Special Intensive Revision (SIR): নির্বাচন কমিশন রবিবার বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানায় যে, ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক এবং বিএলও-সহ বিভিন্ন স্তরের আপত্তির পর পরিবর্তন আনা হয়েছে সময়সূচিতে। বাংলা-সহ ১২টি রাজ্যে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের তারিখ ৯ ডিসেম্বর থেকে বাড়িয়ে ১৬ ডিসেম্বর করা হয়েছে। একই সঙ্গে ফর্ম জমা ও তথ্য আপলোডের সময়সীমা ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। কমিশন সূত্রের দাবি, মাঠপর্যায়ের কর্মীদের চাপ, প্রযুক্তিগত সমস্যাসহ বিভিন্ন কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সময়সীমা বাড়াল কমিশন: বিতর্কে পথ বদল
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) নিয়ে রাজ্যজুড়ে একাধিক আপত্তি ও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল গত কয়েক সপ্তাহে। বিএলওদের অতিরিক্ত কাজের চাপ, অ্যাপের প্রযুক্তিগত সমস্যা, তথ্য আপলোডে জটিলতা—সব মিলিয়ে সময় বাড়ানোর দাবি উঠছিল বিভিন্ন স্তর থেকে। অবশেষে নির্বাচন কমিশন সেই দাবিকেই গুরুত্ব দিয়ে পুনর্নির্ধারিত করল সময়সূচি।ফলে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের দিন পিছিয়ে ১৬ ডিসেম্বর হয়েছে, আর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ পাবে ১৪ ফেব্রুয়ারি।
ফর্ম জমা, দাবি–আপত্তি ও হিয়ারিং—সবেতেই বাড়ল সময়
কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ফর্ম বিতরণ ও সংগ্রহের কাজ ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। বিএলও অ্যাপের সার্ভার সমস্যায় তথ্য আপলোডে দেরি হওয়ায় এই সময় বাড়ানোর প্রয়োজন পড়ে বলে জানিয়েছে সূত্র।
১৬ ডিসেম্বর থেকে ১৫ জানুয়ারি — চলবে দাবি ও আপত্তি জানানোর সময়সীমা।
১৬ ডিসেম্বর থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি — হিয়ারিং পর্ব চলবে টানা।
১৪ ফেব্রুয়ারি — প্রকাশ পাবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা।

বিএলওদের কর্মচাপ ও প্রযুক্তিগত সমস্যা বড় কারণ
বহু বিএলও অভিযোগ করেছিলেন যে, এক হাজারেরও বেশি ভোটারের ডেটা অল্প সময়ে আপলোড করা অত্যন্ত কঠিন। সার্ভার স্লো, অ্যাপ ত্রুটি, অস্বচ্ছ নেটওয়ার্ক—এসবের ফলে প্রতিদিনই সময় নষ্ট হচ্ছিল তাঁদের।কাজের চাপ থেকে মানসিক অবসাদ, অসুস্থতা, এমনকি আত্মহত্যার ঘটনাও আলোচনায় আসে। প্রশাসনের উচ্চস্তরের আধিকারিকরাও এত কম সময়ে তালিকা প্রকাশে সতর্ক করেছিলেন কমিশনকে।
রাজনৈতিক চাপও কি সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখল?
তৃণমূল কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরেই সময়সীমা বাড়ানোর দাবি তুলেছিল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, অল্প সময়ে এসআইআর করলে ভুলে ভরা তালিকা তৈরি হবে। তিনি আরও সময় নিয়ে সঠিকভাবে কাজ করার আর্জি জানান নির্বাচন কমিশনকে।অন্যদিকে, তৃণমূল আগেই ঘোষণা করেছে—একজন বৈধ ভোটারের নামও বাদ পড়লে তারা রাজপথে আন্দোলনে নামবে। রাজনৈতিক চাপের প্রভাব সিদ্ধান্তে পড়েছে বলে মনে করছে পর্যবেক্ষক মহল।

এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে একাধিক বিতর্ক ও প্রশাসনিক চাপে অবশেষে সময়সীমা বাড়াল নির্বাচন কমিশন। বাংলা-সহ ১২ রাজ্যে খসড়া ভোটার তালিকা এখন ৯ ডিসেম্বরের বদলে প্রকাশ পাবে ১৬ ডিসেম্বর। বাড়ল ফর্ম জমা, দাবি-আপত্তি ও হেয়ারিং-এর সময়সীমাও। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি।









