শীত পড়লেই অনেকের শরীরে নীরবে বাসা বাঁধে এক বিপজ্জনক সমস্যা—উচ্চ রক্তচাপ। বাইরে ঠান্ডা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের ভেতরেও চাপ বাড়ে ধমনীর উপর। বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতকালেই হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে।
শীতে কেন বাড়ে রক্তচাপ?
শীতকালে পরিবেশের তাপমাত্রা কমে গেলে শরীর নিজেকে উষ্ণ রাখতে ধমনী ও শিরাগুলিকে সংকুচিত করে। এর ফলে রক্ত চলাচলের পথ সরু হয়ে যায়। স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহ বজায় রাখতে তখন হৃদপিণ্ডকে অতিরিক্ত জোরে কাজ করতে হয়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে রক্তচাপে।

কারা বেশি ঝুঁকিতে?
যাঁদের আগে থেকেই হাইপারটেনশন, হার্টের রোগ, ডায়াবেটিস বা কোলেস্টেরলের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই চাপ হঠাৎ বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছতে পারে। অনিয়মিত জীবনযাপন বা ওষুধে অবহেলা করলে ঝুঁকি আরও বাড়ে।

চা-কফি ও অ্যালকোহলে সাবধান
চিকিৎসকদের মতে, শীতকালে অতিরিক্ত চা-কফি বা ক্যাফিনযুক্ত পানীয় রক্তচাপ বাড়াতে পারে। দিনে ৫-৬ কাপ কফি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। অ্যালকোহলও পরিমিত মাত্রার বাইরে গেলে বিপজ্জনক।

কী খাবেন, কী খাবেন না?
চিকিৎসক বিশ্বজিৎ মজুমদারের পরামর্শ অনুযায়ী, আদা-দারচিনি ফোটানো জল, তুলসি পাতার চা শীতে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। পাশাপাশি লবণ কম খাওয়া ও পর্যাপ্ত জল পান করাও জরুরি।
রক্তচাপের ওষুধ কখন খাবেন?
যাঁদের হৃদরোগ নেই, তাঁরা সকালে ৬টা থেকে ১০টার মধ্যে রক্তচাপের ওষুধ খেলে উপকার পান। এতে স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিনের ক্ষরণ কম হয়। তবে যাঁদের হার্টের সমস্যা বা দীর্ঘদিনের হাইপারটেনশন রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে বিকেল বা সন্ধ্যার পর ওষুধ নেওয়াই বেশি কার্যকর হতে পারে—অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শে।

শীতকালে হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায় বহু মানুষের মধ্যে। বিশেষ করে যাঁদের আগে থেকেই হাইপারটেনশন বা হৃদরোগ রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি। ঠান্ডায় রক্তচাপ বাড়ার কারণ ও কীভাবে সতর্ক থাকবেন—জানালেন চিকিৎসক।













