খেলা এবার শুধু মাঠের প্রতিযোগিতায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। ক্রীড়াকে কেন্দ্র করে নতুন প্রজন্মের ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে বিধাননগরকে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘স্পোর্টস সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছেন ভারতের টেনিস কিংবদন্তি লিয়েন্ডার পেজ। তাঁর দাবি, শহরে ইতিমধ্যেই রয়েছে প্রয়োজনীয় ক্রীড়া পরিকাঠামো। সঠিক পরিকল্পনা ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়া গেলে সল্টলেক-বিধাননগর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্পোর্টস হাব হয়ে উঠতে পারে।
বিধাননগরকে ‘স্পোর্টস সিটি’ করার ভাবনা
উত্তর ২৪ পরগনার বিধাননগরকে আগামী দিনে দেশের অন্যতম সেরা ক্রীড়াকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন লিয়েন্ডার পেজ। তাঁর মতে, শহরের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা ক্রীড়া পরিকাঠামোকে আরও সুসংগঠিতভাবে ব্যবহার করা গেলে একটি আধুনিক স্পোর্টস সিটি তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে।শহরের বিভিন্ন মাঠের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, বর্তমান পরিকাঠামোর উপর ভিত্তি করেই ভবিষ্যতে আরও বড় পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
রয়েছে একাধিক আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া পরিকাঠামো
বিধাননগরে ফুটবল মাঠ থেকে শুরু করে টেনিস কোর্ট, ব্যাডমিন্টন কোর্ট এবং সুইমিং পুল—একাধিক ক্রীড়া পরিকাঠামো রয়েছে। এই সমস্ত সুযোগ-সুবিধাকে এক ছাতার নিচে এনে আরও উন্নত প্রশিক্ষণ ও অনুশীলনের পরিবেশ তৈরি করার পরিকল্পনার কথা উঠে এসেছে।লিয়েন্ডার পেজের মতে, সল্টলেক স্পোর্টস কমপ্লেক্সকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী ক্রীড়া পরিমণ্ডল গড়ে উঠলে শুধু পেশাদার খেলোয়াড়রাই নয়, সাধারণ মানুষ এবং নতুন প্রজন্মও উপকৃত হবে।
খেলাধুলার সঙ্গে সুস্থ সমাজের সম্পর্ক
লিয়েন্ডার পেজের বক্তব্যে উঠে এসেছে খেলাধুলার বৃহত্তর সামাজিক গুরুত্বের কথাও। তাঁর মতে, খেলা শুধুমাত্র পদক জেতা বা প্রতিযোগিতায় সাফল্য পাওয়ার বিষয় নয়। একটি সুস্থ ও সক্রিয় সমাজ গড়ে তুলতেও খেলাধুলার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।তাই শুধুমাত্র মাঠ বা কোর্ট তৈরি করলেই হবে না, সাধারণ মানুষের মধ্যে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর উদ্যোগও নিতে হবে। বিশেষ করে শিশু ও যুবসমাজকে নিয়মিত খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত করার উপর জোর দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।
টেনিস ও ব্যাডমিন্টন অ্যাকাডেমি তৈরির ভাবনা
বিধাননগরে ভবিষ্যতে টেনিস অ্যাকাডেমি, ব্যাডমিন্টন অ্যাকাডেমি-সহ বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণকেন্দ্র তৈরির ভাবনাও সামনে এসেছে। এমন প্রশিক্ষণ পরিকাঠামো গড়ে উঠলে প্রতিভাবান তরুণ-তরুণীরা বাড়ির কাছেই পেশাদার প্রশিক্ষণের সুযোগ পেতে পারেন।এর ফলে স্থানীয় স্তর থেকে প্রতিভা খুঁজে বের করে তাদের ভবিষ্যতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে তুলে আনার পথও আরও সহজ হতে পারে বলে মনে করছেন ক্রীড়াপ্রেমীরা।
উদ্যোগে সহযোগিতার আশ্বাস মন্ত্রীর
এই পরিকল্পনায় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা বিধাননগরের বিধায়ক শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলার প্রতি আরও বেশি উৎসাহিত করতে এবং বিধাননগরের ক্রীড়া পরিকাঠামোকে আরও উন্নত করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।পাশাপাশি, এই ধরনের বৃহৎ পরিকল্পনাকে বাস্তব রূপ দিতে স্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলিকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি সহযোগিতা মিললে বিধাননগরে একটি বড় ক্রীড়া পরিকাঠামো গড়ে তোলার কাজ আরও গতি পেতে পারে।
বদলে যেতে পারে জেলার ক্রীড়ার মানচিত্র
লিয়েন্ডার পেজের এই ভাবনা বাস্তবায়িত হলে শুধু বিধাননগর নয়, গোটা উত্তর ২৪ পরগনার ক্রীড়াক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন আসতে পারে। উন্নত প্রশিক্ষণকেন্দ্র, নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগ এবং আধুনিক ক্রীড়া পরিকাঠামো তৈরি হলে নতুন প্রতিভারা নিজেদের মেলে ধরার আরও বেশি সুযোগ পাবেন।ক্রীড়াপ্রেমী মহলের আশা, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে বিধাননগর দেশের অন্যতম পরিচিত স্পোর্টস সিটি হিসেবে নিজের জায়গা করে নিতে পারে।
বিধাননগরকে দেশের অন্যতম সেরা ‘স্পোর্টস সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলার ভাবনা সামনে আনলেন ভারতের প্রাক্তন টেনিস তারকা লিয়েন্ডার পেজ। তাঁর মতে, বিধাননগরে ইতিমধ্যেই ফুটবল মাঠ, টেনিস কোর্ট, ব্যাডমিন্টন কোর্ট ও সুইমিং পুলের মতো উন্নত ক্রীড়া পরিকাঠামো রয়েছে। সঠিক পরিকল্পনা ও উদ্যোগের মাধ্যমে এই পরিকাঠামোকে কাজে লাগিয়ে শহরকে দেশের অন্যতম বড় ক্রীড়াকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এই উদ্যোগে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী ও বিধাননগরের বিধায়ক শারদ্বত মুখোপাধ্যায়।










