Bollywood Hero Cursed Family: ৫০-এর আগেই থেমে যেত পরিবারের পুরুষদের জীবন! সেই একই পরিণতি হয়েছিল এই জনপ্রিয় বলিউড অভিনেতারও

সঞ্জীব কুমারের পরিবারের একাধিক পুরুষ সদস্য ৫০-এর আগেই মারা গিয়েছিলেন বলে জানা যায়। মাত্র ৪৭ বছর বয়সে হৃদরোগে প্রয়াত এই জনপ্রিয় অভিনেতার জীবনকাহিনি জানুন।

বলিউডে এমন অনেক অভিনেতা রয়েছেন, যাঁদের জনপ্রিয়তা সময়ের সঙ্গে আরও বেড়েছে। সঞ্জীব কুমার ছিলেন তাঁদেরই একজন। অভিনয়ের ক্ষেত্রে বয়সের কোনও সীমারেখা তাঁর কাছে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। তরুণ নায়ক যেমন হয়েছেন, তেমনই অসংখ্য ছবিতে বয়স্ক চরিত্রেও দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন। অথচ বাস্তব জীবনে নিজের বার্ধক্য দেখার সুযোগই পাননি এই প্রতিভাবান অভিনেতা। মাত্র ৪৭ বছর বয়সে তাঁর জীবন থেমে যায়।

পরিবারের পুরুষদের অকালমৃত্যুর ইতিহাস

সঞ্জীব কুমারের পরিবারের ইতিহাসেও অকালমৃত্যুর একাধিক ঘটনা ছিল বলে জানা যায়। তাঁর দাদা, বাবা এবং ছোট ভাই নিকুল-সহ পরিবারের কয়েকজন পুরুষ সদস্য ৫০ বছর বয়সে পৌঁছনোর আগেই মারা গিয়েছিলেন।এই পারিবারিক ইতিহাসের কারণে সঞ্জীব কুমারের নিজের জীবন নিয়েও নানা আলোচনা তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তিনিও মাত্র ৪৭ বছর বয়সে মারা যান।

বয়স্ক চরিত্রে অভিনয়ের পিছনে ছিল অন্যরকম ভাবনা

সঞ্জীব কুমারের অভিনয়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল বিভিন্ন বয়সের চরিত্রে নিজেকে বিশ্বাসযোগ্যভাবে উপস্থাপন করা। যেখানে তাঁর সময়ের অনেক নায়ক মূলত তরুণ চরিত্রেই বেশি দেখা যেতেন, সেখানে তিনি মধ্যবয়সী কিংবা বৃদ্ধ চরিত্রেও সমান স্বচ্ছন্দ ছিলেন।এক সাক্ষাৎকারে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, কেন তিনি বয়স্ক চরিত্রে এত আগ্রহী। তখন তিনি নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি চমকপ্রদ মন্তব্য করেছিলেন বলে জানা যায়—তিনি মনে করতেন, হয়তো নিজের বার্ধক্য দেখার সুযোগ তাঁর হবে না। তাই পর্দায় সেই বয়সের চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছিলেন।

মাত্র ৪৭ বছরেই থেমে যায় জীবন

অভিনয়জীবনের সাফল্যের সময়েই সঞ্জীব কুমারের মৃত্যু হয়। মাত্র ৪৭ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি প্রয়াত হন।ফলে যে অভিনেতা পর্দায় বারবার বৃদ্ধ চরিত্রকে জীবন্ত করে তুলেছিলেন, তিনি বাস্তবে নিজের বৃদ্ধ বয়সে পৌঁছতেই পারেননি। তাঁর পুরনো সেই মন্তব্যের সঙ্গে পরবর্তী ঘটনাকে মিলিয়ে দেখলে বিষয়টি আরও মর্মস্পর্শী বলে মনে হয়।

জনপ্রিয়তার শিখরে ছিলেন সঞ্জীব কুমার

কর্মজীবনের এক পর্যায়ে সঞ্জীব কুমারের জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে। তাঁর ছবি মুক্তি পেলে প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের ভিড় জমত। অনেক ক্ষেত্রেই তাঁর ছবির শো হাউসফুল থাকত বলে জানা যায়।তাঁর অভিনয়ের পরিসরও ছিল যথেষ্ট বিস্তৃত। শুধুমাত্র নায়ক হিসেবে নিজেকে আটকে না রেখে চরিত্রের বয়স, ব্যক্তিত্ব ও পরিস্থিতি অনুযায়ী অভিনয়ের ধরন বদলে ফেলতে পারতেন তিনি।

একাধিক জনপ্রিয় ছবিতে নজর কেড়েছিলেন

সঞ্জীব কুমারের দীর্ঘ কর্মজীবনে একাধিক উল্লেখযোগ্য ছবি রয়েছে। ‘খিলোণা’, ‘আঙ্গুর’, ‘স্মাগলার’, ‘আলিবাবা অউর ৪০ চোর’, ‘রাজা অউর র‍্যাঙ্ক’ এবং ‘গৌরী’-র মতো ছবিতে তাঁর অভিনয় দর্শকদের নজর কেড়েছিল।বিভিন্ন প্রজন্মের তারকার সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি নিজের অভিনয় দক্ষতার জন্যও তিনি আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছিলেন। একসময় তাঁকে হিন্দি চলচ্চিত্রের অন্যতম উচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত অভিনেতা হিসেবেও বিবেচনা করা হতো বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নায়ক হয়েও ভেঙেছিলেন প্রচলিত ছক

সঞ্জীব কুমারের বিশেষত্ব ছিল, তিনি শুধুমাত্র প্রচলিত নায়কোচিত চরিত্রের উপর নির্ভর করেননি। গল্পের প্রয়োজনে বয়সে অনেক বড় চরিত্রেও অভিনয় করেছেন এবং সেই চরিত্রগুলিকে নিজের অভিনয় দিয়ে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছেন।এই কারণেই হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে তাঁর নাম শুধু জনপ্রিয় নায়ক হিসেবে নয়, একজন শক্তিশালী চরিত্রাভিনেতা হিসেবেও স্মরণ করা হয়।

একসময় হিন্দি সিনেমায় দাপটের সঙ্গে অভিনয় করেছেন সঞ্জীব কুমার। পর্দায় তরুণ থেকে বৃদ্ধ—বিভিন্ন বয়সের চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন। কিন্তু মাত্র ৪৭ বছর বয়সেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর পরিবারের একাধিক পুরুষ সদস্যও ৫০ বছর বয়সের আগেই মারা গিয়েছিলেন বলে জানা যায়। অকালমৃত্যুর পাশাপাশি তাঁর অভিনয়জীবনের একটি বিশেষ দিক আজও তাঁকে আলাদা করে মনে রাখার কারণ।

Leave a comment