সুলতানপুরে ঠিকাদারি লেনদেনে প্রতারণা ও জোরপূর্বক অর্থ আদায়ের অভিযোগ, আদালতের নির্দেশে তদন্ত শুরু

সুলতানপুরে এক অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ঠিকাদারি-সংক্রান্ত লেনদেনে প্রতারণা, জোরপূর্বক অর্থ আদায়, হুমকি এবং স্ট্যাম্প পেপারে জোর করে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ করেছেন। আদালতের নির্দেশে পুলিশ মামলা নথিভুক্ত করে নথিপত্র, ব্যাংক লেনদেন ও অন্যান্য প্রমাণ খতিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।
সুলতানপুরে ঠিকাদারি লেনদেনে প্রতারণা ও জোরপূর্বক অর্থ আদায়ের অভিযোগ, আদালতের নির্দেশে তদন্ত শুরু
Photo Credit / Attribution: Google

সুলতানপুরে এক অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ঠিকাদারি-সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনে প্রতারণা ও জোরপূর্বক অর্থ আদায়ের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। অভিযোগকারীর দাবি, ৯.৫ লক্ষ টাকার একটি চুক্তির প্রলোভন দেখিয়ে তাঁর কাছ থেকে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা আদায় করা হয়েছে। অর্থ ফেরত চাইলে অভিযুক্তরা অস্ত্র দেখিয়ে হুমকি দেয় এবং স্ট্যাম্প পেপারে জোর করে স্বাক্ষর করিয়ে নেয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

স্থানীয় পুলিশ পদক্ষেপ না নেওয়ায় অভিযোগকারী আদালতের দ্বারস্থ হন। পরে আদালতের নির্দেশে পুলিশ সংশ্লিষ্ট অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু করেছে।

অভিযোগকারীর দাবি, কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে একটি চুক্তিতে বিনিয়োগ করে ভালো মুনাফার আশ্বাস দিয়েছিলেন। সেই বিশ্বাসে তিনি বিভিন্ন সময়ে অভিযুক্তদের কাছে বড় অঙ্কের অর্থ দেন। তাঁর অভিযোগ, ধাপে ধাপে মোট অর্থের পরিমাণ ২৫ লক্ষ টাকায় পৌঁছে যায়, যদিও মূল চুক্তির মূল্য ৯.৫ লক্ষ টাকা বলা হয়েছিল।

অভিযোগকারীর বক্তব্য অনুযায়ী, লেনদেন নিয়ে সন্দেহ তৈরি হওয়ার পর তিনি নিজের অর্থ ফেরত চাইতে শুরু করলে অভিযুক্তদের আচরণ বদলে যায়। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁকে হুমকি দেওয়া হয় এবং এক পর্যায়ে অস্ত্র দেখিয়ে চাপ সৃষ্টি করা হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে তাঁর দাবিকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে স্ট্যাম্প পেপারে জোর করে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।

মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় আদালত পুলিশকে এফআইআর নথিভুক্ত করে তদন্তের নির্দেশ দেয়। আদালতের নির্দেশের পর মামলা দায়ের হওয়ায় তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়েছে। বর্তমানে পুলিশ অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে নথিপত্র, ব্যাংক লেনদেন এবং অন্যান্য প্রমাণ খতিয়ে দেখছে।

উত্তর প্রদেশ পুলিশের কর্মকর্তাদের বক্তব্য, মামলায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য নথিভুক্ত করা হবে। অভিযোগকারীর উত্থাপিত অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হবে এবং তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের মামলায় আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত নথি, ব্যাংক রেকর্ড, স্ট্যাম্প পেপার এবং সাক্ষীদের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তদন্ত চলাকালে এসব বিষয় বিস্তারিতভাবে যাচাই করা হয়।

বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন। আদালতের নির্দেশে দায়ের হওয়া এফআইআরের পর পুলিশ প্রমাণ সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তদন্ত সম্পন্ন হওয়া এবং অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পরই মামলার প্রকৃত পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে। এদিকে অভিযোগকারী তাঁর অর্থ ফেরত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

Leave a comment