সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করেছে যে হিন্দু, শিখ এবং বৌদ্ধ ধর্মের বাইরে অন্য কোনো ধর্ম অনুসরণকারী ব্যক্তি জন্মসূত্রে প্রাপ্ত তফসিলি জাতি (এসসি) মর্যাদা এবং সংশ্লিষ্ট সুবিধার অধিকারী নন। আদালত অন্ধ্র প্রদেশ হাই কোর্টের সেই আদেশ বহাল রেখেছে, যেখানে এক খ্রিস্টান পাদরির দায়ের করা এসসি/এসটি আইনের অধীন এফআইআর বাতিল করা হয়েছিল। এই রায়ে আদালত পুনরায় নিশ্চিত করেছে যে অন্য ধর্মে ধর্মান্তরিত হলে ব্যক্তি এসসি মর্যাদা হারান এবং তিনি সাংবিধানিক সংরক্ষণ বা আইনগত সুরক্ষার সুবিধা দাবি করতে পারেন না।
মামলার প্রেক্ষাপট
অন্ধ্র প্রদেশের পিত্তলবানিপালেমের বাসিন্দা চিন্থাদা আনন্দ নিজেকে তফসিলি জাতির সদস্য দাবি করে একটি এফআইআর দায়ের করেন। অভিযোগ ছিল, কিছু ব্যক্তি তাকে মারধর করেছে এবং জাতিসূচক শব্দ ব্যবহার করে অপমান করেছে। এফআইআরটি এসসি/এসটি আইনের অধীনে নথিভুক্ত হয়।
অভিযুক্ত পক্ষ এই এফআইআর চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে আবেদন করে এবং জানায় যে অভিযোগকারী খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করেছেন এবং গত দশ বছর ধরে পাদরি হিসেবে কাজ করছেন। ফলে তিনি আর তফসিলি জাতির অন্তর্ভুক্ত নন। ৩০ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে হাই কোর্ট এই যুক্তি গ্রহণ করে পাদরির দায়ের করা এফআইআর বাতিল করে।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ
বিচারপতি প্রশান্ত মিশ্র এবং বিচারপতি এন ভি অঞ্জারিয়া সমন্বয়ে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ সংবিধানের তফসিলি জাতি আদেশ, ১৯৫০-এর উল্লেখ করে জানায় যে এই আদেশের ধারা ৩ অনুযায়ী হিন্দু, শিখ এবং বৌদ্ধ ধর্মের বাইরে অন্য কোনো ধর্মে ধর্মান্তরিত হলে ব্যক্তি এসসি মর্যাদা হারান। আদালত বলে, এমন ব্যক্তি কোনো সাংবিধানিক সুবিধা, সংরক্ষণ বা আইনগত সুরক্ষা পাওয়ার অধিকারী নন।
আদালত অভিযোগকারীর সেই যুক্তিও খারিজ করে দেয় যে তার কাছে তহসিলদার কর্তৃক প্রদত্ত একটি জাতি শংসাপত্র রয়েছে, যেখানে তাকে তফসিলি জাতি ‘মাডিগা’-র সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালত পর্যবেক্ষণ করে যে এই শংসাপত্র ইতোমধ্যেই বাতিল হওয়া উচিত ছিল এবং এই শংসাপত্রের ভিত্তিতে এসসি/এসটি আইনের অধীনে সুরক্ষা দাবি করা যায় না।
রায়ের তাৎপর্য
রায়ে আদালত স্পষ্ট করেছে যে জন্মসূত্রে প্রাপ্ত তফসিলি জাতির মর্যাদা কেবল সংবিধানে স্বীকৃত ধর্মগুলির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। অন্য কোনো ধর্মে ধর্মান্তরিত ব্যক্তি এসসি মর্যাদা এবং সংশ্লিষ্ট সুবিধার দাবি করতে পারবেন না। আদালত আরও জানায় যে ভুলভাবে জাতি শংসাপত্র ব্যবহার করে এসসি/এসটি আইনের অধীনে সুরক্ষা দাবি করা গ্রহণযোগ্য নয়।











