ঘরের সিলিং, জানালার কোণ কিংবা পুরনো আসবাবের পিছনে বারবার মাকড়সার জাল দেখতে পান? অনেকেই জাল পরিষ্কার করেও কিছুদিনের মধ্যে একই সমস্যায় পড়েন। এর অন্যতম কারণ, মাকড়সার ঘরে ঢোকার পথ খোলা থাকা এবং তাদের খাবার হিসেবে ছোট পোকামাকড়ের উপস্থিতি। তবে কিছু সহজ পদক্ষেপে বাড়িতে মাকড়সার আনাগোনা কমানো সম্ভব। পাশাপাশি, মাকড়সা কামড়ালে কোন লক্ষণগুলিকে অবহেলা করা উচিত নয়, সেটাও জানা জরুরি।
মাকড়সা কেন বারবার ঘরে আসে?
মাকড়সা সাধারণত খাবার ও আশ্রয়ের সন্ধানে ঘরের ভিতরে ঢুকে পড়ে। বাড়িতে পিঁপড়ে, আরশোলা বা অন্য ছোট পোকামাকড়ের উপস্থিতি থাকলে সেখানে মাকড়সার থাকার সম্ভাবনাও বাড়তে পারে। ঘরের অন্ধকার কোণ, পুরনো বাক্স, স্টোররুম এবং কম পরিষ্কার করা জায়গা তাদের লুকিয়ে থাকার উপযুক্ত স্থান।
তাই শুধু জাল সরিয়ে ফেললেই হবে না। ঘরের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং পোকামাকড়ের উপদ্রব কমানোর দিকেও নজর দিতে হবে।
দরজা-জানালার ফাঁক বন্ধ করুন
মাকড়সাকে ঘরের বাইরে রাখার অন্যতম কার্যকর উপায় হল তাদের প্রবেশপথ বন্ধ করা। দরজা ও জানালার চারপাশে কোনও ফাঁক রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করুন। দরজার নীচের অংশে ফাঁক থাকলে উপযুক্ত ডোর সুইপ বা সিল লাগানো যেতে পারে। জানালার নেট ছেঁড়া থাকলে সেটিও মেরামত করুন।
এই ছোট পদক্ষেপগুলি মাকড়সার পাশাপাশি অন্যান্য পোকামাকড়ের ঘরে ঢোকার সুযোগও কমাতে পারে। তবে একবারেই বাড়ি সম্পূর্ণ মাকড়সামুক্ত হয়ে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখুন
বাড়ির দেওয়াল ঘেঁষে কাঠের টুকরো, ইট, পুরনো তক্তা কিংবা অপ্রয়োজনীয় জিনিস জমিয়ে রাখবেন না। এগুলির মধ্যে ছোট পোকামাকড় আশ্রয় নিতে পারে, যা মাকড়সাকে আকৃষ্ট করে। বাড়ির গা ঘেঁষে থাকা ঝোপঝাড়, লতা ও গাছের ডালপালাও নিয়মিত ছেঁটে রাখুন।
বারান্দা, বাইরের আলো, জানালার গ্রিল এবং আসবাবের আশপাশে জাল জমলে দ্রুত পরিষ্কার করুন। বাগানের দস্তানা বা বুট দীর্ঘদিন ব্যবহার না করে রেখে দিলে পরার আগে ভালোভাবে ঝেড়ে নিন।
পুরনো বাক্স ও স্টোররুমে নজর দিন
স্টোররুম, গ্যারেজ কিংবা চিলেকোঠায় অপ্রয়োজনীয় জিনিস জমে থাকলে মাকড়সা লুকিয়ে থাকার সুযোগ পায়। তাই নিয়মিত এই জায়গাগুলি পরিষ্কার করুন। উৎসবের সাজসজ্জার সামগ্রী বা পুরনো জিনিসপত্র ঢাকনাযুক্ত প্লাস্টিকের বাক্সে রাখুন।
গুদাম থেকে পুরনো আসবাব, কার্টন বা বাক্স বাড়ির ভিতরে আনার আগে সেগুলিতে মাকড়সা কিংবা ডিমের থলি রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করে নিন।
লেবুর তেল বা ঘরোয়া টোটকা কি সত্যিই কাজ করে?
মাকড়সা তাড়াতে লেবুর তেল বা বিভিন্ন এসেনশিয়াল অয়েল ব্যবহারের পরামর্শ ইন্টারনেটে প্রায়ই দেখা যায়। কিন্তু এগুলি যে নির্ভরযোগ্যভাবে মাকড়সা তাড়াতে পারে, তার পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই। তাই শুধু ঘরোয়া টোটকার উপর নির্ভর না করে প্রবেশপথ বন্ধ করা, জাল পরিষ্কার করা এবং পোকামাকড়ের উপদ্রব কমানোর মতো পদ্ধতিতে গুরুত্ব দেওয়া ভালো।
মাকড়সা কি মানুষকে কামড়ায়?
হ্যাঁ, মাকড়সা কামড়াতে পারে। তবে অধিকাংশ মাকড়সা মানুষের থেকে দূরে থাকতে চায় এবং সাধারণত চেপে যাওয়া বা বিরক্ত হওয়ার মতো পরিস্থিতিতে কামড়াতে পারে। অনেক প্রজাতির কামড়ে বড় ধরনের সমস্যা হয় না। তবে প্রজাতিভেদে প্রতিক্রিয়া আলাদা হতে পারে।
কামড়ের জায়গায় ব্যথা, লালচে ভাব বা ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। তীব্র ব্যথা, পেশিতে খিঁচুনি, দ্রুত বাড়তে থাকা ফোলা বা অন্য গুরুতর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। শ্বাসকষ্ট বা মুখ-গলা ফুলে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন। মাকড়সা শনাক্ত করতে গিয়ে সেটিকে খালি হাতে ধরবেন না।
ঘরে মাকড়সা দেখলে কী করবেন?
ঘরের ভিতরে মাকড়সা দেখলে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন। সম্ভব হলে একটি গভীর পাত্র ও শক্ত কার্ডবোর্ড ব্যবহার করে সেটিকে ঢেকে বাইরে ছেড়ে দেওয়া যায়। তবে মাকড়সাটি বিপজ্জনক হতে পারে বলে সন্দেহ হলে নিজে ধরার চেষ্টা করবেন না। প্রয়োজনে পেশাদার কীটনিয়ন্ত্রণ পরিষেবার সাহায্য নিন।
ঘরের কোণে মাকড়সার জাল জমে থাকলে শুধু পরিষ্কার করলেই সমস্যার সমাধান হয় না। দরজা-জানালার ফাঁক বন্ধ করা, ঘর গোছানো এবং মাকড়সার খাবার হিসেবে কাজ করে এমন পোকামাকড়ের উপদ্রব কমানো জরুরি। বেশিরভাগ বাড়িতে দেখা যাওয়া মাকড়সা মানুষের জন্য তেমন বিপজ্জনক নয়। তবে কিছু প্রজাতির কামড়ে ব্যথা বা ত্বকের সমস্যা হতে পারে। তাই মাকড়সা দূরে রাখতে কোন অভ্যাসগুলি কাজে আসে, তা জেনে রাখা দরকার।













