ইতিহাস শুধু বইয়ের পাতায় নয়, কখনও কখনও তা লুকিয়ে থাকে পুরনো বাড়ির দেয়ালেও। ঠিক তেমনই এক নীরব সাক্ষী পুরুলিয়ার নীলকন্ঠ নিবাস। আজ থেকে প্রায় ৮৭ বছর আগে, ১৯৩৯ সালের ৯ ডিসেম্বর, এই বাড়িতেই গোপনে রাত কাটিয়েছিলেন দেশনায়ক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। তাঁর ১২৯তম জন্মজয়ন্তীতে সেই অজানা ইতিহাস ফের প্রকাশ্যে এল।
নীলকন্ঠ নিবাস: পুরুলিয়ার বুকে লুকিয়ে থাকা ইতিহাস
পুরুলিয়া শহরের এই ঐতিহ্যবাহী নীলকন্ঠ নিবাস এক সময় ছিল পুরুলিয়া পুরসভার তৎকালীন পুরপ্রধান ও বিশিষ্ট আইনজীবী নীলকন্ঠ চট্টোপাধ্যায়ের বাসভবন। তাঁর অনুরোধেই ১৯৩৯ সালের ডিসেম্বর মাসে এখানে রাত্রিযাপন করেছিলেন নেতাজি। বাড়ির আনাচে-কানাচে আজও ছড়িয়ে রয়েছে সেই স্মৃতির চিহ্ন।
১৯৩৯ সালের সেই গোপন রাত
স্বাধীনতা আন্দোলনের উত্তাল সময়। ব্রিটিশ শাসনের নজর এড়িয়ে বিভিন্ন জায়গায় সফর করছিলেন নেতাজি। সেই সময় পুরুলিয়ায় এসে নীলকন্ঠ নিবাসে রাত কাটান তিনি। স্থানীয়দের মতে, এই বাড়িটি ছিল নেতাজির জন্য এক নিরাপদ আশ্রয়, যা আজ ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ দলিল।
জন্মজয়ন্তীতে উৎসবের আবহ নীলকন্ঠ নিবাসে
২০২৬ সালের ২৩ জানুয়ারি, নেতাজির ১২৯তম জন্মজয়ন্তীতে নীলকন্ঠ নিবাসে ছিল উৎসবের মেজাজ। নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা ও স্মৃতিচারণে দিনটি উদযাপিত হয়। সকাল থেকেই বহু মানুষ ভিড় করেন এই ঐতিহাসিক বাড়িতে।
পরিবারের গর্ব, জেলার সম্পদ এই স্মৃতি
নীলকন্ঠ চট্টোপাধ্যায়ের প্রপৌত্র রাজর্ষি চট্টোপাধ্যায়ের কথায়,
“এই দিনটা আমাদের কাছে ভীষণ গর্বের। আমাদের বাড়িতে নেতাজি রাত্রিযাপন করেছিলেন—এটা শুধু পারিবারিক নয়, গোটা পুরুলিয়ার ইতিহাস। এই স্মৃতি আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব।”
সংগ্রহশালার দাবি, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বার্তা
অনুষ্ঠানে উপস্থিত পুরুলিয়া পুরসভার প্রাক্তন পুরপ্রধান নবেন্দু মহালি বলেন, নীলকন্ঠ নিবাস মানুষের আবেগ। তিনি মনে করেন, এখানে নেতাজিকে নিয়ে একটি স্থায়ী সংগ্রহশালা গড়ে উঠলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নেতাজির অবদান আরও কাছ থেকে জানতে পারবে।
শঙ্খধ্বনি-উলুধ্বনিতে শ্রদ্ধা নেতাজিকে
জন্মজয়ন্তীর দিনে উলুধ্বনি ও শঙ্খধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা নীলকন্ঠ নিবাস। সদস্যরা আপ্রাণ চেষ্টা করছেন নেতাজির স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে। শহরবাসীর কাছে এই দিনটি শুধুই উৎসব নয়, গর্বেরও।
পুরুলিয়ার ঐতিহাসিক নীলকন্ঠ নিবাসে ১৯৩৯ সালের এক শীতের রাতে রাত্রিযাপন করেছিলেন দেশনায়ক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। নেতাজির ১২৯তম জন্মজয়ন্তীতে সেই গোপন স্মৃতি ও ইতিহাস ফের আলোচনার কেন্দ্রে।








