর্ধ্বে মানবতার জয়।
লোক থেকে রক—একই মঞ্চে
এই উৎসবে যেমন উপস্থিত ছিলেন ক্যাকটাস ব্যান্ডের সিধু, তেমনই জয়তী চক্রবর্তীর কণ্ঠে ভেসে আসে লালনের ‘বাড়ির কাছে আরশিনগর’। মুম্বাই থেকে আগত ঋতিকা সাহানী ও পিলু বিদ্যার্থীর যুগল পরিবেশনা, শিশু শিল্পী তানি-মুনি ও হৃদিস্রোতার গান—সব মিলিয়ে মঞ্চ হয়ে ওঠে প্রজন্মের সেতুবন্ধন।

অঘোরী নৃত্যে লোকজ ঐতিহ্যের ছোঁয়া
সন্ধ্যার অন্যতম আকর্ষণ ছিল দেব চৌধুরীর নির্দেশনায় ‘সহজ সুরের পাঠশালা’র পরিবেশনায় গান ও কান্দি, মুর্শিদাবাদ থেকে আসা শিল্পীদের অঘোরী নৃত্য। গাজন উৎসবের লোকজ নৃত্যরীতিকে নাট্যরূপে মঞ্চে তুলে ধরা হয়, যা দর্শকদের কাছে নতুন ভাবনার দুয়ার খুলে দেয়।

সম্মান থেকে সমবেত গান
রঞ্জন প্রসাদকে শ্রদ্ধা জানিয়ে পুরো প্রেক্ষাগৃহ একসঙ্গে গেয়ে ওঠে—‘পথের প্রান্তে ওই সুদূর গাঁয়’। সেই মুহূর্তে উৎসব যেন শুধু মঞ্চে সীমাবদ্ধ না থেকে দর্শকদের হৃদয়ে মিশে যায়।
কলকাতার রবীন্দ্র সদনে অনুষ্ঠিত হল ‘সহজিয়া উৎসব ২০২৫’। নগর বাউল রঞ্জন প্রসাদ ও ফকিরি সাধক মনসুর ফকির পেলেন ‘সহজিয়া সম্মান’। গান, নৃত্য ও লোকধারার মিলনে উৎসব হয়ে উঠল সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।











