উত্তরপ্রদেশ রাজ্যসভা নির্বাচনে তৃতীয় প্রার্থী দেবে না সপা, ১০ আসনেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন

উত্তরপ্রদেশে রাজ্যসভা নির্বাচনে তৃতীয় প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সপা। অখিলেশ যাদবের ৪০৩টি বিধানসভা আসনে নজর দেওয়ার বক্তব্যের মধ্যে রাজ্যসভার ১০টি আসনেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচনের পথ পরিষ্কার হয়েছে।

উত্তরপ্রদেশে রাজ্যসভা নির্বাচনে তৃতীয় প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সমাজবাদী পার্টি (সপা)। দলের সভাপতি অখিলেশ যাদব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে বলেছেন, এখন দলের নজর তিনটি আসনের দিকে নয়, বরং ৪০৩টি বিধানসভা আসনের দিকে। এর ফলে রাজ্যসভার ১০টি আসনেই প্রার্থীদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পথ পরিষ্কার হয়েছে। সপার পক্ষে রামগোপাল যাদব এবং ধনঞ্জয় পরিমল নাথওয়ানি ইতিমধ্যেই মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।

অখিলেশ যাদব এর আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, দলের হাতে পর্যাপ্ত সংখ্যক বিধায়ক থাকলে তৃতীয় প্রার্থীও নির্বাচনে নামানো হতে পারে। বিধায়কদের সমর্থনের ভিত্তিতে দল রাজ্যসভা নির্বাচনের সমীকরণ তৈরি করছিল।

তবে পরে সম্ভাব্য ক্রস ভোটিং নিয়ে দলের উদ্বেগ বাড়ে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যেসব বিধায়কের সমর্থন নিয়ে সপা নিশ্চিত ছিল না, তাঁদের মধ্যে রাকেশ সিং, অভয় সিং এবং মনোজ পাণ্ডের নাম ছিল। অভয় সিং ও রাকেশ সিংয়ের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সঙ্গে সাক্ষাতের খবর প্রকাশ্যে আসার পর তৃতীয় প্রার্থীর জয় নিয়ে সপার অনিশ্চয়তা বাড়ে।

এই পরিস্থিতিতে দল তৃতীয় প্রার্থী দেওয়ার ঝুঁকি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। অখিলেশ যাদবের বক্তব্যকে ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের কৌশলের সঙ্গেও যুক্ত করে দেখা হচ্ছে।

উত্তরপ্রদেশে রাজ্যসভার মোট ১০টি আসনের জন্য নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। সপার পক্ষে রামগোপাল যাদব এবং ধনঞ্জয় পরিমল নাথওয়ানি মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। অন্যদিকে, বিজেপির আট প্রার্থীও মনোনয়ন জমা দিতে চলেছেন।

সপা তৃতীয় প্রার্থী না দেওয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিস্থিতি আর থাকছে না। ফলে ১০ জন প্রার্থীরই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়া নির্ধারিত বলে মনে করা হচ্ছে। বিজেপির প্রার্থীদের মধ্যে কানপুরের প্রকাশ পালও রয়েছেন, যাঁকে দল রাজ্যসভার প্রার্থী করেছে।

এর মধ্যে প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ কৌশল কিশোরের ছেলে এবং বিজেপি অনুসূচিত মোর্চার রাজ্য সহ-সভাপতি বিকাশ কিশোরের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বিজেপির রাজ্যসভা প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশের পর তিনি লিখেছিলেন, যে পরিবারে বাবা-মাকে সম্মান করা হয় না, সেখানে থাকা উচিত নয়।

এই পোস্টকে তাঁর বাবা কৌশল কিশোর রাজ্যসভার টিকিট না পাওয়ার সঙ্গে যুক্ত করে দেখা হয়। তবে বিকাশ কিশোর এটিকে তাঁর ব্যক্তিগত মতামত বলে জানিয়েছেন এবং বিজেপির প্রতি ক্ষোভের কথা অস্বীকার করেছেন। ফলে তাঁর বক্তব্যকে দলের আনুষ্ঠানিক অবস্থান হিসেবে দেখা যায় না।

কানপুর থেকে বিজেপির রাজ্যসভা প্রার্থী হওয়া প্রকাশ পাল সোমবার রাতে কানপুরে পৌঁছে মন্দিরে দর্শন করেন এবং হনুমানজিকে লাড্ডু অর্পণ করেন। এরপর তিনি সপার রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করেন।

প্রকাশ পাল দাবি করেন, বিজেপিতে বিভিন্ন শ্রেণি ও সমাজের মানুষকে প্রতিনিধিত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি সপার পিডিএ নিয়েও কটাক্ষ করেন এবং অভিযোগ করেন, রাজ্যসভা প্রার্থী বাছাইয়ে দল অর্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। এটি তাঁর রাজনৈতিক অভিযোগ, যার স্বাধীনভাবে নিশ্চিতকরণ করা হয়নি।

রাজ্যসভা নির্বাচনে সপার তৃতীয় প্রার্থী সরে দাঁড়ানোর পর রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্র ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচন হয়ে উঠেছে। অখিলেশ যাদবের ৪০৩টি আসনের দিকে নজর দেওয়ার বক্তব্যকে এই প্রেক্ষাপটে দলের পরবর্তী কৌশলের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

Leave a comment