‘পুরুষদেরও যেন পিরিয়ড হয়!’—শ্রুতি হাসানের এই মন্তব্যই এখন আলোচনায়। তবে এর পিছনে রয়েছে অভিনেত্রীর নিজের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা। ঋতুস্রাবের সময় তীব্র ব্যথা, শুটিং সেটে তা নিয়ে কথা বলতে না পারা এবং পুরুষ সহ-অভিনেতার শারীরিক সমস্যায় কাজের সময়সূচি বদলে যাওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁকে এই মন্তব্য করতে বাধ্য করেছিল। সোহা আলি খানের পডকাস্টে নিজের সেই অভিজ্ঞতার কথা অকপটে জানিয়েছেন শ্রুতি।

কেন পুরুষদের পিরিয়ড চান শ্রুতি?
সোহা আলি খানের পডকাস্ট ‘অল অ্যাবাউট হার’-এ ঋতুস্রাব নিয়ে কথা বলছিলেন শ্রুতি হাসান। সেখানেই তিনি মজার ছলে জানান, বহুবার ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেছেন যাতে পুরুষদেরও পিরিয়ড হয়।অভিনেত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, এমনটা হলে হয়তো কর্মক্ষেত্রে পিরিয়ড লিভ বা প্রয়োজনীয় বিশ্রামের বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হত। তাঁর এই মন্তব্য আসলে পুরুষদের প্রতি কোনও আক্ষরিক দাবি নয়, বরং ঋতুস্রাবজনিত সমস্যাকে কর্মক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাই তুলে ধরে।
পিসিওএসের কারণে তীব্র ব্যথা
শ্রুতি জানান, তিনি পিসিওএস বা পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোমে ভুগছেন। এর কারণে ঋতুস্রাবের সময় তাঁকে তীব্র ব্যথার মুখোমুখি হতে হয় বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী।ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে এই সমস্যার কথা শুটিং সেটে প্রকাশ্যে বলতে পারতেন না তিনি। ফলে শরীর খারাপ লাগলেও অনেক সময় স্বাভাবিকভাবেই কাজ চালিয়ে যেতে হত।
‘দুর্বল’ দেখালেই পরিচালকেরা বিরক্ত হতেন
ক্যারিয়ারের প্রথম দিকের অভিজ্ঞতা মনে করে শ্রুতি জানান, তখন সেটে ঋতুস্রাব নিয়ে কথা বলাটা তাঁর কাছে সহজ ছিল না। বিষয়টি শুধু সামাজিক ট্যাবু ছিল না, বরং অনেকে এ নিয়ে কথাই বলতে চাইতেন না।তিনি জানান, শুটিংয়ের সময় তাঁকে যদি ক্লান্ত বা অন্যরকম দেখাত, তাহলে পরিচালকদের বিরক্তির মুখেও পড়তে হত। নিজের শারীরিক সমস্যার কথা প্রকাশ্যে জানানোর মতো পরিবেশ তখন ছিল না বলেই জানিয়েছেন অভিনেত্রী।

পুরুষ সহ-অভিনেতার জন্য বদলেছিল শুটিংয়ের সময়সূচি
নিজের বক্তব্যের পক্ষে একটি অভিজ্ঞতাও শেয়ার করেছেন শ্রুতি। তাঁর এক পুরুষ সহ-অভিনেতার হাঁটুতে অস্ত্রোপচার হয়েছিল। বিষয়টি জানার পর তাঁর সুবিধার কথা মাথায় রেখে শুটিংয়ের সময়সূচি বদলে দিয়েছিল পুরো টিম।সেখান থেকেই শ্রুতির মনে প্রশ্ন জাগে—একজন অভিনেতার অস্ত্রোপচারের পর যদি কাজের সময়সূচি পরিবর্তন করা যায়, তাহলে প্রতি মাসে ঋতুস্রাবের তীব্র ব্যথার মুখোমুখি হওয়া নারীদের ক্ষেত্রেও কেন একই ধরনের সংবেদনশীলতা থাকবে না?
এক পরিচালকের প্রতিক্রিয়ায় বদলে যায় পরিস্থিতি
তবে সব অভিজ্ঞতা যে একই রকম ছিল, তা নয়। শ্রুতি জানান, একবার তিনি একজন পরিচালককে সরাসরি নিজের পিরিয়ডের কথা বলেছিলেন। সৌভাগ্যক্রমে সেই পরিচালকের একটি মেয়েও ছিল, যে নিজেও পেটের ব্যথায় ভুগত।ফলে পরিচালক বিষয়টি বুঝতে পারেন এবং শ্রুতির সঙ্গে সেই দিনের আচরণ ও কাজের পরিবেশও বদলে যায়। এই ঘটনাটি অভিনেত্রীর কাছে বিশেষভাবে মনে থাকার মতো হয়ে রয়েছে।
কাজের দিক থেকেও ব্যস্ত শ্রুতি
কাজের দিক থেকে শ্রুতি হাসানকে শেষবার রজনীকান্ত অভিনীত ‘কুলি’ ছবিতে দেখা গিয়েছিল। লোকেশ কানাগারাজ পরিচালিত ছবিতে তাঁর সঙ্গে ছিলেন নাগার্জুনা, উপেন্দ্র, সত্যরাজসহ আরও অনেকে।আগামী দিনে বিজয় সেতুপতির সঙ্গে তামিল ছবি ‘ট্রেন’ এবং দুলকার সলমনের সঙ্গে তেলুগু ছবি ‘আকাশমালো ওকা তারা’-তে তাঁকে দেখা যেতে পারে।
ঋতুস্রাবের যন্ত্রণা এবং কর্মক্ষেত্রে তা নিয়ে কথা বলার সংকোচের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন অভিনেত্রী শ্রুতি হাসান। সোহা আলি খানের পডকাস্টে তিনি জানান, তীব্র পিরিয়ড পেইনের কারণে মজা করে বহুবার ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেছেন, যেন পুরুষদেরও পিরিয়ড হয়। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে কর্মক্ষেত্রে ঋতুস্রাব নিয়ে সামাজিক ট্যাবু এবং সচেতনতার প্রয়োজনীয়তার কথাও।







