সাইনাসের ব্যথা একবার শুরু হলে মাথা, কপাল, গাল এমনকী চোখের আশপাশেও চাপ ও অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। নাক বন্ধ হয়ে শ্বাস নিতেও সমস্যা হয়। তবে প্রতিবারই যে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন, এমনটা নয়। আইএলএস, হাওড়া হাসপাতালের ইএনটি বিশেষজ্ঞ ডক্টর তনহা জারিন নাজের পরামর্শ অনুযায়ী, কিছু সহজ অভ্যাস ও ঘরোয়া যত্নে মৃদু উপসর্গে সাময়িক স্বস্তি পাওয়া যেতে পারে।
![]()
সাইনাসাইটিস কেন বাড়ে?
সাইনাসের ভিতরের আস্তরণে প্রদাহ হলে সেখানে মিউকাস জমতে শুরু করে। ফলে সাইনাস থেকে সেই শ্লেষ্মা সহজে বেরোতে পারে না এবং নাক বন্ধ, মুখে চাপ কিংবা ব্যথার মতো সমস্যা দেখা দেয়।ঠান্ডা ও শুষ্ক বাতাস নাকের পথকে শুষ্ক ও সংবেদনশীল করে তুলতে পারে। আবার তাপমাত্রা বা আর্দ্রতার হঠাৎ পরিবর্তনেও সংবেদনশীল শ্বাসনালিতে ফোলাভাব তৈরি হতে পারে।
অ্যালার্জি থেকেও হতে পারে সমস্যা
পরাগরেণু, ছত্রাক এবং ধূলিকণার মতো অ্যালার্জেন নাকের ভিতরে প্রদাহ তৈরি করতে পারে। এর ফলে সাইনাসের নিষ্কাশনের পথ আটকে গিয়ে উপসর্গ বাড়তে পারে।এছাড়া ভাইরাসজনিত সর্দি থেকেও তীব্র সাইনাসের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে জটিলতাহীন তীব্র ভাইরাল রাইনোসাইনাসাইটিস অনেক ক্ষেত্রেই ৭-১০ দিনের মধ্যে নিজে থেকেই ভালো হয়ে যায়।
স্যালাইন দিয়ে নাক পরিষ্কার রাখুন
মৃদু সাইনাসের সমস্যায় স্যালাইন ন্যাজাল স্প্রে বা স্যালাইন দিয়ে নাক ধোয়া উপকারী হতে পারে। এতে নাকের ভিতরের জমে থাকা মিউকাস এবং অ্যালার্জেন পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।নেটি পট বা স্কুইজ বোতল ব্যবহার করলে অবশ্যই জীবাণুমুক্ত বা পরিশোধিত জল ব্যবহার করতে হবে। চাইলে জল ফুটিয়ে ঠান্ডা করেও ব্যবহার করা যায়। সরাসরি কলের জল দিয়ে নাক ধোয়া উচিত নয়।
![]()
জল খান, গরম সেঁক নিন
শরীরে পর্যাপ্ত জল থাকলে মিউকাস তুলনামূলক পাতলা থাকে এবং তা সহজে বেরিয়ে আসতে পারে। তাই সাইনাসের সমস্যায় পর্যাপ্ত পরিমাণে তরল পান করা জরুরি।এছাড়া কপাল, নাক ও গালের উপর হালকা গরম ও ভেজা কাপড় দিয়ে সেঁক দিলে মুখের চাপ ও অস্বস্তি কমতে পারে। গরম জলে স্নান বা আর্দ্র বাতাসও নাকের শুষ্কতা ও বন্ধভাব থেকে সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে।তবে খুব গরম বাষ্প নেওয়া থেকে বিরত থাকুন। এতে ত্বকে পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
সাইনাসে এই ৪ ধরনের গন্ধ এড়িয়ে চলুন
সাইনাসের সমস্যা থাকলে নাকের ভিতরের প্রদাহ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে এমন সিগারেটের ধোঁয়া, কড়া সুগন্ধি, ধুলোবালি এবং অন্যান্য তীব্র/জ্বালাময়ী গন্ধ থেকে দূরে থাকা ভালো।বিশেষ করে পারফিউম, ধূপ বা ধোঁয়ার মতো তীব্র গন্ধে কারও কারও নাকের অস্বস্তি ও বন্ধভাব বেড়ে যেতে পারে। নিজের ক্ষেত্রে কোন গন্ধে সমস্যা বাড়ছে, সেটি খেয়াল করে তা এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।
ঘুমের সময় মাথা একটু উঁচুতে রাখুন
সাইনাসের উপসর্গ থাকলে পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম শরীরকে সুস্থ হতে সাহায্য করে। রাতে ঘুমানোর সময় মাথা সামান্য উঁচুতে রাখলে মিউকাস বের হতে সুবিধা হতে পারে এবং নাক বন্ধভাব কিছুটা কমতে পারে।
![]()
কখন আর ঘরোয়া টোটকা নয়?
উপসর্গ ১০ দিনের বেশি স্থায়ী হলে এবং কোনও উন্নতি না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার। আবার প্রথমে কিছুটা ভালো হওয়ার পর হঠাৎ করে সমস্যা অনেক বেড়ে গেলেও চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত।বিশেষ করে তীব্র মুখের ব্যথা, উচ্চ জ্বর বা চোখের চারপাশে ফোলাভাব দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
![]()
সাইনাসাইটিসে নাক বন্ধ, মাথা ও মুখে চাপ, ব্যথা এবং অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। ঋতু পরিবর্তন, অ্যালার্জি, ধুলোবালি ও শুষ্ক বাতাসে সমস্যা বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী, স্যালাইন দিয়ে নাক পরিষ্কার রাখা, পর্যাপ্ত জল খাওয়া, হালকা গরম সেঁক ও বিশ্রাম উপসর্গ কমাতে সাহায্য করতে পারে। একইসঙ্গে ধোঁয়া, তীব্র সুগন্ধি, ধুলোবালি ও নাকে জ্বালা ধরায় এমন গন্ধ এড়ানো জরুরি।





