২৭ জানুয়ারি ২০২৬ মঙ্গলবার ভারতীয় শেয়ারবাজার সমতল সূচনায় খোলার পর দ্রুত বিক্রির চাপে পড়ে। প্রাথমিক লেনদেনের মধ্যেই সূচকগুলো লাল চিহ্নে নেমে যায়। বৈশ্বিক সংকেত এবং ভারত–ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সংক্রান্ত অনিশ্চয়তার মধ্যে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক মনোভাব বাজারে প্রভাব ফেলে।
বিএসই সেনসেক্স সমতল অবস্থায় ৮১,৪৩৬ পয়েন্টে সূচনা করলেও সকাল ৯টা ২৫ মিনিট নাগাদ ৪২৪ পয়েন্ট বা ০.৫২ শতাংশ কমে ৮১,১১৩.৫৩ স্তরে নেমে আসে। একই সময়ে এনএসই নিফটি-৫০ সমতল সূচনায় ২৫,০৬৩ পয়েন্টে খোলার পর ১১২ পয়েন্ট কমে প্রায় ২৫,০১৯ স্তরে লেনদেন করতে দেখা যায়।
বাজারের দুর্বলতার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানকে দায়ী করা হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্ক সংক্রান্ত হুঁশিয়ারিতে বৈশ্বিক বাণিজ্য নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। পাশাপাশি ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে বিনিয়োগকারীরা বড় অবস্থান নিতে সংযত ছিলেন। নিফটির সাপ্তাহিক এক্সপায়ারির কারণেও বাজারে অস্থিরতা ও চাপ লক্ষ্য করা যায়।
খাতভিত্তিক লেনদেনে মেটাল খাত ছাড়া প্রায় সব খাতেই পতন দেখা যায়। অটো, কনজিউমার ডিউরেবলস এবং রিয়েলটি খাতে প্রায় ১ শতাংশ পর্যন্ত পতন রেকর্ড হয়। অটো খাতে বিক্রির চাপ তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল। ইউরোপ থেকে যানবাহন আমদানির ওপর শুল্ক কমার সম্ভাবনার কারণে দেশীয় অটো কোম্পানির শেয়ারে চাপ বাড়ে। ব্যাংকিং ও ফিনান্সিয়াল খাতের শেয়ারেও দুর্বলতা লক্ষ্য করা যায়।
বিনিয়োগকারীদের নজর ছিল ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ভন ডার লেয়েন এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি আন্তোনিও কোস্তার উপস্থিতিতে এই নতুন বাণিজ্য অংশীদারিত্বের ভিত্তি স্থাপিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এ সপ্তাহে বাজারের দিকনির্দেশ নির্ভর করবে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দেশীয় ও বৈশ্বিক বিষয়ে। এর মধ্যে রয়েছে ভারত–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি, কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬, মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতি বৈঠক এবং বড় কোম্পানিগুলোর তৃতীয় ত্রৈমাসিকের আর্থিক ফলাফল। পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ড সম্পর্কিত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য উত্তেজনাও বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।
বৈশ্বিক বাজারে এশীয় শেয়ারবাজারগুলোতে মিশ্র লেনদেন লক্ষ্য করা যায়। দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দেওয়ায় বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বেড়েছে। তবে প্রাথমিক পতনের পর দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচক ঘুরে দাঁড়িয়ে প্রায় ০.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচকও শেষ আপডেট অনুযায়ী প্রায় ০.১ শতাংশ উঁচুতে লেনদেন করছিল।
সোমবার মার্কিন শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী হয়ে বন্ধ হয়। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ০.৫০ শতাংশ, নাসডাক কম্পোজিট ০.৪৩ শতাংশ এবং ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ ০.৬৪ শতাংশ বৃদ্ধি নিয়ে দিন শেষ করে।
এদিকে, বাজার বন্ধের আগে একাধিক বড় ও মিডক্যাপ সংস্থা তাদের তৃতীয় ত্রৈমাসিকের আর্থিক ফল প্রকাশ করার কথা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এশিয়ান পেইন্টস, টাটা কনজিউমার প্রোডাক্টস, ভোডাফোন আইডিয়া, বিশাল মেগা মার্ট, সুমিতোমো কেমিক্যাল ইন্ডিয়া, প্রাইম ফোকাস, রামকৃষ্ণা ফোর্জিংস, উইওয়ার্ক ইন্ডিয়া ম্যানেজমেন্ট, রেমন্ড লাইফস্টাইল, সানটেক রিয়েলটি, বৈভব গ্লোবাল, আরপিজি লাইফ সায়েন্সেস, রেমন্ড রিয়েলটি, স্পন্দনা স্ফূর্তি ফাইনান্সিয়াল, টিপস ফিল্মস, ম্যারিকো, মোতিলাল ওসওয়াল ফাইনান্সিয়াল সার্ভিসেস, মেট্রো ব্র্যান্ডস, পিসি জুয়েলার, মহিন্দ্রা লজিস্টিক্স, মনোলিথিশ ইন্ডিয়া এবং বিকাজি ফুডস ইন্টারন্যাশনাল।











