শান্তিনিকেতন ঘুরতে গেলে এবার মিলবে বাড়তি অভিজ্ঞতা! পর্যটকদের জন্য খুলে গেল ঐতিহ্যবাহী ‘শান্তিনিকেতন গৃহ’, সামনে আরও বড় সুখবর

বোলপুর-শান্তিনিকেতন ভ্রমণে বড় সুখবর। সাধারণ পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হল ঐতিহ্যবাহী শান্তিনিকেতন গৃহ। সংস্কার শেষে উদয়ন, উদীচী, কোনার্ক, শ্যামলী ও পুনশ্চও খুলবে।

Shantiniketan Tourism: বোলপুরে বেড়াতে এসে এতদিন একটা আক্ষেপ থেকেই যেত অনেক পর্যটকের। শান্তিনিকেতনের নাম যে ঐতিহাসিক বাড়ি থেকে, সেই ‘শান্তিনিকেতন গৃহ’-এর ভিতরে ঢুকে দেখার সুযোগ মিলত না। এবার সেই আক্ষেপের অবসান। বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ সাধারণ পর্যটকদের জন্য খুলে দিয়েছে ঐতিহ্যবাহী এই ভবন। ফলে শান্তিনিকেতন ভ্রমণের তালিকায় এবার যুক্ত হল আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থান।

পর্যটকদের জন্য খুলে গেল ‘শান্তিনিকেতন গৃহ’

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবস থেকেই সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য ঐতিহ্যবাহী ‘শান্তিনিকেতন গৃহ’ খুলে দেওয়া হয়েছে। দেশ-বিদেশের পর্যটকেরা এবার হেরিটেজ ওয়াকের অংশ হিসেবে এই ঐতিহাসিক ভবনটি ঘুরে দেখার সুযোগ পাবেন।এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে পর্যটকদের মধ্যে ইতিমধ্যেই উৎসাহ তৈরি হয়েছে। কারণ শান্তিনিকেতনের ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে এই বাড়ি।

এই বাড়ির সঙ্গেই জড়িয়ে শান্তিনিকেতনের ইতিহাস

বোলপুরে আসার পর মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর যে বাড়িটি তৈরি করেছিলেন, সেটিই পরবর্তীকালে ‘শান্তিনিকেতন গৃহ’ নামে পরিচিত হয়।

জানা যায়, মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর দীর্ঘ সময় ধরে এই এলাকায় আসা-যাওয়া করতেন। পরবর্তীকালে ১৮৭৩ সালে প্রথমবার এই বাড়িতে এসে উঠেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

এরও পরে ১৯০১ সালে ব্রহ্ম বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কিছু আগে কবিগুরু সপরিবারে শান্তিনিকেতনে এসে বসবাস শুরু করেন।

যে বাড়ির নাম থেকেই ‘শান্তিনিকেতন’

‘শান্তিনিকেতন’ নামটির ইতিহাসের সঙ্গেও এই বাড়িটি সরাসরি যুক্ত। অর্থাৎ আশ্রম প্রতিষ্ঠার আগেই এখানে ছিল এই ঐতিহ্যবাহী গৃহ।ঐতিহাসিক নথি থেকে জানা যায়, রায়পুরের জমিদার প্রতাপ নারায়ণ সিংহের দলিলেও এই বাড়ির অস্তিত্বের উল্লেখ রয়েছে। উপাসনা গৃহ প্রতিষ্ঠার আগে এই বাড়িতেই ব্রহ্ম উপাসনা হত বলেও ঐতিহাসিক তথ্য থেকে জানা যায়।ফলে পর্যটকদের কাছে শুধু একটি পুরনো বাড়ি নয়, শান্তিনিকেতনের শিকড়কে কাছ থেকে বোঝার সুযোগ তৈরি হবে এই হেরিটেজ ওয়াকের মাধ্যমে।

কেন খুলে দেওয়া হল বাড়িটি?

বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবসের অনুষ্ঠান প্রথা মেনে পালিত হয়েছে।তবে এদিন পর্যটকদের জন্য বিশেষ সুখবর হিসেবে ‘শান্তিনিকেতন গৃহ’ খুলে দেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বোলপুরে এসে অনেক পর্যটক এই ঐতিহাসিক বাড়িটি দেখতে না পেরে আক্ষেপ করতেন। সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য ভবনটি খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আরও ৫টি রবীন্দ্রভবন খোলার প্রস্তুতি

বিশ্বভারতীর উপাচার্য জানিয়েছেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্যবহৃত আরও পাঁচটি বাড়ি পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। বর্তমানে ওই বাড়িগুলির সংস্কারের কাজ চলছে।

সংস্কার শেষ হলে দর্শনার্থীরা দেখতে পারবেন—

উদয়ন

উদীচী

কোনার্ক

শ্যামলী

পুনশ্চ

এই বাড়িগুলি খুলে গেলে শান্তিনিকেতনের পর্যটন মানচিত্র আরও সমৃদ্ধ হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

বোলপুর-শান্তিনিকেতন ভ্রমণে পর্যটকদের জন্য বড় সুখবর। এবার সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ‘শান্তিনিকেতন গৃহ’। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানের দিন থেকেই দেশ-বিদেশের পর্যটকেরা এই ঐতিহাসিক ভবনটি ঘুরে দেখতে পারবেন। পাশাপাশি ভবনটির ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরতে বিশ্বভারতীর উদ্যোগে বিশেষ প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হয়েছে।

Leave a comment