বলিউডের প্রয়াত অভিনেত্রী শ্রীদেবীর অভিনয়জীবন নিয়ে যেমন দীর্ঘদিন চর্চা হয়েছে, তেমনই তাঁর মৃত্যুর পর সম্পত্তি নিয়েও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এবার তাঁর চেন্নাইয়ের একটি জমি ঘিরে দীর্ঘ আইনি বিবাদ নতুন মোড় নিয়েছে। প্রায় ৪.৭৭ একর জমির মালিকানা নিয়ে ওঠা বিরোধ গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। নিম্ন আদালত থেকে মাদ্রাজ হাইকোর্ট হয়ে বর্তমানে দেশের শীর্ষ আদালতে বিষয়টি বিচারাধীন। সুপ্রিম কোর্ট আপাতত জমিটির বর্তমান অবস্থায় কোনও পরিবর্তন না করার নির্দেশ দিয়েছে।
চেন্নাইয়ের কোথায় রয়েছে এই সম্পত্তি?
বিতর্কিত জমিটি চেন্নাইয়ের ইস্ট কোস্ট রোডের কাছে শোলিঙ্গানাল্লুর এলাকায় অবস্থিত। জমির পরিমাণ প্রায় ৪.৭৭ একর।প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৮ সালে শ্রীদেবী, তাঁর মা এবং বোন চারটি পৃথক বিক্রয় দলিলের মাধ্যমে এই সম্পত্তি কিনেছিলেন। পরবর্তীকালে জমিটি কাপুর পরিবারের সঙ্গে যুক্ত হয়।
২০১৮ সালে মৃত্যু শ্রীদেবীর, ২০২৩-এ রাজস্ব নথিতে বদল
২০১৮ সালে শ্রীদেবীর মৃত্যু হয়। এরপর ২০২৩ সালে জমি সংক্রান্ত রাজস্ব রেকর্ডে বনি কাপুর এবং তাঁদের দুই কন্যা জাহ্নবী কাপুর ও খুশি কাপুরের নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য পরিবর্তন আনা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।কাপুর পরিবারের ওই সম্পত্তিতে একটি ফার্মহাউস রয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।
হঠাৎ কোথা থেকে এল মালিকানার দাবি?
বিতর্কের সূত্রপাত এমসি শিবকামী, এমসি নটরাজন এবং তাঁদের মা চন্দ্রভানুর দাবিকে কেন্দ্র করে। তাঁরা চেঙ্গালপাট্টু দেওয়ানি আদালতের দ্বারস্থ হয়ে জমির উপর নিজেদের অধিকার দাবি করেন।তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁরা এমসি সম্বন্ধ মুদালিয়ারের বংশধর। তাঁদের দাবি, সম্বন্ধ মুদালিয়ার ১৯৪৩ সালে ওই জমি কিনেছিলেন। সেই ভিত্তিতে তাঁরা সম্পত্তিতে এক-পঞ্চমাংশ অংশের দাবি করেন এবং ১৯৮৮ সালে শ্রীদেবী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের করা জমি কেনার দলিল নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।অর্থাৎ, এক পক্ষ ১৯৮৮ সালের ক্রয়কে ভিত্তি করে মালিকানার কথা বলছে, অন্য পক্ষ তারও আগের ১৯৪৩ সালের ক্রয়ের সূত্র ধরে নিজেদের অধিকার দাবি করেছে।
মাদ্রাজ হাইকোর্টে কী হয়েছিল?
পরবর্তীতে বনি কাপুর, জাহ্নবী কাপুর এবং খুশি কাপুর ওই মামলার কার্যক্রমকে চ্যালেঞ্জ করে মাদ্রাজ হাইকোর্টে যান।২০২৬ সালের মে মাসে বিচারপতি টি.ভি. তামিলসেলভি তাঁদের আবেদন মঞ্জুর করেন এবং দেওয়ানি মামলাটি খারিজ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণের অন্যতম বিষয় ছিল সময়ের ব্যবধান। ১৯৮৮ সালের বিক্রয়কে প্রায় চার দশক পরে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল। সেই কারণে দাবিটি তামাদি আইনের (Limitation Law) দ্বারা বাধাগ্রস্ত বলে আদালত মত দেয়।
এরপর সুপ্রিম কোর্টে মামলা
মাদ্রাজ হাইকোর্টের সিদ্ধান্তের পর মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে যায়। আবেদনকারীদের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়, হাইকোর্টের প্রক্রিয়ায় কার্যত একটি ‘মিনি-ট্রায়াল’-এর মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং মামলাটি ট্রায়াল কোর্টেই চলতে দেওয়া উচিত ছিল।মামলায় উত্তরাধিকার সংক্রান্ত কিছু আইনি প্রশ্নও উত্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে এমন একটি বিবাহ থেকে জন্ম নেওয়া সন্তানদের আইনগত অধিকার নিয়ে যুক্তিও রয়েছে, যেটিকে আবেদনকারীরা আইনত অবৈধ বলে দাবি করেছেন।এই বিষয়গুলির আইনি ব্যাখ্যা ও প্রভাব নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মামলার পরবর্তী বিচারপ্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ কী?
বিষয়টি শুনেছে বিচারপতি কে. বিশ্বনাথন এবং বিচারপতি অরুণ পাল্লির বেঞ্চ।সুপ্রিম কোর্ট আপাতত সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সম্পত্তির বর্তমান স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে। অর্থাৎ মামলা চলাকালীন জমির বর্তমান অবস্থায় এমন কোনও পরিবর্তন করা যাবে না, যা আদালতের নির্দেশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়।
পাশাপাশি আদালত পক্ষগুলিকে মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ মেটানোর চেষ্টা করার পরামর্শ দিয়েছে।
পরবর্তী শুনানি কবে?
এই সম্পত্তি সংক্রান্ত মামলার পরবর্তী শুনানি ১৮ ডিসেম্বর ধার্য করা হয়েছে।অর্থাৎ আপাতত জমির মালিকানা নিয়ে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী শুনানি এবং পক্ষগুলির মধ্যে মধ্যস্থতার ফলের দিকে নজর থাকবে।
শ্রীদেবীর সম্পত্তির পরিমাণ কত?
শ্রীদেবীর মৃত্যুর পর তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ নিয়েও বিভিন্ন সময়ে নানা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সেই সব প্রতিবেদনে তাঁর মোট সম্পত্তির আনুমানিক মূল্য প্রায় ২৫০ কোটি টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি ব্র্যান্ড এনডোর্সমেন্ট এবং রয়্যালটি থেকেও তাঁর আয় ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। বনি কাপুর, জাহ্নবী কাপুর এবং খুশি কাপুরকে তাঁর সম্পদের উত্তরাধিকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।তবে এই প্রতিবেদনের মূল আইনি বিরোধটি নির্দিষ্টভাবে চেন্নাইয়ের প্রায় ৪.৭৭ একর জমিকে ঘিরে।
প্রয়াত অভিনেত্রী শ্রীদেবীর চেন্নাইয়ের একটি সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের আইনি বিবাদ এবার সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছেছে। শোলিঙ্গানাল্লুর এলাকায় ইস্ট কোস্ট রোডের কাছে প্রায় ৪.৭৭ একর জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ। ১৯৮৮ সালে শ্রীদেবী, তাঁর মা ও বোন চারটি পৃথক বিক্রয় দলিলের মাধ্যমে জমিটি কিনেছিলেন বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। পরবর্তী সময়ে ওই জমির মালিকানা নিয়ে অন্য একটি পরিবার দাবি তোলে। সুপ্রিম কোর্ট আপাতত সম্পত্তির স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে এবং পক্ষগুলিকে মধ্যস্থতার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করতে বলেছে।








