সাবণের সোমবার বাবা গরিবনাথ মন্দিরে ভিড়, ৫ লাখ ভক্তের সমাগমের সম্ভাবনা

সাবণের সোমবার মুজফ্ফরপুরের বাবা গরিবনাথ মন্দিরে রাত ১২টা থেকে জলাভিষেক শুরু হয়েছে। সকালেই ভক্তদের ভিড় বেড়েছে। প্রায় ৫ লাখ ভক্তের সমাগমের সম্ভাবনা থাকায় প্রশাসন ও মন্দির কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্য এবং যান চলাচলের বিশেষ ব্যবস্থা করেছে।
সাবণের সোমবার বাবা গরিবনাথ মন্দিরে ভিড়, ৫ লাখ ভক্তের সমাগমের সম্ভাবনা
Photo Credit / Attribution: Google

সাবণের সোমবার উপলক্ষে মুজফ্ফরপুরের বিখ্যাত বাবা গরিবনাথ মন্দিরে শিবভক্তদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। ভগবান শিবের জলাভিষেকের জন্য রাত ১২টা থেকেই ভক্তদের মন্দিরে আসার প্রক্রিয়া শুরু হয়। সকাল হতে না হতেই মন্দির চত্বর ও সংলগ্ন এলাকায় ভিড় আরও বেড়ে যায়। বিপুল সংখ্যক ভক্ত গঙ্গাজল ও পুজোর সামগ্রী নিয়ে বাবা গরিবনাথের দর্শন ও জলাভিষেকের জন্য মন্দিরে পৌঁছেছেন।

সাবণের সোমবার বাবা গরিবনাথ মন্দিরে বিশেষ ধর্মীয় গুরুত্ব রয়েছে। এই দিনে দূরদূরান্তের এলাকা থেকেও শিবভক্তরা মন্দিরে আসেন। বহু ভক্ত সুলতানগঞ্জ ও অন্যান্য স্থান থেকে গঙ্গাজল নিয়ে পায়ে হেঁটে মুজফ্ফরপুরে পৌঁছে বাবা গরিবনাথের জলাভিষেক করেন। এবারও মন্দিরে বিপুল সংখ্যক ভক্তের সমাগমের সম্ভাবনা থাকায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

রাত ১২টা থেকেই মন্দিরে জলাভিষেক শুরু হওয়ায় ভক্তদের সারি ধারাবাহিকভাবে এগোতে থাকে। বহু ভক্ত গভীর রাত থেকেই নিজেদের পালার অপেক্ষায় সারিতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হর হর মহাদেব এবং বোল বমের ধ্বনিতে মন্দির ও সংলগ্ন এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। ভগবান শিবের দর্শন ও জলাভিষেক নিয়ে ভক্তদের মধ্যে উৎসাহ দেখা যায়।

প্রশাসন ও মন্দির কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ভক্তদের ভিড় নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিশৃঙ্খলা এড়াতে ভক্তদের সারিবদ্ধভাবে মন্দিরে প্রবেশ করানো হচ্ছে। ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। মন্দিরের আশপাশে পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।

শ্রাবণ সোমবার বাবা গরিবনাথ মন্দিরে প্রায় ৫ লাখ ভক্তের পৌঁছনোর সম্ভাবনা রয়েছে। এত বিপুল সংখ্যক ভক্তের সমাগমের কথা মাথায় রেখে প্রশাসনের সামনে ভিড় নিয়ন্ত্রণ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। মন্দিরের পাশাপাশি শহরের প্রধান সড়ক ও সংলগ্ন এলাকায় যান চলাচলের উপরও বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।

ভক্তদের জন্য ব্যারিকেডিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে সারি নিয়ন্ত্রণের জন্য পৃথক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মহিলা, প্রবীণ ও শিশুদের যাতে ভিড়ে সমস্যায় পড়তে না হয়, সে জন্য নিরাপত্তাকর্মীদের বিশেষ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সাবণের সোমবার বাবা গরিবনাথ মন্দিরে জলাভিষেক করতে আসা ভক্তদের সংখ্যা সাধারণ দিনের তুলনায় কয়েক গুণ বেড়ে যায়। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মন্দিরে ভক্তদের আসা-যাওয়া চলতে থাকে। সময়মতো জলাভিষেকের সুযোগ পাওয়ার জন্য বহু ভক্ত রাত থেকেই সারিতে দাঁড়িয়ে পড়েন।

মন্দির চত্বরের আশপাশে পুজোর সামগ্রীর দোকানও বসেছে। বেলপাতা, ফুল, ধুতুরা, ভাঙ, দুধ, গঙ্গাজল ও অন্যান্য পুজোর সামগ্রী নিয়ে ভক্তরা বাবা গরিবনাথের দরবারে পৌঁছচ্ছেন। সাবণের সোমবারকে সামনে রেখে দোকানদাররাও পর্যাপ্ত পুজোর সামগ্রীর ব্যবস্থা করেছেন।

কাঁভারিয়াদের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। দূরবর্তী এলাকা থেকে গঙ্গাজল নিয়ে আসা শিবভক্তদের জন্য পথে পথে সেবা শিবির বসানো হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে স্বেচ্ছাসেবকরা কাঁভারিয়াদের জল, শরবত ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধা দিচ্ছেন। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে বোল বমের ধ্বনি শোনা যাচ্ছে।

মুজফ্ফরপুরে বাবা গরিবনাথ মন্দিরের পরিচিতি একটি প্রধান শিবধাম হিসেবে। সাবণ মাসজুড়ে এখানে ভক্তদের ভিড় থাকে। তবে সোমবার মন্দিরে ভক্তদের সমাগম আরও বেড়ে যায়। রাত থেকেই মন্দিরের দিকে যাওয়া রাস্তায় ভক্তদের চলাচল বাড়তে থাকে।

বাবা গরিবনাথের জলাভিষেক নিয়ে ভক্তদের মধ্যে বিশেষ উৎসাহ রয়েছে। বহু ভক্ত পরিবারের সঙ্গে মন্দিরে পৌঁছেছেন। পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক যুবক ও কাঁভারিয়া দলবদ্ধভাবে যাত্রা করছেন। ভগবান শিবের জয়ধ্বনি দিতে দিতে ভক্তরা সারিতে এগিয়ে যাচ্ছেন।

ভিড়ের কথা মাথায় রেখে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমেও নজরদারি করা হচ্ছে। মন্দির ও সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলিতে মোতায়েন নিরাপত্তাকর্মীরা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের দলগুলিকেও সতর্ক রাখা হয়েছে।

মন্দিরে আসা ভক্তদের প্রশাসনের নির্ধারিত পথ ও নিয়ম মেনে চলার আবেদন জানানো হয়েছে। ভিড়ের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি এড়িয়ে সারিতে শান্তভাবে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখতে পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকরা ভক্তদের মধ্যে উপস্থিত রয়েছেন।

সোমবার উপলক্ষে মুজফ্ফরপুর শহরে যানবাহনের চাপও বেড়েছে। মন্দিরের দিকে যাওয়া রাস্তায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। ভক্তদের ভিড়ের কথা মাথায় রেখে বিভিন্ন স্থানে ট্রাফিক ডাইভারশন ও পার্কিংয়ের ব্যবস্থাও করা হয়েছে, যাতে প্রধান সড়কে যানজট তৈরি না হয়।

বাবা গরিবনাথের দরবারে জলাভিষেক করতে আসা ভক্তদের মধ্যে এমন অনেকেই রয়েছেন, যারা মনস্কামনা পূরণের পর বাবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে এসেছেন। বহু ভক্ত সাবণের প্রতিটি সোমবার বাবা গরিবনাথের জলাভিষেকের ঐতিহ্য পালন করেন। আবার কিছু ভক্ত প্রথমবার বাবা গরিবনাথের দর্শনে এসেছেন।

রাত ১২টা থেকে শুরু হওয়া জলাভিষেক অব্যাহত রয়েছে। দিন যত এগোবে, ভক্তদের সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রশাসনের আশা, সোমবার প্রায় ৫ লাখ ভক্ত বাবা গরিবনাথের দর্শন ও জলাভিষেকের জন্য মন্দিরে পৌঁছতে পারেন।

মন্দিরে জমায়েত ভক্তদের মধ্যে উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। চারদিকে হর হর মহাদেব, বোল বম এবং বাবা গরিবনাথের জয়ধ্বনি শোনা যাচ্ছে। বৃষ্টি ও আর্দ্রতার মধ্যেও ভক্তরা সারিতে দাঁড়িয়ে নিজেদের পালার অপেক্ষা করছেন।

সাবণের সোমবারের এই আয়োজন মুজফ্ফরপুরে ধর্মীয় আস্থার পাশাপাশি সামাজিক অংশগ্রহণেরও একটি বড় উদাহরণ হয়ে উঠেছে। প্রশাসনের সঙ্গে স্থানীয় মানুষ ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলিও ভক্তদের পরিষেবায় যুক্ত হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে পানীয় জল ও সেবা শিবির বসানো হয়েছে।

বাবা গরিবনাথ মন্দিরে ভক্তদের ভিড়ের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী কয়েক ঘণ্টায় নিরাপত্তা ও যান চলাচল ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ আরও বাড়তে পারে। প্রশাসনের লক্ষ্য, প্রতিটি ভক্ত যাতে নিরাপদে মন্দিরে পৌঁছতে পারেন এবং কোনও সমস্যা ছাড়াই বাবা গরিবনাথের জলাভিষেক করতে পারেন।

Leave a comment