ডেঙ্গু প্রভাব সল্টলেক: শীতের আবহাওয়া বাড়লেও সল্টলেকের ডেঙ্গুর প্রভাব থেমে নেই। শেষ দুই সপ্তাহে ৫৫ নতুন আক্রান্তের পর মোট আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে ৩৯২-এ। স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, তাপমাত্রা কমার সঙ্গে সঙ্গে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে শিথিলতা হয়েছে এবং অনেক ব্লকে রাস্তার ধারের ডাস্টবিন ও জমে থাকা পানি পরিষ্কার হয়নি। স্বাস্থ্য ভবন পরিস্থিতি বিবেচনা করে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত কড়া নজরদারি এবং ‘ডোর-টু-ডোর’ জরিপ চালানোর নির্দেশ দিয়েছে, যাতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

নভেম্বরে কেন বাড়ছে ডেঙ্গু?
সল্টলেকের বিভিন্ন ব্লক—FE, BD, FD, AK, EE, করুণাময়ী ও বৈশাখী—এ সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ধরা পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুর্গাপুজোর পর হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত এবং ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে তাপমাত্রা এডিস এগিপ্টাই মশার বংশবৃদ্ধির জন্য উপযুক্ত ছিল।পতঙ্গ বিশেষজ্ঞ দেবাশিস বিশ্বাসের মতে, তাপমাত্রা কম না হওয়া পর্যন্ত সতর্কতা শিথিল করলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
স্থানীয়দের অভিযোগ—পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা শিথিল
কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেছেন, রাস্তার ধারে ডাস্টবিন উপচে পড়ছে এবং বাড়ি–বাড়ি জমে থাকা জল খুঁজে বের করার অভিযান কমে গেছে। ফাঁকা বাড়ি, প্লট এবং আবাসনে পর্যাপ্ত নজরদারি নেই, যার ফলে ওই এলাকায় মশার বংশবৃদ্ধি বেড়েছে।সি কে ব্লকের মণতোষ চৌধুরীর মতে, খাল সংলগ্ন এলাকায় নিয়মিত অ্যান্টি-লার্ভাল ব্যবস্থা না হওয়ায় মশার সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

নগরcorporation পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা—অভিযোগ উড়িয়ে দিল কর্তৃপক্ষ
বিধাননগর পুরনিগমের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জমে থাকা পানি খুঁজে ‘ডোর-টু-ডোর’ অভিযান এখনও চলছে। আক্রান্তদের খবর পাওয়া মাত্রই বিশেষ দল পাঠানো হচ্ছে এবং স্প্রে করা হচ্ছে তেল।মেয়র পরিষদ (স্বাস্থ্য) বাণীব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, গত বছরের তুলনায় পরিস্থিতি অনেকটাই ভালো। তবে বাসিন্দাদের অসচেতনতা থাকলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।

সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো
স্বাস্থ্য বিভাগের রিপোর্ট অনুযায়ী:
FE Block
BD Block
FD Block
AK Block
EE Block
করুণাময়ী
বৈশাখী
খালসংলগ্ন অঞ্চল ও ফাঁকা বাড়িগুলোকেই সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

সল্টলেকে নভেম্বর মাসেও ডেঙ্গুর প্রভাবে মানুষকে সতর্ক থাকতে হচ্ছে। শেষ দুই সপ্তাহে নতুন করে ৫৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩৯২। স্থানীয় বাসিন্দারা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় গাফিলতির অভিযোগ করেছেন। স্বাস্থ্য বিভাগ ডিসেম্বর পর্যন্ত ‘ডোর-টু-ডোর’ নজরদারি চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন।









