Sikkim Tunnel Collapse: ৭২ ঘণ্টার টানা উদ্ধার অভিযান শেষ, নির্মীয়মাণ টানেল থেকে উদ্ধার ২৫ শ্রমিকের দেহ

সিকিমের নামচিতে নির্মীয়মাণ টানেলে বিস্ফোরণ ও ধসের ঘটনায় ৭২ ঘণ্টার উদ্ধার অভিযান শেষ। টানেলের ভিতরে আটকে থাকা ২৫ শ্রমিকেরই দেহ উদ্ধার, শুরু SIT তদন্ত।

সিকিমের নামচি জেলায় নির্মীয়মাণ টানেলে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় শেষ হল দীর্ঘ ৭২ ঘণ্টার উদ্ধার অভিযান। NHPC-র তিস্তা স্টেজ-VI জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ চলাকালীন সামারডুং এলাকায় বিস্ফোরণের পর টানেলের একটি বড় অংশ ধসে পড়ে। ভিতরে আটকে পড়েন ২৫ জন শ্রমিক। তিন দিন ধরে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে উদ্ধারকাজ চালানোর পর বৃহস্পতিবার তাঁদের সকলের দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

বিস্ফোরণের পরই ধস, টানেলে আটকে পড়েন শ্রমিকরা

সোমবারের ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর মুহূর্তের মধ্যে নির্মীয়মাণ টানেলের একটি বড় অংশ ধসে পড়ে। ধসের পাশাপাশি সুড়ঙ্গের ভিতরে ধোঁয়া ও বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।দুর্ঘটনার সময় টানেলের ভিতরে থাকা ২৫ জন শ্রমিক বেরিয়ে আসতে পারেননি। খবর পেয়েই দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। তবে ধ্বংসস্তূপ, বিষাক্ত গ্যাস এবং সংকীর্ণ সুড়ঙ্গের কারণে উদ্ধারকারীদেরও চরম ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয়েছে।

একাধিক সংস্থার যৌথ অভিযান

দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজে নামে একাধিক সংস্থা। অভিযানে অংশ নেয় NDRF, SDRF, সিকিম পুলিশ, ভারতীয় সেনা এবং NHPC-র বিশেষজ্ঞ দল। পাশাপাশি ECL ও WCL-এর মাইন রেসকিউ বিশেষজ্ঞরাও উদ্ধার অভিযানে যোগ দেন।আধুনিক প্রযুক্তি, বিশেষ উদ্ধার সরঞ্জাম এবং অভিজ্ঞ উদ্ধারকারীদের সমন্বয়ে ধাপে ধাপে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে টানেলের ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা করা হয়। বিষাক্ত গ্যাসের উপস্থিতি এবং ধসে পড়া অংশের কারণে প্রতিটি পদক্ষেপই ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

৭২ ঘণ্টা পর মিলল শেষ দেহ

টানা তিন দিন ধরে চলা অভিযানে একে একে শ্রমিকদের দেহ উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার শেষ শ্রমিকের দেহ উদ্ধারের পর প্রশাসনের তরফে জানানো হয়, টানেলের ভিতরে আর কেউ আটকে নেই।এর পরই আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয় ৭২ ঘণ্টার ম্যারাথন উদ্ধার অভিযান। মর্মান্তিক এই ঘটনায় সিকিমের পাশাপাশি গোটা দেশেই শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।

দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে SIT তদন্ত

ভয়াবহ দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে ইতিমধ্যেই বিশেষ তদন্তকারী দল বা SIT গঠন করেছে সিকিম সরকার। টানেলে নিরাপত্তাবিধি যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কি না, বিস্ফোরণের সঠিক উৎস কোথায় এবং কোনও ধরনের গাফিলতি ছিল কি না—সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।তদন্তে কারও গাফিলতি বা নিয়মভঙ্গের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রশাসনের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

নিহতদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস

মৃত শ্রমিকদের পরিবারের জন্য আর্থিক সাহায্য এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে সিকিম সরকার। মুখ্যমন্ত্রীও এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন।

সিকিমের নামচি জেলার সামারডুং এলাকায় নির্মীয়মাণ টানেলে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও ধসের ঘটনায় ৭২ ঘণ্টার দীর্ঘ উদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে। টানেলের ভিতরে আটকে থাকা ২৫ জন শ্রমিকেরই দেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ ও নিরাপত্তাবিধি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে সিকিম সরকার।

Leave a comment