এক সময় সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত ছিল রায়দিঘির জেটি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই জেটির নাব্যতা কমে এখন পরিস্থিতি কার্যত সঙ্কটজনক। জোয়ার-ভাটার টানে বড় ট্রলার বা নৌযান চলাচল করতেই সমস্যার মুখে পড়ছে। এই অবস্থায় বিকল্প হিসেবে উঠে এসেছে নগেন্দ্রপুরে তৈরি হতে চলা নতুন জেটির নাম
রায়দিঘির জেটিতে বাড়ছে দুর্ভোগ
গত কয়েক বছরে দ্রুত হারে পলি জমে রায়দিঘির জেটির নাব্যতা কমেছে। ফলে প্রতিদিন যাতায়াত করা সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে মৎস্যজীবী—সকলেই সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। বিশেষ করে ভাটার সময় বড় নৌকা বা ট্রলার আটকে যাওয়ার ঘটনা এখন প্রায় নিত্যদিনের চিত্র।স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই জেটির সংস্কারের দাবি উঠলেও কার্যকর পদক্ষেপ খুব একটা চোখে পড়েনি। ফলে বিকল্প ব্যবস্থা তৈরির দাবি এখন আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।
নগেন্দ্রপুরে নতুন জেটি ঘিরে আশার আলো
রায়দিঘি থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে ঠাকুরান নদীর ধারে দমকল খেয়াঘাট সংলগ্ন নগেন্দ্রপুর এলাকায় নতুন জেটি তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। স্থানীয়দের দাবি, ওই এলাকায় নদীর নাব্যতা অনেক বেশি থাকায় সারা বছর বড় ট্রলার বা জলযান সহজেই চলাচল করতে পারবে।যদিও জেটির নির্মাণকাজ এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। কবে তা চালু হবে, সে বিষয়ে প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট কোনও সময়সীমাও জানানো হয়নি। তবু আশা ছাড়ছেন না এলাকার মানুষ।
মৎস্যজীবীদের জন্য বড় সুবিধা
নগেন্দ্রপুর জেটি চালু হলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবেন মৎস্যজীবীরা। কারণ এই জেটিটিকে ল্যান্ডিং সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে। গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া ট্রলারগুলি সহজেই সেখানে নোঙর ফেলতে পারবে।এছাড়াও জেটির কাছেই একটি বরফ কল তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। ফলে মাছ সংরক্ষণ ও পরিবহণ আরও সহজ হবে। এতে স্থানীয় মৎস্য ব্যবসার প্রসার ঘটবে বলেই মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
সুন্দরবন পর্যটনেও খুলতে পারে নতুন দিগন্ত
শুধু মৎস্যজীবী নয়, পর্যটকদের কাছেও এই জেটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। স্থানীয়দের মতে, নগেন্দ্রপুর থেকে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় দ্রুত পৌঁছনো সম্ভব হবে। বিশেষ করে বনি ক্যাম্প-সহ বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ আরও সহজ হয়ে যাবে।ফলে সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন শিল্পেও নতুন গতি আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। নতুন জেটি চালু হলে রায়দিঘির উপর চাপও অনেকটাই কমবে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘি জেটির নাব্যতা দ্রুত কমে যাওয়ায় চরম সমস্যায় পড়েছেন নিত্যযাত্রী ও মৎস্যজীবীরা। এই পরিস্থিতিতে ঠাকুরান নদীর তীরে নগেন্দ্রপুরে নতুন জেটি নির্মাণের দাবি আরও জোরালো হয়েছে।











