দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশের পর দিল্লি পুলিশ জলবায়ু কর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুককে শনিবার ভোরে জন্তর মন্তর থেকে সরিয়ে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করেছে। টানা ২০ দিনের অনশন কর্মসূচির পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
সোনম ওয়াংচুক ২৮ জুন থেকে নয়াদিল্লির জন্তর মন্তরে অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করেছিলেন। তাঁর আন্দোলন লাদাখ-সংক্রান্ত বিভিন্ন সামাজিক, পরিবেশগত এবং সাংবিধানিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে ছিল। গত ২০ দিনে বিপুল সংখ্যক সমর্থক আন্দোলনস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁর কর্মসূচি দেশ-বিদেশে ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করে।
দিল্লি পুলিশের মতে, ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার ধারাবাহিক অবনতির কারণে তাঁকে অবিলম্বে চিকিৎসা সুবিধা দেওয়া প্রয়োজন হয়ে পড়ে। কর্মকর্তারা জানান, দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী তাঁর স্বাস্থ্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করার ব্যবস্থা করা হয়।
শনিবার ভোরে পুলিশ দল জন্তর মন্তরে পৌঁছে চিকিৎসা সহায়তার মাধ্যমে সোনম ওয়াংচুককে সফদরজং হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা চলছে।
শুক্রবার প্রকাশিত মেডিক্যাল বুলেটিন অনুযায়ী, দীর্ঘ উপবাসের কারণে সোনম ওয়াংচুকের ওজন প্রায় ৯ কিলোগ্রাম কমে ৫৬.৫৫ কিলোগ্রামে নেমে এসেছে। চিকিৎসকেরা জানান, দীর্ঘ অনশনের ফলে শরীরে গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে এবং সময়মতো চিকিৎসাগত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন ছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় খাদ্য গ্রহণ না করলে অপুষ্টি, ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতা, পেশির দুর্বলতা এবং অন্যান্য জটিল স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। এই কারণেই চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা তাঁর নিয়মিত পর্যবেক্ষণের সুপারিশ করেছিলেন।

দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশ কার্যকর করে ওয়াংচুককে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলে কয়েকজন বিক্ষোভকারী এর বিরোধিতা করেন। এতে কিছু সময়ের জন্য সামান্য বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে পুলিশের দাবি, পুরো প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবে এবং সর্বোচ্চ সংযম বজায় রেখে সম্পন্ন করা হয়েছে। কোনো বড় ধরনের সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি। প্রশাসন বিক্ষোভকারীদের আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনস্থল খালি করার আহ্বান জানিয়েছে।
সোনম ওয়াংচুক দীর্ঘদিন ধরে হিমালয় অঞ্চলে পরিবেশ সংরক্ষণ, টেকসই উন্নয়ন এবং লাদাখের অধিকার-সংক্রান্ত বিষয় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরে আসছেন। তাঁর অনশন কর্মসূচি ভারতের বিভিন্ন অংশের পাশাপাশি বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয় সম্প্রদায় এবং পরিবেশ-সমর্থকদেরও সমর্থন পেয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি শুধু একজন ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ, পরিবেশগত উদ্বেগ এবং প্রশাসনিক দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্যের সঙ্গেও সম্পর্কিত।
বর্তমানে সফদরজং হাসপাতালে সোনম ওয়াংচুকের চিকিৎসা চলছে এবং চিকিৎসকেরা তাঁর শারীরিক অবস্থার ওপর নিয়মিত নজর রাখছেন। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তাঁর অনশন আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এদিকে তাঁর সমর্থকেরা আন্দোলনের পরবর্তী কৌশল নিয়ে আলোচনা করছেন। প্রশাসনের বক্তব্য, তাদের অগ্রাধিকার ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা। অন্যদিকে, তাঁর সমর্থকেরা আন্দোলনের দাবিগুলি নিয়ে অর্থবহ সংলাপ শুরুর আহ্বান জানিয়েছেন।










