ফের এক মর্মান্তিক ও হাড়হিম করা ঘটনায় স্তব্ধ শিলিগুড়ি। নিরাপত্তার আশ্বাসে বিশ্বাস রেখে বাড়ি ফেরার পথে বেরিয়েছিল এক কিশোরী। কিন্তু সেই বিশ্বাসকেই অস্ত্র করে চা-বাগানের অন্ধকারে সারারাত ধরে পৈশাচিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠল দুই পরিচিত যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনায় চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়েছে এলাকায়।
কীভাবে ঘটল এই ভয়াবহ ঘটনা
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত শুক্রবার রাতে শিলিগুড়ির প্রধাননগর থানা এলাকার একটি বিয়েবাড়িতে গিয়েছিল ওই নাবালিকা। সেখানেই নিমন্ত্রিত ছিল অভিযুক্ত দুই যুবক, যাদের বয়স আনুমানিক ২২–২৩ বছর। অনুষ্ঠান শেষে একা বাড়ি ফিরতে অস্বস্তি বোধ করছিল মেয়েটি। তখনই তারা ‘দাদা’ সেজে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়।
চা-বাগানের অন্ধকারে রাতভর নির্যাতনের অভিযোগ
পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, বাড়ির পথে রওনা দেওয়ার পর মাঝরাস্তায় জোর করে নাবালিকাকে একটি চা-বাগানের ভেতরে নিয়ে যায় অভিযুক্তরা। অভিযোগ, রাত প্রায় ১১টা থেকে শনিবার ভোর চারটে পর্যন্ত টানা কয়েক ঘণ্টা ধরে দফায় দফায় গণধর্ষণ করা হয় ওই কিশোরীকে।
ভোরে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা
ভোরের দিকে চা-বাগানেই মেয়েটিকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা বলে অভিযোগ। পরে কোনওমতে নিজে নিজেই বাড়ি পৌঁছয় নাবালিকা। পুরো ঘটনার কথা সে তার দাদাকে জানালে পরিবারের তরফে সঙ্গে সঙ্গে প্রধাননগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
পুলিশি পদক্ষেপ ও আদালতের নির্দেশ
অভিযোগ পেয়ে দ্রুত তদন্তে নেমে শনিবার রাতেই অভিযুক্ত দুই যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রবিবার তাদের শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তিন দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। নাবালিকাকে শিলিগুড়ির একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।
পকসো আইনে মামলা, তদন্তে নতুন তথ্যের খোঁজ
শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের ডিসিপি রাকেশ সিং জানান, “অভিযোগের ভিত্তিতে পকসো আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” পুলিশ অভিযুক্তদের অতীত রেকর্ড ও ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চালাচ্ছে।
পরিবারের দাবি ও সমাজের ক্ষোভ
নির্যাতিতার পরিবারের তরফে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। মেয়েটির দাদা বলেন, “এত ঘৃণ্য অপরাধ করে যেন কোনওভাবেই ওরা ছাড় না পায়।” ঘটনার পর সমাজকর্মী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলির তরফেও কড়া শাস্তির দাবি উঠেছে।
শিলিগুড়ির প্রধাননগর থানা এলাকায় ১৫ বছরের নাবালিকাকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে চা-বাগানে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তারই পরিচিত দুই যুবকের বিরুদ্ধে। পুলিশ পকসো আইনে মামলা রুজু করে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করেছে।











