Subhas Chandra Bose: সালটা ১৯৪০, এপ্রিলের দাবদাহ! বাঁকুড়ার মাটিতে নেতাজির পদচিহ্ন—জন্মজয়ন্তীতে ফিরে দেখা এক বিস্মৃত ইতিহাস

Subhas Chandra Bose: প্রখর গরমে ১৯৪০ সালের এপ্রিল মাসে বাঁকুড়ায় এসেছিলেন নেতাজি। গঙ্গাজলঘাটি থেকে অমরকানন—জানুন তাঁর সেই বিস্মৃত সফরের কাহিনি।

ভারত মাতার শ্রেষ্ঠ সন্তানদের তালিকায় যাঁর নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা, তিনি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। আপোষহীন সংগ্রাম, তেজস্বী নেতৃত্ব আর অদম্য দেশপ্রেমে ব্রিটিশ শাসনের ভিত কাঁপিয়েছিলেন তিনি। এমনই এক উত্তাল সময়ে, ১৯৪০ সালের প্রখর গ্রীষ্মে বাঁকুড়ার মাটিতে পা রেখেছিলেন নেতাজি—যা আজও জেলার ইতিহাসে এক স্মরণীয় অধ্যায়।

Subhas Chandra Bose: সালটা ১৯৪০, এপ্রিলের দাবদাহ! বাঁকুড়ার মাটিতে নেতাজির পদচিহ্ন—জন্মজয়ন্তীতে ফিরে দেখা এক বিস্মৃত ইতিহাস
১৯৪০ সালের এপ্রিল: গঙ্গাজলঘাটিতে নেতাজির সভা

ইতিহাস বলছে, সালটা ছিল ১৯৪০, তারিখ ২৮ এপ্রিল। তীব্র দাবদাহ উপেক্ষা করে নেতাজি পৌঁছেছিলেন বাঁকুড়া জেলার গঙ্গাজলঘাটি এলাকায়। সেখানে তিনি এক গুরুত্বপূর্ণ জনসভায় অংশ নেন। এই সফরের উল্লেখ পাওয়া যায় দীপক কুমার অগ্নিহোত্রীর লেখা গ্রন্থ ‘গোবিন্দ দর্পণ’-এ, যা বাঁকুড়ার স্বাধীনতা আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ দলিল।

দেশবন্ধু বিদ্যালয়ে ঐতিহাসিক বক্তব্য

গ্রন্থ অনুযায়ী, ওই দিন বেলা প্রায় ১১টা নাগাদ নেতাজি পরিদর্শন করেন দেশবন্ধু বিদ্যালয়। সেখানে তিনি দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের স্মৃতিরক্ষা ও বিদ্যালয়ের পুনর্গঠন নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য রাখেন। তাঁর কথায় উঠে আসে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দেশগঠনের স্বপ্ন এবং দেশবন্ধুর আদর্শকে বাস্তব রূপ দেওয়ার প্রত্যয়—যা আজও ইতিহাসবিদদের কাছে মূল্যবান তথ্য।

Subhas Chandra Bose: সালটা ১৯৪০, এপ্রিলের দাবদাহ! বাঁকুড়ার মাটিতে নেতাজির পদচিহ্ন—জন্মজয়ন্তীতে ফিরে দেখা এক বিস্মৃত ইতিহাস
বাঁকুড়া সফর শুধু এক জায়গায় সীমাবদ্ধ ছিল না

নেতাজির বাঁকুড়া সফর কেবল গঙ্গাজলঘাটিতেই থেমে থাকেনি। তিনি অমরকানন, দেশুরিয়া-সহ জেলার একাধিক এলাকায় যান। সেই সময়ে বাংলা জুড়ে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন ক্রমশ তীব্র হচ্ছিল। বাঁকুড়ার নরমপন্থী বিপ্লবী নেতা গোবিন্দপ্রসাদ সিংহের সঙ্গে নেতাজির গভীর সখ্যতা ছিল, যা জেলার রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বিস্মৃত অধ্যায়ে বাঁকুড়ার অবদান

স্বাধীনতা সংগ্রামে বাঁকুড়ার ভূমিকা বহুক্ষেত্রেই মূল ইতিহাসে উপেক্ষিত। কিন্তু নেতাজির সফর প্রমাণ করে, জাতীয় আন্দোলনের মানচিত্রে এই জেলার গুরুত্ব কম ছিল না। নেতাজির দৃঢ় কণ্ঠ, তেজস্বী আদর্শ ও সাহসী উপস্থিতি সেদিন বাঁকুড়াবাসীর মনে নতুন করে দেশপ্রেমের আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিল।

Subhas Chandra Bose: সালটা ১৯৪০, এপ্রিলের দাবদাহ! বাঁকুড়ার মাটিতে নেতাজির পদচিহ্ন—জন্মজয়ন্তীতে ফিরে দেখা এক বিস্মৃত ইতিহাস
আজও স্মৃতিতে উজ্জ্বল নেতাজি

আজও বাঁকুড়ায় গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে। তাঁর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে প্রতিবছরই আলোচনা সভা, স্মরণানুষ্ঠান ও নানা উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা হয় সেই গৌরবময় ইতিহাস। এই স্মৃতিচর্চাই জাতীয় চেতনাকে আরও দৃঢ় করে তোলে।

Subhas Chandra Bose: সালটা ১৯৪০, এপ্রিলের দাবদাহ! বাঁকুড়ার মাটিতে নেতাজির পদচিহ্ন—জন্মজয়ন্তীতে ফিরে দেখা এক বিস্মৃত ইতিহাস
স্বাধীনতা আন্দোলনের উত্তাল সময়ে একবার বাঁকুড়ার মাটিতে পা রেখেছিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। ১৯৪০ সালের এপ্রিল মাসে গঙ্গাজলঘাটি থেকে অমরকানন—জেলার বিভিন্ন প্রান্তে তাঁর সফর আজও ইতিহাসের পাতায় গর্বের অধ্যায়। নেতাজির জন্মজয়ন্তীতে উঠে এল সেই প্রায় অজানা কাহিনি।

Leave a comment