একদিন নয়, বারবার—প্রায় রোজই যদি রাতের গভীরে হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায়, তা হলে বিষয়টিকে হালকা করে নেওয়া ঠিক নয়। বিশেষ করে রাত ১টা থেকে ৩টের মধ্যে ঘুম ভেঙে যাওয়া বা ভেঙে যাওয়ার পর আর ঘুম না আসা শরীরের ভেতরের সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। কেন ঠিক এই সময়েই ঘুম ভাঙে? তার পিছনে রয়েছে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা।
ঘুমের গভীরতা বদলায় রাত ৩টের দিকে
বিশেষজ্ঞদের মতে, যাঁরা প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমোতে যান, তাঁদের ক্ষেত্রে রাত ৩টে নাগাদ ঘুম গভীর স্তর থেকে তুলনামূলক হালকা স্তরে প্রবেশ করে। এই পরিবর্তনের সময় সামান্য আওয়াজ, নড়াচড়া বা মানসিক অস্থিরতায় ঘুম ভেঙে যেতে পারে।
কর্টিসল হরমোনের প্রভাব
কর্টিসলকে বলা হয় ‘স্ট্রেস হরমোন’। গবেষণায় দেখা গেছে, রাত প্রায় ৩টে নাগাদ শরীরে কর্টিসলের নিঃসরণ বাড়তে শুরু করে। এর ফলে মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে সক্রিয় হতে থাকে এবং ঘুমের ছন্দে ব্যাঘাত ঘটে।
মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তার ছাপ
দিনভর চাপ, উদ্বেগ বা অতিরিক্ত চিন্তা থাকলে তার প্রভাব পড়ে গভীর ঘুমের উপর। রাতের শেষভাগে মস্তিষ্ক যখন বিশ্রাম থেকে জাগরণের দিকে যায়, তখন এই চাপ ঘুম ভেঙে দেওয়ার অন্যতম কারণ হয়ে ওঠে।
ডায়াবেটিস থাকলে বাড়ে ঝুঁকি
চিকিৎসকদের মতে, ডায়াবেটিস থাকলে ভোরের আগে ঘুম ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। রক্তে শর্করার ওঠানামা ঘুমের স্বাভাবিক চক্রে বাধা সৃষ্টি করে, ফলে মাঝরাতে ঘুম ভাঙতে পারে।
বয়স বাড়ার সঙ্গে ঘুমের পরিবর্তন
বয়স বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই গভীর ঘুমের পরিমাণ কমে আসে। অনেক ক্ষেত্রে তাড়াতাড়ি ঘুমোতে গেলে রাত ৩টে নাগাদ ঘুম ভেঙে যায়। এছাড়া বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও এই সমস্যার কারণ হতে পারে।
অভ্যাসগত কারণও দায়ী
প্রতিদিন একই রকম জীবনযাপন করলে শরীর একটি নির্দিষ্ট রুটিনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে যদি একই সময়ে ঘুম ভাঙে, তবে সেটি শরীরের বায়োলজিক্যাল ক্লকের ফলও হতে পারে।
রাত ঠিক ৩টে নাগাদ ঘুম ভেঙে যাওয়া শুধু অভ্যাসের সমস্যা নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমোনের ওঠানামা, স্ট্রেস, ডায়াবেটিস থেকে বয়সজনিত পরিবর্তন—একাধিক কারণ লুকিয়ে থাকতে পারে এই ‘ঘুমভাঙা’র নেপথ্যে।











