শি জিনপিং সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে পারেন

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে পারেন। সফর হলে প্রায় সাত বছর পর তাঁর ভারত সফর হবে; সম্মেলনে তাঁর সম্ভাব্য অংশগ্রহণ ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকের দিকে নজর থাকবে।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে পারেন। এই সফর হলে প্রায় সাত বছর পর তাঁর ভারত সফর হবে।

ভারত এ বছর ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করতে চলেছে। শি জিনপিং সম্মেলনে যোগ দেবেন কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও নজর রয়েছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, শি জিনপিং একটি বড় প্রতিনিধিদল নিয়ে সম্মেলনে যোগ দিতে পারেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনের পক্ষ থেকে ভারত সফর সংক্রান্ত হোটেল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রোটোকল চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। কয়েকটি ভারতীয় সূত্রের মতে, শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রায় ৪০০ কর্মকর্তার প্রতিনিধিদল ভারতে আসতে পারে। ২০১৯ সালে তাঁর শেষ ভারত সফরের সময় ২০০-র কম কর্মকর্তা এসেছিলেন বলে জানা গিয়েছিল। তবে শি জিনপিংয়ের ভারত সফর নিয়ে এখনও ভারত বা চীনের পক্ষ থেকে কোনও সরকারি ঘোষণা করা হয়নি।

শি জিনপিং ভারতে এলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর সম্ভাব্য দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের দিকে নজর থাকবে। দুই নেতার আলোচনায় সীমান্ত বিরোধ, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো বিষয় উঠতে পারে।

শি জিনপিং সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে পারেন

ভারত ও চীন উভয়ই ব্রিকসের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং বিশ্বের প্রধান উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর মধ্যে রয়েছে।

২০২০ সালে পূর্ব লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় সংঘর্ষের পর ভারত ও চীনের সম্পর্কে উত্তেজনা তৈরি হয়। ওই ঘটনায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর ২০ জন জওয়ান নিহত হন। এরপর দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে দীর্ঘ সময় সামরিক অচলাবস্থা বজায় ছিল।

একাধিক দফায় সামরিক ও কূটনৈতিক আলোচনার পর ২০২৪ সালের অক্টোবরে সীমান্তে সেনা মোতায়েন কমানো এবং পিছিয়ে যাওয়ার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা হয়। এরপর দুই পক্ষ সম্পর্ক স্বাভাবিক করার দিকে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে।

২০২৫ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির চীন সফরকেও এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখা হয়। তবে সীমান্ত বিরোধ এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি এবং প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা সংক্রান্ত একাধিক বিষয় এখনও সংবেদনশীল।

ভারত ও চীন হিমালয় অঞ্চলে প্রায় ৩,৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি বিতর্কিত সীমান্ত ভাগ করে। সীমান্তের বড় অংশের এখনও স্পষ্টভাবে সীমারেখা নির্ধারণ করা হয়নি। ফলে সীমান্ত সংক্রান্ত বিষয় দুই দেশের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে রয়েছে।

শি জিনপিং ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন ২০২৬-এ যোগ দিতে দিল্লিতে এলে তাঁর সফর বহুপাক্ষিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি ভারত-চীন সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

 

Leave a comment