SSC ফল বিতর্ক: ফলপ্রকাশের পরপরই এসএসসি-কে ঘিরে ফের বিস্তর প্রশ্ন উঠে এসেছে, কারণ অভিযোগ অনুযায়ী একাধিক অযোগ্য প্রার্থী আবারও মেধাতালিকায় জায়গা পেয়েছেন। এমনকি কিছু অযোগ্য প্রার্থীকে ইন্টারভিউতেও ডাকা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। মামলাকারীদের দাবি, সুপ্রিম কোর্ট আগেই নির্দেশ দিয়েছিল—অযোগ্যরা কোনওভাবেই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন না। কিন্তু তালিকা প্রকাশের পর দেখা যাচ্ছে উল্টো চিত্র। এই অভিযোগ নিয়ে সোমবার বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চে মামলা ওঠে এবং চলতি সপ্তাহেই শুনানির সম্ভাবনা।

ফলপ্রকাশের পরই প্রশ্নের পাহাড়
এসএসসি-র একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণির ফল সামনে আসতেই প্রার্থীদের একাংশ তালিকা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের দাবি, অযোগ্যদের তালিকায় থাকা কয়েকজন প্রার্থী আবারও মূল তালিকায় উঠে এসেছেন।সুপ্রিম কোর্টের পূর্ব নির্দেশ অনুযায়ী অযোগ্য প্রার্থীদের সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু বাস্তবে তাঁদেরই নাম প্রকাশিত তালিকায় দেখা যাচ্ছে—এমনটাই অভিযোগ।
‘ক্লার্ক’ থেকে ‘শিক্ষক’ তালিকায়—নতুন বিস্ময়
আবারও সামনে এসেছে একাধিক অসঙ্গতি। অভিযোগ, কিছু ক্লার্ক পদের আবেদনকারীর নাম শিক্ষক পদের তালিকায় উঠে এসেছে। এতে নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে আরও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।সবচেয়ে আলোচ্য বিষয় নীতীশ রঞ্জন প্রামাণিককে ঘিরে—যাঁর নাম অযোগ্যদের তালিকায় থাকলেও তিনি যোগ্য প্রার্থীদের তালিকায় উঠে এসেছেন এবং ইন্টারভিউ কলও পেয়েছেন।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মানা হল কি?
এসএসসি-র দাবি, বিশেষভাবে সক্ষম প্রার্থীরা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী আবেদন করতে পারেন। নীতীশের পরিবারও এমনই দাবি জানাচ্ছে।অন্যদিকে, মামলাকারীদের বক্তব্য—যাঁদের নাম “দাগীদের” তালিকায়, তাঁদের পরীক্ষায় বসার অনুমতি সুপ্রিম কোর্টের আদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল না, ফলে নিয়োগপ্রক্রিয়া প্রশ্নের মুখে।

কাট-অফ ও ডাকপ্রাপকদের নিয়েও ক্ষোভ
প্রার্থীদের ক্ষোভ কাট-অফ নিয়েও। অভিযোগ, কাট-অফ ৭০ শতাংশের উপরে হলেও অনেক পরীক্ষার্থী পূর্ণ ৬০ নম্বর পেয়েও ডাক পাননি।মোট ২০ হাজারের কিছু বেশি প্রার্থী ইন্টারভিউ কল পেয়েছেন, কিন্তু যোগ্য চাকরিহারা নেতৃত্বের অনেকেই বাদ পড়েছেন—যা নিয়ে তাঁদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
হাইকোর্টে দুটি পৃথক মামলা গ্রহণ
বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চ দুইটি মামলা গ্রহণ করেছেন—অযোগ্যদের তালিকা ও মেধাতালিকার অসঙ্গতিপার্ট-টাইম শিক্ষকদের অভিজ্ঞতার নম্বর না দেওয়ার অভিযোগএক পার্ট-টাইম শিক্ষক অভিযোগ করেছেন, এসএসসি জানিয়েছিল অভিজ্ঞতার নম্বর দেওয়া হবে না, অথচ তাঁর সহকর্মী অনেকেই সেই নম্বর পেয়েছেন। এই মামলার শুনানি বুধবার।
এসএসসি-র ২০২৫ সালের একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণির ফল প্রকাশ হতেই নতুন অভিযোগের ঝড় উঠেছে। মামলাকারীদের অভিযোগ, অযোগ্য ঘোষিত একাধিক প্রার্থীর নাম তালিকায় রয়েছে, এমনকি তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে ইন্টারভিউর জন্যও ডাকা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে হাইকোর্টে মামলা দায়ের হয়েছে।








