Saraswati Temple: দেশে হাতে গোনা, রাজ্যে দ্বিতীয়—পূর্ব মেদিনীপুরের একমাত্র স্থায়ী সরস্বতী মন্দিরে ৩৬৫ দিনই পুজো ও হাতে খড়ি

পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি শহরের ১০০ বছরের প্রাচীন সরস্বতী মন্দির পশ্চিমবঙ্গের মাত্র দু’টি স্থায়ী সরস্বতী মন্দিরের একটি। এখানে সারা বছর চলে পুজো ও হাতে খড়ি।

সরস্বতী পুজো মানেই বছরে একদিন—এই ধারণাকে ভেঙে দিয়েছে পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি শহরের সরস্বতীতলা। এখানে বসন্ত পঞ্চমীই শুধু নয়, বছরের প্রতিটি দিনই বাগদেবীর আরাধনা চলে নিয়ম মেনে। ১০০ বছরেরও বেশি পুরনো এই স্থায়ী সরস্বতী মন্দির আজ শুধু ধর্মীয় স্থান নয়, শিক্ষার সঙ্গে আবেগের এক অটুট বন্ধন।

Saraswati Temple: দেশে হাতে গোনা, রাজ্যে দ্বিতীয়—পূর্ব মেদিনীপুরের একমাত্র স্থায়ী সরস্বতী মন্দিরে ৩৬৫ দিনই পুজো ও হাতে খড়ি
কাঁথির বুকে বিরল এক সরস্বতী মন্দির

কাঁথি শহরের মাঝখানেই, কাঁথি আদালত থেকে অল্প দূরত্বে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক সরস্বতী মন্দির। দেশের হাতে গোনা কয়েকটি স্থায়ী সরস্বতী মন্দিরের মধ্যে এটি অন্যতম। পশ্চিমবঙ্গের মাত্র দু’টি সরস্বতী মন্দিরের একটি হওয়ায় এর গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়।

প্রতিষ্ঠার ইতিহাস: বাংলা ১৩৪৬ সাল থেকে আজ পর্যন্ত

বাংলা ১৩৪৬ সালে এই মন্দিরের সূচনা। স্বাধীনতার পরে তপন মাইতি নামে এক আইনজীবী পারিবারিক সূত্রে জমিটি পান। প্রথমে ক্লাবের মতো উদ্যোগে বসন্ত পঞ্চমীতে পুজো হলেও পরে কাঁথি আদালতের আইনজীবীরাই স্থায়ী মন্দির নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন। সেখান থেকেই গড়ে ওঠে এই সরস্বতী মন্দির।

Saraswati Temple: দেশে হাতে গোনা, রাজ্যে দ্বিতীয়—পূর্ব মেদিনীপুরের একমাত্র স্থায়ী সরস্বতী মন্দিরে ৩৬৫ দিনই পুজো ও হাতে খড়ি

শ্বেতপাথরের মূর্তি ও নিয়মিত পুজো

মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত রয়েছে শ্বেতপাথরের সরস্বতী মূর্তি। সঙ্গে রয়েছেন লক্ষ্মী ও গণেশ। প্রতিদিন সকাল আটটা থেকে দেবীর পুজো শুরু হয় এবং সন্ধ্যায় নিয়মিত আরতি অনুষ্ঠিত হয়। বছরের ৩৬৫ দিনই পুজো হওয়ায় ভক্তদের ভিড় লেগেই থাকে।

বছরে নয়, প্রতিদিন হাতে খড়ি

এই মন্দিরের অন্যতম বিশেষত্ব হল—সারা বছর হাতে খড়ির প্রথা। বর্তমান সময়ে তিন বছর বয়সেই শিশুদের স্কুলে ভর্তি করানো হয়। তাই অনেক অভিভাবক বসন্ত পঞ্চমীর অপেক্ষা না করে যেকোনো দিন মন্দিরে এসে সন্তানের হাতে খড়ি করান। ফলে প্রতিদিন গড়ে তিন থেকে চারটি শিশুর হাতে খড়ি দেওয়া হয়।

পুরোহিতের কথায় মন্দিরের রোজকার ছবি

মন্দিরের পুরোহিত বাপি পণ্ডা জানান,“প্রতিদিন সকাল আটটা থেকে পুজো হয়, সন্ধ্যায় আরতি হয়। এখন অভিভাবকরা দেরি করতে চান না, তাই সারা বছরই হাতে খড়ির ব্যবস্থা থাকে। প্রতিদিনই কয়েকজন শিশু আসে।”

Saraswati Temple: দেশে হাতে গোনা, রাজ্যে দ্বিতীয়—পূর্ব মেদিনীপুরের একমাত্র স্থায়ী সরস্বতী মন্দিরে ৩৬৫ দিনই পুজো ও হাতে খড়ি
বসন্ত পঞ্চমীতে আলাদা আড়ম্বর

যদিও সারা বছর পুজো হয়, তবুও বসন্ত পঞ্চমীর দিনে বিশেষ আয়োজন থাকে। মন্দিরের বাইরে বড় প্যান্ডেল তৈরি হয়। হলুদ গাঁদা ও রাঙা পলাশে সাজানো হয় শ্বেতপাথরের দেবী মূর্তি। দোয়াত, কলম, স্লেট, পেন্সিল—সবকিছুই থাকে নিয়ম মেনে। অঞ্জলির জন্য ভোর থেকেই লম্বা লাইন পড়ে।

বিশেষ ভোগ ও মানুষের আবেগ

বসন্ত পঞ্চমীতে খিচুড়ি, আলুর দম ও পায়েসের বিশেষ ভোগ নিবেদন করা হয়। আদালতের বিচারক থেকে আইনজীবী, স্কুল-কলেজের পড়ুয়া—সবাই এই দিন মন্দিরে হাজির হন। নিয়মিত পুজো ও হাতে খড়ির প্রথাই এই মন্দিরকে জনপ্রিয় করে তুলেছে।

Saraswati Temple: দেশে হাতে গোনা, রাজ্যে দ্বিতীয়—পূর্ব মেদিনীপুরের একমাত্র স্থায়ী সরস্বতী মন্দিরে ৩৬৫ দিনই পুজো ও হাতে খড়ি
পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি শহরে অবস্থিত ১০০ বছরের প্রাচীন সরস্বতী মন্দিরটি পশ্চিমবঙ্গের মাত্র দু’টি স্থায়ী সরস্বতী মন্দিরের একটি। এখানে প্রতিদিন দু’বেলা পুজো হয়, সারা বছর চলে শিশুদের হাতে খড়ির প্রথা।

Leave a comment