উত্তরপ্রদেশে বন্যা পরিস্থিতি, ফুঁসে উঠেছে ১০ নদী, ১১ জেলা বন্যাকবলিত

উত্তরপ্রদেশে টানা বৃষ্টিতে ১০টি নদীর জলস্তর বেড়েছে এবং ১১টি জেলা বন্যাকবলিত হয়েছে। লখনউয়ের হনুমন্ত ধামে প্রায় ২০ বছর পর মন্দিরের গর্ভগৃহে পানি পৌঁছেছে। ৩৩টি জেলায় বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

উত্তরপ্রদেশে আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে বন্যা ও বৃষ্টির পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে। রাজ্যের ১০টি নদী বর্তমানে ফুঁসে উঠেছে এবং ১১টি জেলা বন্যাকবলিত হয়েছে। লখনউয়ে গোमती নদীর জলস্তর ক্রমাগত বৃদ্ধির ফলে হনুমন্ত ধাম ও আশপাশের এলাকায় জল ঢুকেছে। লেতে হনুমান মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রায় ২০ বছর পর ফের পানি পৌঁছেছে। এদিকে সরযূ নদীর ভাঙনে গোন্ডায় কৃষিজমি ও ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৬ অক্টোবর রাজ্যের ৩৩টি জেলায় বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর।

লখনউয়ে গোमती নদীর জলস্তর টানা অষ্টম দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর প্রভাব নদীতীরবর্তী এলাকা ছাড়াও ধর্মীয় স্থানগুলিতে পড়েছে। হনুমন্ত ধাম চত্বরে পানি ঢুকে পড়েছে এবং লেতে হনুমান মন্দিরের গর্ভগৃহেও পানি পৌঁছেছে। স্থানীয় তথ্য অনুযায়ী, ২০০৬ সালের পর এই প্রথম গর্ভগৃহে এভাবে পানি ঢুকেছে।

হনুমন্ত ধামের গোमती নদীমুখী অংশে পানি জমে যাওয়ার পর মন্দিরের পিছনের গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শনি দেব মন্দির চত্বরও জলাবদ্ধ হয়েছে। গোमती রিভার ফ্রন্টের দুই পাশের পাথওয়ে পর্যন্ত পানি পৌঁছেছে। জলস্তর বিবেচনায় প্রশাসন ফুড ভ্যালিও বন্ধ করে দিয়েছে।

ফৈজুল্লাগঞ্জ এলাকাতেও বন্যার প্রভাব ব্যাপক। কয়েকটি বাড়িতে চার থেকে পাঁচ ফুট পর্যন্ত পানি পৌঁছানোর তথ্য পাওয়া গেছে। জলাবদ্ধতার কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াতে সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। কয়েকটি জায়গায় স্থানীয় বাসিন্দাদের উপলব্ধ উপায় ব্যবহার করে পানি পার হওয়ার চেষ্টা করতে দেখা গেছে।

পার্বত্য এলাকায় বৃষ্টির পর উত্তরপ্রদেশের একাধিক নদীর জলস্তর বেড়েছে। বর্তমানে ১০টি নদী ফুঁসে উঠেছে এবং ১১টি জেলা বন্যাকবলিত হয়েছে বলে জানা গেছে। নদীতীরবর্তী এলাকাগুলিতে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

গোন্ডায় সরযূ নদীর ভাঙনে কৃষকদের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তীব্র ভাঙনের কারণে প্রায় দুই বিঘা আখের ফসল নদীতে তলিয়ে গেছে। জলস্তর বৃদ্ধি এবং অব্যাহত ভাঙনের ফলে নদীর আশপাশের কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বস্তির হররাইয়া তহসিল এলাকার বসহওয়ায় অবস্থিত অটল আবাসিক বিদ্যালয় চত্বরেও মনোরমা নদী এবং বৃষ্টির পানি পৌঁছেছে। এর ফলে বিদ্যালয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে।

সোমবার সন্ধ্যার পর উত্তরপ্রদেশের আটটি জেলায় ঝড় ও বৃষ্টি হয়েছে। বারাবাঁকি, প্রতাপগড় এবং সুলতানপুরের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির সঙ্গে শিলাবৃষ্টিও হয়েছে। প্রবল বাতাসের কারণে কয়েকটি জায়গায় গাছ এবং বিদ্যুতের খুঁটি পড়ে গেছে। মাঠে দাঁড়িয়ে থাকা ফসলও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

লখনউয়ের আবহাওয়াবিদ অতুল সিংয়ের মতে, উত্তরপ্রদেশ থেকে মৌসুমি বায়ুর প্রত্যাবর্তন হয়ে গেলেও বিহার ও উত্তরপ্রদেশের আশপাশে নতুন একটি বৃষ্টির ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে। বঙ্গোপসাগর থেকে আসা আর্দ্র বাতাসের কারণে আবহাওয়ার পরিবর্তন হয়েছে। এর ফলে আগামী কয়েক দিন বৃষ্টি অব্যাহত থাকার পাশাপাশি কিছু এলাকায় শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।

আবহাওয়া দফতর ৬ অক্টোবর উত্তরপ্রদেশের ৩৩টি জেলায় বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে। বন্যাকবলিত এলাকায় নদীর জলস্তরের ওপর নজর রাখা হচ্ছে। জলাবদ্ধতা এবং প্রবল বৃষ্টির সময়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।

 

Leave a comment