রাজস্থানের ২০২১ সালের সাব-ইন্সপেক্টর (SI) নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন আইনি ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। Supreme Court of India-এর সাম্প্রতিক রায়ের পর পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করা হয়েছে, যার ফলে নির্বাচিত ৮৫৯ জন প্রার্থীর চাকরি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
জয়পুরে প্রকাশিত এই ঘটনাক্রমে আদালত নির্বাচিত প্রার্থীদের স্পেশাল লিভ পিটিশন (SLP) খারিজ করে Rajasthan High Court-এর রায় বহাল রাখে। শুনানির সময় আদালত মন্তব্য করে, কোনও প্রক্রিয়ায় সামান্য অনিয়ম থাকলেও সেটিকে আলাদা করে শুদ্ধ করা সম্ভব নয়। এই পর্যবেক্ষণকে মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ এর মাধ্যমে আদালত পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াকেই সন্দেহজনক হিসেবে বিবেচনা করে বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে।
নিয়োগ বাতিলের পর নির্বাচিত প্রার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। একাধিক প্রার্থীর দাবি, তারা সৎভাবে ও পরিশ্রমের মাধ্যমে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন, কিন্তু এখন অন্যদের অনিয়মের কারণে তাঁদেরও ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। কয়েকজন প্রার্থী নিজেদের নির্দোষ প্রমাণের জন্য কঠোর তদন্তের দাবিও জানিয়েছেন।

তাঁদের বক্তব্য, প্রয়োজন হলে তাঁদের নার্কো টেস্ট, পলিগ্রাফ টেস্ট অথবা লাই ডিটেক্টর টেস্ট করানো হোক, যাতে প্রমাণ করা যায় যে তাঁরা কোনও অনিয়ম বা অসদুপায় অবলম্বন করেননি। তাঁদের আশঙ্কা, চাকরি হারালে শুধু তাঁদের কর্মজীবন নয়, পরিবারের আর্থিক অবস্থাও প্রভাবিত হবে।
অন্যদিকে, যেসব প্রার্থী দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে আসছিলেন, তাঁরা এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, এই সিদ্ধান্ত বিচারব্যবস্থার পক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এবং এর ফলে ভবিষ্যতের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়বে। মামলার আবেদনকারীদের অভিযোগ ছিল, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং অন্যান্য অনিয়মের কারণে বহু যোগ্য প্রার্থী নির্বাচিত হতে পারেননি। তাঁদের মতে, এখন রাজ্য সরকারের উচিত দ্রুত নতুন ও নিরপেক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা।
এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বৃহৎ পরিসরে অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে। তদন্তে জানা যায়, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছিল এবং একাধিক প্রার্থী অসদুপায়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ঘটনার তদন্তের জন্য রাজ্য পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়। এখন পর্যন্ত ১৩০ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাঁদের মধ্যে প্রায় ৭০ জন নির্বাচিত প্রার্থী রয়েছেন।
এছাড়া Rajasthan Public Service Commission (RPSC)-এর দুই প্রাক্তন সদস্যও এই মামলায় জেলে গিয়েছেন। এর ফলে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।








