এন্ডোমেট্রিওসিস—মহিলাদের মধ্যে দেখা দেওয়া একটি জটিল ও যন্ত্রণাদায়ক স্বাস্থ্যসমস্যা। এই রোগে দীর্ঘদিন ধরে তলপেটে ব্যথা, ঋতুস্রাবের সময় অতিরিক্ত অস্বস্তি এবং সন্তানধারণ সংক্রান্ত সমস্যার মতো একাধিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। অভিনেত্রী শমিতা শেট্টিও এই রোগের সঙ্গে লড়াই করার অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন। তাঁর কথায় উঠে এসেছে এমন একটি পরামর্শের প্রসঙ্গ, যেখানে সন্তান জন্ম দেওয়াকে নাকি রোগ থেকে মুক্তির পথ হিসেবে বলা হয়েছিল। তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের বক্তব্য, বিষয়টি এতটা সরল নয়।

এন্ডোমেট্রিওসিস কী?
এন্ডোমেট্রিওসিস এমন একটি শারীরিক অবস্থা, যেখানে জরায়ুর ভেতরের আস্তরণের মতো টিস্যু জরায়ুর বাইরে বেড়ে উঠতে শুরু করে। সাধারণত ডিম্বাশয়, ফ্যালোপিয়ান টিউব বা পেলভিসের অন্যান্য অংশে এই টিস্যু দেখা যেতে পারে।ঋতুচক্রের সঙ্গে হরমোনের পরিবর্তনের ফলে এই টিস্যুতেও প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। এর ফলে প্রদাহ, ব্যথা এবং সময়ের সঙ্গে দাগ বা ফাইব্রোসিস তৈরি হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলির মধ্যে অস্বাভাবিকভাবে জোড়া লেগে যাওয়ার সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
শমিতা শেট্টির ক্ষেত্রে কী ঘটেছিল?
অভিনেত্রী শমিতা শেট্টি একটি সাক্ষাৎকারে তাঁর এন্ডোমেট্রিওসিসের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেন। অভিনেত্রী সোহা আলি খানের ইউটিউব চ্যানেলে আয়োজিত সেই আলোচনায় রোগটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।সেখানেই উঠে আসে প্রচলিত একটি ধারণার প্রসঙ্গ—বিয়ে বা সন্তান জন্মের পর এন্ডোমেট্রিওসিস নাকি নিজে থেকেই সেরে যায়। শমিতার অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত এই বিষয়টি নিয়ে চিকিৎসকও নিজের মতামত জানান।

‘সন্তান হলেই রোগ সেরে যাবে’—কতটা সত্যি?
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের বক্তব্য অনুযায়ী, সন্তান জন্ম দেওয়া এন্ডোমেট্রিওসিসের কোনও স্থায়ী চিকিৎসা নয়। গর্ভাবস্থায় শরীরে হরমোনের পরিবর্তনের কারণে কিছু সময়ের জন্য রোগের উপসর্গ কমে যেতে পারে বা সাময়িক স্বস্তি মিলতে পারে। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে রোগটি সম্পূর্ণভাবে নির্মূল হয়ে গিয়েছে।তাই শুধুমাত্র এন্ডোমেট্রিওসিস সারানোর জন্য সন্তান নেওয়ার পরামর্শকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের স্থায়ী সমাধান হিসেবে দেখা ঠিক নয়। রোগের মাত্রা ও উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শে উপযুক্ত চিকিৎসা নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।
সন্তানধারণে কি সমস্যা হতে পারে?
এন্ডোমেট্রিওসিসের কিছু ক্ষেত্রে ফ্যালোপিয়ান টিউব বা ডিম্বাশয়ের স্বাভাবিক কার্যকারিতায় প্রভাব পড়তে পারে। পেলভিক অঞ্চলে প্রদাহ, অ্যাডহিশন বা ‘চকলেট সিস্ট’-এর মতো সমস্যা তৈরি হলে কিছু মহিলার ক্ষেত্রে গর্ভধারণ কঠিন হতে পারে।তবে এন্ডোমেট্রিওসিস থাকলেই প্রত্যেক মহিলার সন্তানধারণে সমস্যা হবে—এমনটা নয়। রোগের পর্যায়, বয়স এবং অন্যান্য শারীরিক কারণের উপর বিষয়টি নির্ভর করে।

চিকিৎসা কীভাবে হয়?
এন্ডোমেট্রিওসিসের চিকিৎসা রোগীর উপসর্গ, বয়স, রোগের মাত্রা এবং ভবিষ্যতে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনার উপর নির্ভর করে। চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ, হরমোনাল চিকিৎসা বা প্রয়োজন অনুযায়ী অস্ত্রোপচারের কথা বিবেচনা করা হতে পারে।তাই দীর্ঘদিন ধরে তীব্র মাসিকের ব্যথা, অতিরিক্ত রক্তপাত, পেলভিক ব্যথা বা সন্তানধারণে সমস্যা থাকলে নিজে থেকে কোনও সিদ্ধান্ত না নিয়ে গাইনোকলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

অভিনেত্রী শমিতা শেট্টি এক সাক্ষাৎকারে এন্ডোমেট্রিওসিসে আক্রান্ত হওয়ার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। তাঁর চিকিৎসা নিয়ে একসময় সন্তান জন্ম দেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি। কিন্তু চিকিৎসকরা স্পষ্ট করেছেন, সন্তান জন্ম দেওয়া এন্ডোমেট্রিওসিসের স্থায়ী চিকিৎসা নয়। এই রোগের কারণ, উপসর্গ ও চিকিৎসা সম্পর্কে কী জানা জরুরি, রইল বিস্তারিত।









