মার্কিন প্রেস সচিবের পদ থেকে পাঁচ দিনের মধ্যেই বিদায় কেটি জাকারিয়ার
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব কেটি জাকারিয়ার কার্যকাল পাঁচ দিনের মধ্যেই শেষ হয়েছে। ৯ অক্টোবর দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁর পেশাগত যোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক এবং প্রথম সাংবাদিক সম্মেলনে দেওয়া উত্তর নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
কেটি জাকারিয়ার হোয়াইট হাউস ছাড়ার পিছনে তাঁর পেশাগত যোগ্যতা এবং সংবাদমাধ্যমের সামনে প্রাথমিক উপস্থিতি নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ককে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ৯ অক্টোবর তাঁকে প্রেস সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁর নাম বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন তাঁকে আইনজীবী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল। পরে প্রশ্ন ওঠে, তিনি আমেরিকায় আইন পেশায় কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন কি না। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার বার পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন, কিন্তু উত্তীর্ণ হননি। এর পর তাঁর আইনি যোগ্যতা নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা শুরু হয়। এই বিতর্কে তাঁর পেশাগত বিশ্বাসযোগ্যতা এবং হোয়াইট হাউসের নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
১৩ অক্টোবর কেটি জাকারিয়ার প্রথম সাংবাদিক সম্মেলনের পর তাঁর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। প্রায় ১৪ মিনিটের ওই সাংবাদিক সম্মেলনে তাঁর উত্তর এবং উপস্থাপনা নিয়ে সমালোচনা হয়।
সাংবাদিকেরা তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন, তিনি কোথা থেকে বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। উত্তরে তিনি চিনে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেন, যা বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে। পরে তিনি ব্যাখ্যা করেন, হেলিকপ্টারের শব্দের কারণে তিনি প্রশ্নটি ঠিকমতো শুনতে পারেননি।
![]()
এ ছাড়াও, প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ধরন এবং সাংবাদিক সম্মেলনের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সংবাদমাধ্যমে সমালোচনা বাড়ার পর তিনি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে নিজের বক্তব্য তুলে ধরার চেষ্টা করেন। তবে তাতেও বিতর্ক পুরোপুরি থামেনি।
১৬ অক্টোবর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, তিনি জাকারিয়াকে প্রেস সচিবের পদে থাকার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি জাকারিয়াকে বলেছিলেন, এমন কোনও দায়িত্বে কাজ করার প্রয়োজন নেই, যেখানে তিনি খুশি থাকতে পারবেন না। সংবাদমাধ্যমের আচরণের কারণে তাঁকে অপ্রয়োজনীয় চাপের মুখে পড়তে হচ্ছিল বলেও ট্রাম্প জানান।
এর পর হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকেরা নিশ্চিত করেন, জাকারিয়া ওই পদ ছেড়ে দিচ্ছেন। তবে ট্রাম্প প্রকাশ্যে বিষয়টিকে সরাসরি বরখাস্ত করার পরিবর্তে তাঁর জন্য আরও ভালো বিকল্প খোঁজার বিষয় হিসেবে তুলে ধরেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভবিষ্যতে তাঁকে প্রশাসনে অথবা ট্রাম্পের সঙ্গে যুক্ত অন্য কোনও সংগঠনে নতুন দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে।
কেটি জাকারিয়ার বিদায় এমন সময়ে ঘটল, যখন আমেরিকায় ২০২৬ সালের নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন এগিয়ে আসছে। এই নির্বাচনে কংগ্রেসে নিজেদের রাজনৈতিক প্রভাব ধরে রাখা রিপাবলিকান পার্টির কাছে গুরুত্বপূর্ণ হবে।
প্রেস সচিবের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে জনসাধারণের কাছে প্রেসিডেন্টের বক্তব্য পৌঁছে দেওয়া, প্রশাসনের নীতির পক্ষে বক্তব্য রাখা এবং সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া। এই পরিস্থিতিতে প্রেস সচিবের এত অল্প সময়ের মধ্যে পদ ছেড়ে দেওয়া ট্রাম্প প্রশাসনের যোগাযোগ কৌশলের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
জাকারিয়ার আগে ক্যারোলিন লেভিট এই পদে ছিলেন। তাঁর বিদায়ের পর জাকারিয়াকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে বিতর্কের মধ্যে পাঁচ দিনের মধ্যেই তাঁর কার্যকাল শেষ হয়।








