অ্যাক্টিভিস্ট সোনম ওয়াংচুক দীর্ঘ অনশন কর্মসূচি শেষ করেছেন। সরকারের পক্ষ থেকে লিখিত আশ্বাস পাওয়ার পর তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডার হাত থেকে জুস পান করে অনশন ভঙ্গ করেন। পরে এক ভিডিও বার্তায় তিনি সরকারের সঙ্গে হওয়া আলোচনা এবং প্রাপ্ত আশ্বাস সম্পর্কে বিস্তারিত জানান।
ওয়াংচুকের বক্তব্য অনুযায়ী, গত দুই দিন ধরে কেন্দ্র সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ও গভীর আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, শুধুমাত্র মৌখিক আশ্বাসের ভিত্তিতে তিনি অনশন প্রত্যাহার করতে চাননি এবং সরকারের কাছে লিখিত আশ্বাস চেয়েছিলেন। আলোচনায় উভয় পক্ষের মধ্যে একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। শেষ পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে লিখিত প্রস্তাব পাওয়ার পর তিনি আন্দোলন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন।
অনশন প্রত্যাহারের জন্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং হাসপাতলে সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ওয়াংচুক জানান, এ সময় লাদাখের অ্যাপেক্স বডির জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, এর আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রায় ৬৫ জন সাংসদও তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। তাঁরা অনশন প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান এবং পরীক্ষা ব্যবস্থা ও কথিত NEET প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সংসদে উত্থাপনের আশ্বাস দেন।
ওয়াংচুকের মতে, সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনায় অংশ নেওয়া মন্ত্রীরাও তাঁর দাবিগুলোর প্রতি ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন। তিনি বলেন, দুই দিনের আলোচনা শেষে সরকারের পক্ষ থেকে লিখিত আশ্বাস পাওয়ার পরই তিনি অনশন শেষ করার সিদ্ধান্ত নেন।
সোনম ওয়াংচুক জানান, সরকারের লিখিত আশ্বাসে তিনটি প্রধান বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রথমত, তাঁর দাবি অনুযায়ী, যন্তর-মন্তরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ছাত্র-যুবকদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা বা এফআইআর দায়ের করা হবে না। তিনি আরও দাবি করেন, ২০ জুলাই প্রস্তাবিত ‘সংসদ চলো’ মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।
দ্বিতীয়ত, ওয়াংচুক বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস বিতর্ক-সংশ্লিষ্ট ঘটনায় প্রাণ হারানো ২০ জনের বেশি শিক্ষার্থীর পরিবারের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

তৃতীয়ত, তিনি জানান, পরীক্ষা ব্যবস্থা এবং শিক্ষা-সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা ও বিতর্ক হবে। ওই আলোচনায় সরকারের জবাবদিহিতার বিষয়ও বিবেচনা করা হবে। ওয়াংচুক বলেন, এর উদ্দেশ্য ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা এবং বর্তমান বিতর্ক-সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলোর দায় নির্ধারণ করা।
সোনম ওয়াংচুক স্পষ্ট করেন যে, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে তাঁকে কোনো নির্দিষ্ট আশ্বাস দেওয়া হয়নি। তাঁর মতে, আলোচনার সময় পদত্যাগ হবে কি না বা হলে কবে হবে, সে বিষয়ে কিছু স্পষ্ট করা হয়নি। তবে তিনি বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল না।
তিনি বলেন, তাঁর মূল উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখা এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশ নেওয়া তরুণদের এমন কোনো আইনি পদক্ষেপের মুখোমুখি না হতে দেওয়া, যার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব তাদের কর্মজীবনে পড়তে পারে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করলেও তার সরাসরি ক্ষতি শিক্ষার্থী বা আন্দোলনকারীদের হবে না। তাঁর মতে, এতে সরকারের জবাবদিহিতা এবং রাজনৈতিক ক্ষতির প্রশ্নই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
ওয়াংচুক বলেন, তাঁর সামনে অনশন চালিয়ে যাওয়া অথবা সরকারের লিখিত আশ্বাসের পর আন্দোলন শেষ করার দুটি বিকল্প ছিল। তিনি জানান, বহু সমর্থক তাঁকে স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া এবং ভবিষ্যতের লড়াইয়ের জন্য সুস্থ থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি বলেন, তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল যাতে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশ নেওয়া তরুণদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া না হয়। পাশাপাশি তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংসদে নির্ধারিত আলোচনার মাধ্যমে শিক্ষা ও পরীক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহিতা এবং সংস্কার নিয়ে বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।











